১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি ও ইন্টার মিলানের কিংবদন্তি মাৎসোলার চিরবিদায়

ইতালির সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন এবং ইন্টার মিলানের ‘আইকন’ সান্দ্রো মাৎসোলা মারা গেছেন ৮৩ বছর বয়সে।

ইতালি ও ইন্টার মিলানের কিংবদন্তি মাৎসোলার চিরবিদায়

ইন্টার মিলানের সর্বকালের সেরাদের একজন সান্দ্রো মাৎসোলা (১৯৪২-২০২৬)। ছবি: ইন্টার মিলান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 01:27 PM

Updated : 19 Sep 2026, 01:27 PM

ইতালির সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন এবং ইন্টার মিলানের ‘আইকন’ সান্দ্রো মাৎসোলা মারা গেছেন। ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যুর খবরটি শনিবার নিশ্চিত করেছে ইন্টার।

১৭ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারের পুরো সময় ইন্টার মিলানেই খেলেছেন মাৎসোলা। ইতালির জার্সিতে খেলেছেন প্রায় এক যুগ।

মূলত ফরোয়ার্ড হলেও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও অনেক খেলেছেন মাৎসোলা। মাঠ তার গতি, সারা মাঠ ছুটে বেড়ানো, সৃষ্টিশীলতা, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং গোল খোঁজার প্রবণতা মিলিয়ে তাকে মনে করা হয় ইতালির সর্বকালের ফুটবলারদের একজন। অনেকের চোখেই তার প্রজন্মের সেরা ছিলেন তিনি।

Image

১৭ বছরের ক্যারিয়ারের পুরোটাই ইন্টারে খেলেছেন মাৎসোলা। ছবি: ইন্টার মিলান।

ইন্টার মিলানের ইতিহাসে তো তিনি অমর। এই ক্লাবের জার্সিতে তিনি খেলেছেন ১৯৬০ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত, ৫৬৫ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৫৮টি। ক্লাবের হয়ে জিতেছে চারটি সেরি আ শিরোপা, দুটি ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) ও দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।

দেশের জার্সিতে খেলেছেন ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত। ৭০ ম্যাচে গোল করেছেন ২২টি। ১৯৬৮ ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন ও ১৯৭০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ইতালি দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। খেলেছেন ১৯৬৬ ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপেও।

ইন্টার মিলানে মাৎসোলার আবেদন কতটা, তা ফুটে উঠেছে ক্লাবের ওয়েবসাইটে বিবৃতিতে।

“ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের একজন সান্দ্রো মাৎসোলা। শুধু ইন্টারের ইতিহাসেই নয়, তিনিই ছিলেন ইন্টারের ইতিহাস। ছেলেবেলায় এই ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন এবং কখনও ক্লাব ছেড়ে যাননি।”

সান্দ্রো মাৎসোলার বাবা ভ্যালেন্টিনো মাৎসোলাও ছিলেন বিখ্যাত ফুটবলার। ১৯৪৯ সালের মে মাসে সুপারগা বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান ভ্যালেন্টিনো। লিসবনে একটি ম্যাচ খেলে ফেরার পথে সেই বিপর্যয়ে তুরিনোর পুরো দলটি নিহত হয়েছিল। বাবা মারা যাওয়ার সময় সান্দ্রোর বয়স ছিল ৬ বছর।

ছেলেবলায় শৈশবে ইন্টারের মাসকট হিসেবে কাজ করেছেন মাৎসোলা। ১৮ বছর বয়সে ইন্টারের যুব দল হয়ে তার মূল দলে অভিষেক ঘটনাবহুল এক ম্যাচ সেরি আ-তে এক ম্যাচে ইউভেন্তুস সমর্থকেরা মাঠে ঢুকে পড়ায় ইন্টারকে ২-০ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্তটি বাতিল করে ম্যাচ পুনরায় খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে যুব দল নিয়ে মাঠে নামে ইন্টার। সেই ম্যাচেই মূল দলে অভিষেক তার।

স্কুলের পরীক্ষা শেষ করে সেদিন তিনি তুরিনে যান এবং ইউভেন্তুসের কাছে ৯-১ গোলে পরাজয়ের ম্যাচে ইন্টারের একমাত্র গোলটি করেন।

এরপর দ্রুতই তিনি মূল দলের প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। ক্লাবে তার দ্বিতীয় মৌসুমেই ১৯৬৪ সালে ইউরোপিয়া কাপের ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে হারানোর পথে তিনি জোড়া গোল করেন। পরের মৌসুমে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানেও তার ছিল বড় অবদান।

১৯৭৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ওই বছর থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ইন্টার এবং তারপর জেনোয়াতে নির্বাহী পদে ছিলেন মাৎসোলা। পরে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আবার ছিলেন ইন্টারের ক্রীড়া পরিচালক। ওই অধ্যায় শেষে ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাবার ক্লাব তুরিনোর ক্রীড়া পরিচালক।

এছাড়াও টিভিতে ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপ ফাইনাল ও ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ধারাভাষ্য দিয়েছেন তিনি, যে দুটি বিশ্বকাপই জিতেছে ইতালি।

বিদায়বেলায় বিবৃতিতে তার ফুটবল ও জীবন দর্শকের দিকটি তুলে ধরেছে ইন্টার।

“গোঁফওয়ালা তারকাটি মাঠে আলো ছড়িয়েছেন এবং আজও ছড়াচ্ছেন। তিনি প্রায়ই যেমন বলতেন, তার একটিই শেষ ইচ্ছা, ‘একজন ভালো মানুষ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকা’ এবং এমন একজন হিসেবে স্মরণীয় থাকা, জেতা অসম্ভব হলেও যিনি লড়াই চালিয়ে যান, যেমনটা হয়েছিল ৯-১ গোলের সেই ম্যাচে।”