১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ইতিহাসের বৃহত্তম শ্রম চুরি’ করেছে ওপেনএআই: মাইক্রোসফট নির্বাহী

ওপেনএআই ভেতরের কনটেন্ট সংগ্রহ করতে ও লাখ লাখ নথিপত্র দিয়ে ডেটাসেট তৈরির সময় তারা ডেটা থেকে আসল কপিরাইট নোটিশও মুছে ফেলত।

‘ইতিহাসের বৃহত্তম শ্রম চুরি’ করেছে ওপেনএআই: মাইক্রোসফট নির্বাহী

ওপেনএআইয়ের নির্বাহী নিক টার্লি বিষয়টিকে ‘প্রকাশকদের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 10:10 AM

Updated : 19 Sep 2026, 10:10 AM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ইন্টারনেট থেকে লাখ লাখ সংবাদ নিবন্ধ বিনা অনুমতিতে সংগ্রহ নিয়ে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের শীর্ষ কর্মকর্তারাই ভেতর ভেতর চরম উদ্বেগে ছিলেন বলে উঠে এসেছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে।

মাইক্রোসফটের ফলিত বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ড. ব্রেন্ট হেখট ওপেনএআইয়ের এ ডেটা সংগ্রহের কাজকে মানব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, এটা বিপজ্জনক ‘পতনমুখী চক্র’ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের নির্বাহী নিক টার্লি বিষয়টিকে ‘প্রকাশকদের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

২০২৩ সালে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস। আদালতের নির্দেশেই এসব গোপন নথি প্রকাশ্যে এসেছে। তবে, প্রকাশ পেয়েছে এর কেবল কিছু অংশ।

এসব নথিপত্রে উঠে এসেছে, ওপেনএআই ও তাদের সহযোগীরা সাবস্ক্রিপশন বা পেওয়ালের বাধা পেরিয়ে ভেতরের কনটেন্ট সংগ্রহ করত এবং লাখ লাখ নথিপত্র দিয়ে ডেটাসেট তৈরির সময় তারা ডেটা থেকে আসল কপিরাইটের নোটিশও মুছে ফেলত।

নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অন্য পাঁচজন লেখক মিলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলাটি করেছেন এবং তাদের মূল কথা, অনুমতি বা কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ইন্টারনেট থেকে হাজার হাজার সংবাদ নিবন্ধ তুলে নিয়ে নিজেদের এআই মডেলে ব্যবহার করে কপিরাইট আইন ভাঙছে এসব কোম্পানি।

এআই ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট আইন এখনও তৈরি না হওয়ায় এর আগের কিছু মামলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জয় রায় এসেছে। তবে বিচারকরা বলেছেন, আইনটি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সাংবাদিকতার মতো পেশায় অনুমতি ছাড়াই কপিরাইটওয়ালা কাজ ব্যবহার করা যাবে কি না সেই ‘ফেয়ার ইউজ’ বা আইনগত অধিকারের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এ মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, নিজেরই কর্মীদের করা এমন কড়া মন্তব্য নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানিটির মুখপাত্র অ্যালেক্স হরেক বলেছেন, আদালতের নথিতে তাদের যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে সেটাই তাদের মূল কথা।

তাদের দাবি, এসব রূপান্তরকারী প্রযুক্তিগুলো কপিরাইট আইনের পরিপন্থী নয় ও মাইক্রোসফটের ‘কোপাইলট’ টুলটি সংবাদ প্রকাশকদের সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নয়।

তবে, নথিতে থাকা বাকি মন্তব্যগুলোও বেশ ভাবিয়ে তোলার মতো। যেমন, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানকে একজন কর্মী নতুন এক পেওয়াল হ্যাকিংয়ের কথা জানালে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘আহ চমৎকার’।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ এক নথিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, এআই মডেলগুলো যেভাবে মানুষের সসব কাজ ‘শুষে নিচ্ছে’ তাতে একদিন বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ একে ‘নজিরবিহীন চুরি বলেই বিবেচনা করবে’।

মাইক্রোসফটের মুখপাত্র অ্যালেক্স হরেক বলেছেন, এসব এআই মডেল এমন এক পণ্য, যা ‘এর নিজস্ব সরবরাহ শৃঙ্খলকেই ধ্বংস করে দেয়’।

অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওই সময় সহকর্মীদের লিখেছিলেন, “আমরা যতই জাঁকজমকপূর্ণভাবে এসব লিংক দেখাই না কেন ব্যবহারকারীরা তাতে ক্লিক করবে না” এবং এই কথার সত্যতা স্বীকার করে নির্বাহী নিক টার্লিও বলেছেন, এসব এআই পণ্য সাংবাদিকতার ‘বড় অংশেই বিকল্প’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।