১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এই প্রথম ইইউ-এ বিদ্যুতের শীর্ষ উৎস হয়ে উঠল সৌরশক্তি

পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস হিসেবে সৌরশক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-এ উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ২২ শতাংশের যোগান দিয়েছে, যা পারমাণবিক শক্তিকেও ছাড়িয়েছে।

এই প্রথম ইইউ-এ বিদ্যুতের শীর্ষ উৎস হয়ে উঠল সৌরশক্তি
ইউরোপের তিনটি দেশ নিজেদের মোট বিদ্যুতের ৯০ শতাংশের বেশি পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎস থেকে উৎপাদন করতে পেরেছে। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Oct 2025, 03:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:24 PM

এ বছরের জুনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎসে পরিণত হল সৌরশক্তি।

পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস হিসেবে সৌরশক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-এ উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ২২ শতাংশের যোগান দিয়েছে, যা পারমাণবিক শক্তিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। পারমাণবিক শক্তি ২১.৬ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক বা এপ্রিল থেকে জুনে ইইউ-তে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি এসেছে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎস থেকে।

ইউরোপের তিনটি দেশ নিজেদের মোট বিদ্যুতের ৯০ শতাংশের বেশি পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎস থেকে উৎপাদন করতে পেরেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিজেদের জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব শক্তির অংশ বাড়িয়ে তুলতে পেরেছে ইউরোপের ১৫টি দেশ।

ইউরোস্ট্যাটের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, “বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৯৪.৭ শতাংশ পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদন করে শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। এর পরেই ৯৩.৪ শতাংশ নিয়ে রয়েছে লাটভিয়া এবং ৯১.৮ শতাংশ নিয়ে অস্ট্রিয়া।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, “পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামে। লুক্সেমবার্গে ১৩.৫ শতাংশ পয়েন্ট ও বেলজিয়ামে ৯.১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, যা মূলত সৌরশক্তি বেড়ে যাওয়ার কারণেই ঘটেছে।”

২০২৩ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রধান শক্তি উৎস হয়ে উঠবে সৌরশক্তি। কারণ খরচ কমার সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার এবং কার্যকারিতাও বাড়বে।

ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে আসবে। কারণ, তা খরচের দিক থেকে সাশ্রয়ী হবে না এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে পরিবেশবান্ধব শক্তি বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী হবে।

জুলাইয়ে জাতিসংঘের দুইটি প্রতিবেদন বলেছে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব শক্তিতে পরিবর্তন একটি ‘ইতিবাচক মোড়’ পেরিয়েছে, যেটিকে ‘শক্তির নতুন যুগের শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ইতিবাচক প্রবণতার পরও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির কিছু দেশ আবার দূষণকারী শক্তি উৎসের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইন্ডিপেনডেন্ট।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্যে বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গায় ঘটছে এমন পরিবেশবান্ধব শক্তির রূপান্তরের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

“আমি সব সময় ঠিক বলেছি এবং আমি আপনাদেরও বলছি, আপনারা যদি এই পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রতারণা থেকে দূরে না সরে আসেন তবে আপনাদের দেশ এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হবে।”

পরিবেশ সংরক্ষণী সংগঠন ‘ক্লাইমেট পাওয়ার’-এর বিশ্লেষণ বলছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান নেতাদের প্রভাবিত করতে ৪৫ কোটি ডলার খরচ করেছে দেশটির তেল ও গ্যাস শিল্প।