Published : 27 Jul 2026, 01:06 PM
চার্জের দাগ শূন্যের ঘরে নেমে এলে অনেকেই গাড়িতে উঠে দ্রুত ফোনটি চার্জারে গুঁজে দেন। নিজের অজান্তেই এ ছোট্ট অভ্যাসের কারণে গাড়ির তেল বা জ্বালানি যে কিছু হলেও বেশি খরচ হচ্ছে সে কথা হয়ত অনেকেরই অজানা।
প্রশ্ন উঠতে পারে গাড়ির পাওয়ার সকেটে স্মার্টফোন প্লাগ করলে ঠিক কতটা পেট্রোল বা ডিজেল উবে যায়?
পরিসংখ্যান বলছে, গাড়ির মাইলেজের ওপর এর প্রভাব একেবারে নগণ্য। তবে জ্বালানির দামবৃদ্ধির এ যুগে হিসাবকষে চললে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ও নজরে পড়ে।
ব্যবহারকারী খরচ কমানোর বিষয়ে সচেতন হলে গাড়ির সকেটে ফোন প্লাগিংয়ের চেয়ে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়ে ফোন চার্জিংয়ের বিকল্প রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মূল বিষয় বুঝতে গেলে পুরো প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। কারিগরি দিক দিয়ে বিচার করলে ব্যবহারকারীর গাড়ির প্রতিটি যন্ত্রাংশ বা সুবিধাই কম-বেশি জ্বালানি শক্তি ক্ষয় করে। সেই তুলনায় কেবল মোবাইল চার্জারের তুলনায় গাড়ির এসি বেশি পরিমাণ জ্বালানি গিলে থাকে।
ফোন চার্জ করায় তেল কেন খরচ হয়?
গাড়ির অন্যান্য সব বিদ্যুচ্চালিত সকেটের মতোই ফোন চার্জারও ‘অল্টারনেটর’ থেকে বিদ্যুৎ টানে। অল্টারনেটরটি শক্তি পায় গাড়ির ইঞ্জিন থেকে, আর ইঞ্জিন সচল রাখতে প্রয়োজন হয় জ্বালানি।
এখানে মূল বিষয় হচ্ছে, একটি মোবাইল ফোন চার্জার চালাতে নগণ্য পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন, যা সাধারণত কেবল ৫ থেকে ১৫ ওয়াটের কাছাকাছি।
এর বিপরীতে, গাড়ির এয়ার কন্ডিশনার সিস্টেম চালাতে হাজার হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যার ফলে তেলের ওপর প্রভাব পড়ে। মোড় ঘোরার সময় গাড়িতে যে টার্ন ইন্ডিকেটর বা সংকেত বাতি জ্বালানো হয় সেটিও মোবাইল চার্জারের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।
গাড়িতে ফোন চার্জে ঠিক কতটা জ্বালানি খরচ হয়?
জ্বালানি খরচের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, একটি সাধারণ গাড়ি চার্জার প্রতি গ্যালন জ্বালানিতে কেবল ০.০৩ মাইল মাইলেজ কমায়। আরও সহজ করে বললে, প্রতি লিটারে গাড়ি ১৩ মিটার কম চলবে।
সহজ ভাষায়, ব্যরহারকারীর গাড়ি যদি প্রতি গ্যালন জ্বালানিতে গড়ে ২০ কিলেমিটার চলে তবে সবসময় একটি ফোন চার্জে যোগ রাখলে সেই মাইলেজ হবে ২০ কিলোমিটারের চেয়ে ১৩ মিটার কম। এই সামান্য পার্থক্য ব্যবহারকারীর ভ্রমণের খরচে তেমন কোনো প্রভাবই ফেলবে না। এক্ষেত্রে গাড়ির এয়ার কন্ডিশনার চালালে জ্বালানি খরচ প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, মালে ২০ কিলোমিটারের জায়গায় চলবে ১৮ কিলোমিটার।
ফোন চার্জ করায় কি গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দ্রুত ফুরায়?
অনেকের ধারণা, গাড়ির ইউএসবি চার্জারে ফোন প্লাগ করে রাখলে ব্যাটারি দ্রুত খালি হয়ে যায়। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় থাকলে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়।
কারণ, গাড়ি চালক মোডে বা চালু থাকলে অল্টারনেটরই ১২-ভোল্ট ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যা থেকে ফোন চার্জ হয়। এটা বিদ্যুচ্চালিত সিস্টেমে সামান্য চাপ তৈরি করলেও গাড়ির ব্যাটারিকে কোনোভাবেই পুরোপুরি খালি করে ফেলে না।
তবে ইঞ্জিনের সুইচ বন্ধ থাকা অবস্থায় হিসাবটি কিছুটা আলাদা। গাড়ি বন্ধ রেখে ফোন চার্জ দিলে তা সরাসরি গাড়ির ১২-ভোল্ট ব্যাটারি থেকেই শক্তি টানে।
ইঞ্জিন বন্ধ রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন চার্জ দিলে কি ব্যাটারি পুরোপুরি ডাউন হতে পারে? এমন সম্ভাবনা কম হলেও অসম্ভব নয়, বিশেষ করে ব্যবহারকারীর গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে না চালানো বা ব্যাটারিটি পুরানো হলে ইঞ্জিন বন্ধ থাকা অবস্থায় ফোন চার্জ দেওয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ফোন চার্জ দেওয়ার কারণে গাড়ির জ্বালানি বা ব্যাটারির আয়ু নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এর মানে এই নয় যে অহেতুক দিনের পর দিন ফোন গাড়ির সকেটে প্লাগ করে রাখা উচিত। তবে সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমনটা ব্যবহারকারীর পকেট বা গাড়ির স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে না।