১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মার্কিন এআই প্রযুক্তি চুরি, ৩ চীনা কোম্পানিকে দুষল অ্যানথ্রপিক

গেল মাসে চীনা কোম্পানি ডিপসিকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল মার্কিন আরেক শীর্ষ এআই কোম্পানি ও চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই।

মার্কিন এআই প্রযুক্তি চুরি, ৩ চীনা কোম্পানিকে দুষল অ্যানথ্রপিক
বিষয়টিকে ‘শৈল্পিক পর্যায়ের মেধাস্বত্ব চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে অ্যানথ্রপিক। ছবি: অ্যানথ্রপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2026, 05:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

মার্কিন এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক অভিযোগ করেছে, তিনটি চীনা কোম্পানি তাদের তৈরি উন্নত এআই মডেল ক্লড থেকে বড় পরিসরে মেধাস্বত্ব ও প্রযুক্তি চুরি করেছে।

সোমবার কোম্পানিটি বলেছে, তিনটি চীনা এআই কোম্পানিই তাদের ক্লড চ্যাটবট থেকে তথ্য ও সক্ষমতা চুরির চেষ্টা চালিয়েছে। বিষয়টিকে ‘শৈল্পিক পর্যায়ের মেধাস্বত্ব চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে অ্যানথ্রপিক।

গেল মাসে চীনা কোম্পানি ডিপসিকের বিরুদ্ধে মার্কিন আরেক শীর্ষ এআই কোম্পানি ওপেনএআইও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এসব তথ্য চুরির জন্য ‘ডিসটিলেশন’ কৌশল ব্যবহার করেছে ডিপসিক, মুনশট এআই ও মিনিম্যাক্স নামের চীনা কোম্পানি। এ কৌশলে শক্তিশালী এক এআই সিস্টেমের আউটপুট ব্যবহার করে কম শক্তিশালী সিস্টেমের কার্যক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, “এ ধরনের প্রচারণা দিন দিন আরও তীব্র ও কৌশলী হয়ে উঠছে, যা ঠেকানোর জন্য হাতে সময় খুবই কম।”

এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘ডিসটিলেশন’ খুব পরিচিত পদ্ধতি। সাধারণত কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব বড় মডেলগুলোর আরও সাশ্রয়ী ও ছোট সংস্করণ তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

এক বছর আগে এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল। ওই সময় কম খরচে জেনারেটিভ এআই মডেল বাজারে আনে চীনা কোম্পানি ডিপসিক। সে মডেলটি চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য শীর্ষ মার্কিন বিভিন্ন চ্যাটবটের সমান পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। ফলে এ স্পর্শকাতর প্রযুক্তি খাতে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের ধারণাটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ক্লড মডেলের সঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বার তথ্য আদান-প্রদান করেছে এবং এজন্য প্রায় ২৪ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে এসব চীনা কোম্পানি।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ওই তিনটি ল্যাব এমন সব সক্ষমতা হাতিয়ে নিয়েছে যা তারা নিজেরা তৈরি করেনি এবং এতে তাদের খরচও হয়েছে খুব সামান্য। এর মাধ্যমে তারা শক্তিশালী মার্কিন প্রযুক্তির ওপর আরোপিত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে গেছে, যা এআইতে আমেরিকার প্রাধান্য ধরে রাখতে তৈরি করা হয়েছিল।

অ্যানথ্রপিক যুক্তি দিয়েছে, এ পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। অবৈধভাবে ‘ডিসটিলেশন’ পদ্ধতিতে তৈরি করা মডেলগুলোতে সাধারণত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কবচ থাকে না। ফলে এসব এআই মডেল অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যেমন জৈব অস্ত্র তৈরি বা সাইবার হামলায় সহায়তা করার মতো বিপজ্জনক কাজে এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।

এ মাসের শুরুতে মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের কাছে একই ধরনের অভিযোগ করেছে অ্যানথ্রপিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইও। তারা বলেছে, চীনা কোম্পানিগুলো ওপেনএআই ও অন্যান্য মার্কিন ল্যাবের তৈরি করা সক্ষমতা ব্যবহার করে ‘বিনা পরিশ্রমে সুবিধা নেওয়ার’ চেষ্টা চালাচ্ছে।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ তিনটির মধ্যে ‘মিনিম্যাক্স’ সবচেয়ে বড় আকারে তথ্য চুরির অভিযান চালিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি তথ্য আদান-প্রদান করেছে। প্রতিটি অভিযানেই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে কোডিং, এজেনটিক রিজনিং বা এআইয়ের নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং টুল ব্যবহারের ওপর, যেসব ক্ষেত্রে ‘ক্লড’কে বর্তমান বাজারের সেরা মনে করা হয়।

চীন থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ওপর অ্যানথ্রপিকের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা এড়াতে এসব ল্যাব ‘প্রক্সি সার্ভিস’-এর সাহায্য নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সার্ভিসের মাধ্যমেই ভুয়া অ্যাকাউন্টের বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে তারা।

এখন এ বিষয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। তাদের মতে, কোনো কোম্পানির একার পক্ষে এ বিশাল আকারের ডিজিটাল চুরি ঠেকানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন…

মার্কিন এআই প্রযুক্তি চুরির দায়ে ডিপসিককে দুষল ওপেনএআই