‘এফটিএক্সকে নিজের রাজত্ব মনে করতেন সিইও’

১০ লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই এক্সচেঞ্জে তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এদের বেশিরভাগই সম্ভবত তাদের অর্থ আর ফেরত পাবেন না।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2022, 12:46 PM
Updated : 24 Nov 2022, 12:46 PM

ধসে পড়া ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ এফটিএক্স এর সিইও স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিড কোম্পানিটিকে নিজের সাম্রাজ্যের মতো চালাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া আদালতে।

ব্যাংকম্যান-ফ্রিড একসময় ৩২ বিলিয়ন ডলারের এই সাম্রাজ্য চালালেও তার আর্থিক বিষয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না বলে আইনজীবী জেমস ব্রামলি আদালতে তুলে ধরেন।

আইনজীবী আরো যোগ করেন, কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা কেবল এখন মাত্র জানা সম্ভব হচ্ছে।

আইনজীবী আরো জানিয়েছেন ফ্রিডের দল প্রায় ৩০ কোটি ডলার খরচ করেছেন তার জ্যেষ্ঠ কর্মীদের প্রমোদ ভ্রমণের জন্য।

“এখন কেবল বোঝা যাচ্ছে যে, রাজার গায়ে আসলে কোনো কাপড় ছিল না” – আদালতে বলেন এটর্নি জেমস ব্রামলি। এই ধসকে তিনি মার্কিন কর্পোরেট দুনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে আকস্মিক ও ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

ক্রিপ্টো মুদ্রা এক্সচেঞ্জ এফটিএক্স তার গ্রাহকদের প্রচলিত অর্থের বিনিময়ে ক্রিপ্টো মুদ্রা কেনার সেবা দিত। এর অনেক গ্রহকই এফটিএক্স-এর ওয়ালেটকে প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতোই ব্যবহার করতেন।

“তারা মনে করতেন, তাদের অর্থ নিরাপদে থাকবে।”

সাত বছরের ইতিহাসে এফটিএক্স কীভাবে একাধিক দেশ ঘুরে এত দ্রুত শীর্ষে পৌঁছেছে তার একটি বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয় বিচারক জন টি ডরসির আদালতে।

এফটিএক্স কী করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টো মুদ্রা এক্সচেঞ্জ হয়ে উঠল আদালতে তার একটি সময়কাল পেশ করার পর আইনজীবীর বর্ণনায় উঠে আসে কেবল আট দিনের মাথায় কোম্পানির তথ্যাবলী অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় কতো দ্রুত এর পতন ঘটল।

এ ঘটনার পরপরই সিইও স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিড পদত্যাগ করেন এবং মার্কিন আইন অনুসারে দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেন।

১০ লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই এক্সচেঞ্জে তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এদের বেশিরভাগই সম্ভবত তাদের অর্থ আর ফেরত পাবেন না।

কোম্পানির রেকর্ড বলছে, এফটিএক্সের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের ২৭টি দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ রয়েছে কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ, ভার্জিন আইল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য এবং চীন।

পতনের সময় এফটিএক্স আসলেই কতটা অর্থ ধরে রাখতে পেরেছে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আইনজীবীরা বলেছেন, কোম্পানিটির বেশ কিছু ক্রিপ্টো মুদ্রা হ্যাকারদের হাতে গিয়েছে।

আইনজীবী ব্রামলি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়তই সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছি এবং ক্রমাগত চেষ্টা করছি সম্পদের সুরক্ষা দিতে।”

ক্রিপ্টো মুদ্রার পাশাপাশি এফটিএক্সে লাখ লাখ গ্রাহকের তথ্য ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

আদালতের বিরতিতে কিছু কিছু অংশগ্রহণকারী বলেছেন, এফটিএক্সের পতনের ফলে তারা কতোটা অর্থ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন জানান, সারা জীবনের সঞ্চয় তিনি হারিয়েছেন এফটিএক্সের পতনের ফলে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক