Published : 18 Mar 2026, 03:34 PM
মাসব্যাপী পরীক্ষানিরীক্ষা এবং দীর্ঘ কয়েক বছরের উন্নয়ন ও কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের পর অবশেষে সুপার হরনেট যুদ্ধবিমানে এক স্মার্ট অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কেবল ৫০ দিনের মধ্যে প্রোটোটাইপ থেকে চূড়ান্ত ইউনিটে রূপান্তরের যে মাইলফলক ‘রেথিওন স্টর্মব্রেকার’ নামের স্মার্ট অস্ত্রটি পেয়েছিল তার পরপরই এ ঘোষণাটি এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
এ স্মার্ট অস্ত্রটি সঙ্গে থাকায় এখন থেকে নৌবাহিনীর ‘এফ/এ-১৮-ই/এফ’ নামের সুপার হরনেট স্কোয়াড্রন দিন হোক বা রাত চরম প্রতিকূল আবহাওয়া বা যে কোনও পরিস্থিতিতেই স্থির ও চলন্ত উভয় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারবে।
সুপার হরনেট যুদ্ধবিমানের বর্তমান আক্রমণ সক্ষমতার বড় উন্নতি এই স্মার্ট অস্ত্র। কারণ, অতীতে প্রতিকূল আবহাওয়ায় লক্ষ্যভেদে এসব প্লেনকে বেশ বেগ পেতে হত।
তবে স্টর্মব্রেকার-এর আরও কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এ অস্ত্রটি ৪৫ মাইলেরও বেশি দূর থেকে আঘাত হানতে পারে। ফলে পাইলটদের শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা সীমানার ভেতরে বেশিক্ষণ অবস্থানের ঝুঁকি নিতে হবে না।
দ্বিতীয়ত, এর আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় সুপার হরনেট প্লেন আগের চেয়ে বেশি সংখ্যাক এই অস্ত্র বহন করতে পারবে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য এখন আকাশে কম সংখ্যক যুদ্ধবিমান পাঠালেই চলবে।
স্টর্মব্রেকার কীভাবে কাজ করে? খরচ কত?
২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো সুপার হরনেট যুদ্ধবিমানে স্টর্মব্রেকার ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তখন থেকেই বোমাটি কার্যকর পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, এরইমধ্যে বোমাটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের জন্য অনুমোদিত হয়েছে এবং এফ-৩৫ ফাইটার জেটের তিনটি সংস্করণের জন্যই একে উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
এ অস্ত্রের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর তিন স্তরের নির্দেশনা ব্যবস্থা, যা লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে ও তা অনুসরণে তিনটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যেমন, মিলিমিটার ওয়েভ রেডার, ইমেজিং ইনফ্রারেড ও সেমিঅ্যাক্টিভ লেজার গাইডেন্স।
এ তিন পদ্ধতি থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য সাধারণ এক প্রসেসিং সিস্টেমে জমা হয়। ফলে দিন বা রাত যেকোনো সময় ও দৃষ্টিসীমা যতই কম হোক না কেন তা ভূমি বা সমুদ্রের যে কোনো স্থির বা চলন্ত লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য এ উন্নত প্রযুক্তির পেছনে কত খরচ হচ্ছে তার ধারণা পেতে ২০২৩ সালের একটি অর্ডারের দিকে তাকানো যেতে পারে। ওই সময় ৩২ কোটি ডলার দিয়ে দেড় হাজারটি স্টর্মব্রেকার কেনার অর্ডার দিয়েছিল সংস্থাটি।
সেই হিসাবে প্রতিটি বোমার দাম পড়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ডলারের কিছু বেশি। প্রসঙ্গগত, এ অর্থ একজন গড়পড়তা আমেরিকান নাগরিকের বার্ষিক আয়ের প্রায় তিনগুণ।
এত খরচের পরও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি প্রয়োজনীয়। কারণ, শত্রুপক্ষ অনেক সময় খারাপ আবহাওয়া বা দৃষ্টির আড়াল হওয়ার সুযোগ নিয়ে হামলা থেকে বেঁচে যেত।
সব ধরনের আবহাওয়ায় কাজের এ সক্ষমতা পাওয়ায় সুপার হরনেট যুদ্ধবিমানের সেই সীমাবদ্ধতা দূর হল। এখন সরাসরি দেখে লক্ষ্যভেদে সমস্যা হলেও স্টর্মব্রেকার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।