Published : 01 Feb 2026, 01:12 PM
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে এবার উঠে এসেছে ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্র্যানসনের নাম। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরের ওই ইমেইল আলাপ ফেডারেল আইনের আওতায় সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি এপস্টেইন ফাইলের অংশ।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ওই ইমেইল বিনিময়ে এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেছেন স্যার রিচার্ড, জনসংযোগ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরবর্তী বৈঠকে তার ‘হারেম’ সঙ্গে আনার অনুরোধ করেছেন।
এ নিয়ে ভার্জিন গ্রুপের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রিচার্ড ও জোয়ান ব্র্যানসনের সঙ্গে এপস্টেইনের ওই যোগাযোগ হয়েছে ১২ বছরেরও বেশি আগে। কয়েকবার সীমিত পরিসরে হওয়া এসব যোগাযোগ ছিল আরও লোকজনের উপস্থিতিতে, ব্যবসায়িক পরিবেশে বা কোনো চ্যারিটি ইভেন্টে।
মুখপাত্র আরও বলেছেন, এপস্টেইন যখন স্যার রিচার্ডের দাতব্য সংস্থায় অনুদানের প্রস্তাব করেছেন, তখন ব্র্যানসন দম্পতি তা গ্রহণের আগে তাদের টিমকে যাচাই করতে বলেছেন। যাচাইয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসায় ব্র্যানসনের চ্যারিটি ‘ভার্জিন ইউনাইট’ ওই অনুদান গ্রহণ করেনি এবং এরপর থেকে রিচার্ড ও জোয়ান এপস্টেইনের সঙ্গে আর দেখা বা কথা বলেননি।
মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি শুরু থেকেই সব তথ্য জানা থাকত, তাহলে কোনো যোগাযোগই হতো না। তিনি বলেছেন, রিচার্ড ব্র্যানসন এপস্টেইনের কর্মকাণ্ডকে ঘৃণ্য বলে মনে করেছেন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
২০১৩ সালের ওই ইমেইল বিনিময় শুরু করেছেন এপস্টেইন। তিনি লিখেছেন, “আপনাকে দেখে ভালো লাগল, আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আপনার জনসংযোগ পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞ।”
তিনি ভার্জিনের এই প্রতিষ্ঠাতাকে নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রধানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গ তুলেছেন এবং জানিয়েছেন, বড়দিন পর্যন্ত তিনি ‘দ্বীপে’ থাকবেন।
কয়েক ঘণ্টা পর ব্র্যানসন জবাব দিয়েছেন, “গতকাল আপনাকে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। ওয়াটারস্পোর্টসের ছেলেরা এখনো বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে। আপনি এলাকায় এলে দেখা করতে চাই। তবে শর্ত হলো, আপনার হারেম কিন্তু সঙ্গে আনবেন!”
এ বিষয়ে ভার্জিন গ্রুপ বলেছে, ‘হারেম’ শব্দটি এপস্টেইনের টিমের তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। কোম্পানিটি আরও উল্লেখ করেছে, এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য জানা থাকলে ব্র্যানসন এই শব্দ ব্যবহার করতেন না এবং তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও রাখতেন না।
ইমেইলে ব্র্যানসন এপস্টেইনকে জনসংযোগ বিষয়ে দীর্ঘ পরামর্শও দিয়েছেন। সে সময় এপস্টেইন আদালতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌনব্যবসায় যুক্ত করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং স্বল্প মেয়াদের সাজা ভোগ শেষ করেছেন।
ব্র্যানসন লিখেছেন, “বিল গেটস যদি বলেন যে আপনি তার জন্য একজন চমৎকার উপদেষ্টা ছিলেন, আর বহু বছর আগে সাড়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সাজা পেয়েছেন, তাহলে বলা যেতে পারে আপনি শিক্ষা নিয়েছেন এবং এরপর আইনবিরোধী কিছু করেননি।
“একজন অবিবাহিত মানুষ হিসেবে নারীদের প্রতি আপনার ঝোঁক আছে, আর তাতে দোষের কিছু নেই।”
এরপর ব্র্যানসন মেইলের আলাপ আর্থিক লেনদেন, মুদ্রা ও তেলের প্রসঙ্গে ঘুরিয়ে নিয়েছেন।
এপস্টেইন নিউ ইয়র্কে একাধিক ফ্লোরজুড়ে থাকা নিজের বাসায় নিজের সঙ্গে ব্র্যানসনের একটি বাঁধাই করা ছবি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। আগের দফায় প্রকাশিত নথিতেও দুজনের একসঙ্গে তোলা ছবি এসেছে। ক্যারিবিয়ান সাগরে কাছাকাছি এলাকায় দুজনেরই ব্যক্তিগত দ্বীপ ছিল।
এপস্টেইন ফাইলে ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্স এবং ইলন মাস্কসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, “এপস্টেইন ফাইলে কারো নামের উল্লেখ থাকা মানেই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়।”