Published : 14 Nov 2024, 04:49 PM
সার্ফবোর্ডের তলায় এলইডি লাইট লাগানোর মাধ্যমে বড় বড় সাদা হাঙরের আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব– এমনটাই বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য সুপরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার মোসেল বে। সম্প্রতি এ স্থানে পরিচালিত এক সমীক্ষায় সার্ফবোর্ডের তলায় এলইডি লাইট লাগিয়ে সমুদ্রের হাঙরের উপর গবেষণাটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ‘ম্যাককিউরি ইউনিভার্সিটি’র গবেষকরা।
গবেষকরা বলছেন, সার্ফবোর্ডের তলায় অর্থাৎ সার্ফারের আবয়বের নীচে থাকা এই আলো সমুদ্রের উপরিভাগের বিভিন্ন বস্তু শনাক্তে বাধা দিয়েছে হাঙরকে। এমনকি সূর্যের আলোর বিপরীতে এসব বড় বড় সাদা হাঙরের দেখার ক্ষমতাকেও সীমিত করেছে এটি।
“বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয় গ্রেট হোয়াইট শার্ক প্রজাতির হাঙরের আক্রমণে। আর প্রায়ই সমুদ্রের নীচ থেকে শিকারকে আক্রমণ করে এরা। কারণ, মাঝে মধ্যে সার্ফারের আকৃতিকে সিল মাছ ভেবে ভুল করে হাঙর,” বলেছেন এ গবেষণার প্রধান গবেষক লরা রায়ান।
গবেষকরা বলছেন, বুল শার্ক ও টাইগার শার্কের মতো হাঙরও মানুষকে আক্রমণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাই এসব হাঙরের আক্রমণ ঠেকাতে এলইডি আলো কার্যকর কি না তা-ও খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
সমুদ্রে সার্ফিং ও অন্যান্য বোর্ড সম্পর্কিত খোলায় অংশ নেওয়ার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাঙর মানুষদের আক্রমণ করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালে বিনা কারণে হাঙরের কামড়ের ঘটনা ঘটেছে ৬৯টি। যার বেশিরভাগই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং এর মধ্যে ১০টি হাঙরের কামড়ের ঘটনা ছিল মারাত্মক রকমের।
এ গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে। গবেষণায় এলইডি লাইটের তিনটি ভিন্ন তীব্রতা পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা।
গবেষক রায়ান বলেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে সবচেয়ে উজ্জ্বল রঙের অনুভূমিক ও সারিবদ্ধ আলোকে হাঙরের টার্গেট করার ভয় কম।
“বড় আকারের বিভিন্ন সাদা হাঙরের শিকারী আচরণ পরিবর্তনের জন্য সার্ফারের আকৃতির গুরুত্বকে তুলে ধরেছে আমাদের এ গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল। এমনকি মানুষের জীবন রক্ষায় হাঙরের আক্রমণ ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে সার্ফারের আকৃতির এই পরিবর্তন।”
মজার বিষয় হচ্ছে সবচেয়ে উজ্জল ও সুস্পষ্ট আলোর প্রতি কম আকৃষ্ট হয়েছে সাদা হাঙ্গর। যদিও, আগের বিভিন্ন গবেষণায় বলা ছিল, কিছু প্রজাতির হাঙর উজ্জ্বল ও প্রতিফলিত বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয়।