নিউ ইয়র্ক ট্রাফিক পুলিশ ইউনিয়নের সম্পাদক সাঈদ গ্রেপ্তার
আদালতে উপস্থিত হওয়ার শর্তে পারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউনিয়নের এ নেতাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী এক সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের (সিডব্লিউএ লোকাল-১২৮২) বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সাঈদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ম্যানহাটনের নরম্যান থমাস হাইস্কুল মিলনায়তনে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভাস্থলের বাইরে গত রোববার আগামী নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী খান শওকত নামে এক সদস্যের ওপর হামলা এবং পরে সেখান থেকে সাঈদকে গ্রেপ্তারের এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকায় সংগঠন থেকে সাঈদকে ৩০ দিনের জন্য বহিষ্কার করার কথা বলেছেন অন্য সদস্যরা।
শওকতসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্য সদস্যরা ঘটনার বর্ণনায় বলেন, আগামী ২৪ নভেম্বর নির্বাচনের আগে শওকতসহ সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্য সভাস্থলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের ‘অনিয়ম, তহবিল খরচে স্বেচ্ছাচার এবং কয়েক লাখ ডলার আত্মসাতের’ তথ্য প্রকাশের দাবিতে একটি দরখাস্তে সাধারণ সদস্যেদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করছিলেন। ওই সময় খান শওকতের ওপর হামলা চালান সাঈদ ইসলাম।
শওকতসহ অন্যরা সংগঠনের গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। শওকত আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর উভয়ের মধ্যে বিবাদ বাড়ার কথা বলেছেন বেশ কয়েকজন সদস্য।
নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন সদস্য বলেন, পরে হামলার ঘটনা নিয়ে সাধারণ সভায় উপস্থিত অনেক সদস্য হৈ চৈ করেন।
শওকত খান বলেন, তিনি সংগঠনের সদস্য হওয়ার পরও কেন তাকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে অন্য সদস্যরা জানতে চাইলে সংগঠনের সভাপতি মিশরীয় আমেরিকান আলেক্সান্দার সাদিক বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য বক্তব্য দেন।
২১০০ সদস্যের এ শ্রমিক ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ সদস্য বাংলাদেশি আমেরিকান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সভাস্থলে হট্টগোলের পর শওকতের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এসে সাঈদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করে নিকটস্থ ১৪ নম্বর স্টেশনে নেয়। এরপর তাকে আদালতে হাজির হওয়ার টিকেটসহ ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাধারণ সম্পাদক সাঈদকে ফোন এবং মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
খান শওকত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনাটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় নিউ ইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিব্রতবোধ করছেন। বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সংগঠনের তহবিল ‘তছরুপের’ বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে কেউই সহজভাবে নিতে চাচ্ছেন না। এছাড়া বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে সংগঠনের সভাপতির দেওয়া বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করছেন তারা।
আগামী ২৪ নভেম্বর ডাক যোগে ভোট শুরু হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২২ ডিসেম্বর।
