Published : 08 Nov 2025, 10:35 AM
সুপারকম্পিউটারের কথা ভাবলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল এয়ার কন্ডিশনড কক্ষ, যেখানে সারি সারি ক্যাবিনেট এলইডি বাতি ঝলমল করছে। তবে এখন ‘বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সুপারকম্পিউটার’ চলে এসেছে, যেটি ইলন মাস্কের হাতে তুলে দিয়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং।
‘ক্রে’ নামে বিশ্বের প্রথম সুপারকম্পিউটারের দাম ছিল ১ কোটি ডলার, এতে ব্যবহার হয়েছিল ৬০ মাইল দীর্ঘ তার এবং এর ভর ছিল ৫ টনের বেশি। এ সুপারকম্পিউটারটি চালাতে যত বিদ্যুৎ খরচ হত তা দিয়ে ১০টি বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পারফরম্যান্সের দিক থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ মেগাফ্লপ গতিতে কাজ করত এটি। এক মেগাফ্লপ মানে, প্রতি সেকেন্ডে ১০ লাখ ফ্লোটিং-পয়েন্ট অপারেশন সম্পন্ন করা।
এ ধরনের সুপারকম্পিউটার ইনস্টল করতে চাইলে তারের সংযোগ, কুলিং সিস্টেম, সিস্টেম ডিস্ক সাবসিস্টেম এবং ওয়ার্কস্টেশন বসানোর জন্য কোনো ইঞ্জিনিয়ার দলের এক বছর সময় লাগত। তবে, পঞ্চাশ বছর পর ইলন মাস্কের হাতে ‘ডিজিএক্স স্পার্ক’ নামের কোম্পানির সর্বশেষ সুপারকম্পিউটার-এর একটি মডেল তুলে দিয়েছেন মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং। উপহারটি হাতদলের আগে সেটির গায়ে স্বাক্ষরও করে দিয়েছেন তিনি।
‘ডিজিএক্স স্পার্ক’ এমন এক সুপারকম্পিউটার, যেটি একটি হার্ডকভার বইয়ের সমান আকারের এবং এর পারফরম্যান্স ১ পেটাফ্লপ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
আগে যেখানে বিভিন্ন সুপারকম্পিউটার কিনতে কোটি কোটি ডলারে গুনতে হত এখন সেখানে ‘ডিজিএক্স স্পার্ক’-এর দাম কেবল ৩ হাজার ৯৯৯ ডলার। এতে রয়েছে ‘জিডি১০ গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল’ নামের এনভিডিয়ার সুপারচিপ, যেটি পুরো সুপারকম্পিউটার সিস্টেমের হার্ট।
চিপটি তৈরি হয়েছে এনভিডিয়ার ‘ব্ল্যাকওয়েল’ চিপ জেনারেশনের জিপিইউ ও ২০-কোরের ‘এআরএম সিপিইউ’ নিয়ে। এনভিডিয়ার সর্বশেষ জেনারেশনের বিভিন্ন গ্রাফিক্স কার্ডও ব্ল্যাকওয়েল আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি।

পকেট আকারের সুপারকম্পিউটার
‘ডিজিএক্স স্পার্ক’-এর দিকে যাওয়ার আগে ‘এনভিডিয়ার ডিজিএক্স’ প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো। ডিজিএক্স-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ‘ডিপ জিপিইউ এক্সেলেরেশন’, যেটি এআই কাজের জন্য তৈরি বিশেষ এক কম্পিউটার প্ল্যাটফর্ম।
প্ল্যাটফর্মটি এরইমধ্যে বিভিন্ন শিল্প ও খাতে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন– বিশ্বের শীর্ষ ১০টি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ও শীর্ষ ১০টি ইউনিভার্সিটির এআই সিস্টেম এর সাহায্যেই চালছে। আর ‘ডিজিএক্স স্পার্ক’ হল এ প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ হার্ডওয়্যার সংযোজন, যা ছোট আকারের ও দ্রুততর কম্পিউটার।
‘ডিজিএক্স স্পার্ক’ চূড়ান্ত পারফরম্যান্স পিসি নয়। তবে, এর কিছু অসাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এনভিডিয়ার ব্ল্যাকওয়েল সুপারচিপের কারণে এটি ১ পেটাফ্লপ পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এতে সিপিইউ ও পিপিইউ উভয়ের জন্য ১২৮ জিবি একীভূত র্যাম রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে উচ্চ-গতির ‘এনভিডিয়া কানেক্টএক্স’ নেটওয়ার্কিং।
সুপারকম্পিউটারটি কেবল ছয় ইঞ্চির চওড়া, দুই ইঞ্চির উচ্চতা ও দুই দশমিক পাঁচ পাউন্ড ওজনের। আগের বিশাল আকারের বিভিন্ন সুপারকম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করলে এটি খুবই ছোট ও হালকা।
ডিজিএক্স স্পার্ক’ চলে এনভিডিয়ার ‘ডিজিএক্স ওএস’-এ, যা আমাদের বেশিরভাগের কাছেই অপরিচিত। তবে সুপারকম্পিউটারের পেছনের অংশটি আমাদের কাছে কিছুটা পরিচিত হতে পারে।
যেমন– এতে রয়েছে চারটি ইউএসবি-মি পোর্ট, যার মধ্যে একটি পাওয়ারের জন্য, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ইথারনেট পোর্ট এবং দুটি ‘কোয়াড স্মল ফর্ম-ফ্যাক্টর প্লাগএবল’ বা কিউএসএফপি পোর্ট, যা সার্ভার, সুইচ ও বিভিন্ন এআই সুপারকম্পিউটারে ডেটা-ইনটেনসিভ সিস্টেমের জন্য ব্যবহৃত হয়।