Published : 31 Jul 2026, 03:25 PM
মহাকাশ বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার পাশাপাশি অচেনা বিপত্তির গল্পও কম নয়। ঢলে পড়া এক টেলিস্কোপকে বাঁচাতে নাসার পাঠানো উদ্ধারকারী মহাকাশযান নিজেই এখন মহাশূন্যে চরম বিপাকে পড়েছে।
কক্ষপথ থেকে খসে পড়া ঠেকিয়ে সুইফট অবজারভেটরিকে ফের নির্দিষ্ট উচ্চতার নিয়ে যেতে এ বছরের জুলাইয়ের শুরুতে এক বিশেষ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
উদ্দেশ্য ছিল, টেলিস্কোপটিকে উদ্ধার করে বিজ্ঞানীদের আরও কয়েক বছর মহাকাশ গবেষণার সুযোগ করে দেওয়া। তবে সে আশা এখন অনিশ্চয়তার মুখে, কারণ উদ্ধারকারী যানটি নিজেই মহাশূন্যে বিপদে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
‘নিল গেহরেল্স সুইফট অবজারভেটরি’ ব্লগে এক হালনাগাদ তথ্যে নাসা বলেছে, ‘লিংক’ নামের ওই উদ্ধারকারী যানটি গেল সপ্তাহান্তে ‘অ্যাটিচিউড কন্ট্রোল’ বা মহাকাশে নিজ অক্ষের দিকনিয়ন্ত্রণজনিত জটিলতায় পড়ে।
ফলে মহাকাশযানটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুরতে শুরু করে, যা পৃথিবীর সঙ্গে এর যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন ও অনিয়মিত করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক কোম্পানি ‘ক্যাটালিস্ট স্পেস’-এর তৈরি এ রোবোটিক মহাকাশযান ‘লিংক’-এর মূল কাজ ছিল সুইফট অবজারভেটরির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে আরও উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া।
কক্ষপথে থাকা সব স্যাটেলাইটই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতা হারিয়ে একসময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে গত দুই বছরে সূর্যের তীব্র কার্যক্রম বা ‘সোলার অ্যাক্টিভিটি’ বেড়ে যাওয়ার কারণে সুইফট টেলিস্কোপটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলীয় বাধার পড়ে। ফলে সাধারণ গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে তা নিচের দিকে নেমে আসছে।
নাসার তথ্য অনুসারে, কোনো জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এ বছরের মধ্যেই সুইফট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ কারণেই পাঠানো উদ্ধারকারী যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়া এখন পুরো মিশনটিকে চরম আশঙ্কার মধ্যে ফেলেছে।
মহাকাশযান ‘লিংক’-এর ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন নাসার প্রকৌশলীরা।
নাসা বলেছে, মহাকাশযানের দিকনিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহৃত তিনটি ‘রিঅ্যাকশন হুইল’-এর মধ্যে দুটিই বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এর কোল্ড গ্যাস থ্রাস্টার সিস্টেমেও কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কন্ট্রোল রুমের গ্রাউন্ড দল এখনও ‘লিংক’-এর সংকেত পাচ্ছে। ফলে মহাকাশযানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মহাকাশযানটির ‘ইলেকট্রিক প্রোপালশন থ্রাস্টার’ ব্যবহার করে অনিয়ন্ত্রিত ঘোরা বন্ধের পরিকল্পনা করছেন তারা।
ঘোরা থামানো সম্ভব হলে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মহাকাশযানটির গাইডেন্স ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
এরপরই নাসা ও ক্যাটালিস্ট স্পেস যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সুইফট অবজারভেটরি’কে উদ্ধার করা সম্ভব কি না। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, লিংক-এর বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে আগের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে নাসা।
এত জটিলতার পরও অবশ্য হাল ছাড়ছে না মহাকাশযানটির নির্মাতা কোম্পানি ক্যাটালিস্ট স্পেস। মিশনটি সফল করা সম্ভব বলেই বিশ্বাস তাদের।
ওয়েবসাইটে এক বার্তায় কোম্পানিটি বলেছে, “মিশন এখনও চালু রয়েছে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে লিংকের সুইফট টেলিস্কোপের কাছে পৌঁছানোর এবং মূল লক্ষ্য পাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে বলে আমরা মনে করি।”