Published : 10 Apr 2026, 01:10 PM
নিরাপত্তা ইস্যুতে এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক’কে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ওয়াশিংটনের এক আদালত।
এর আগে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কিছু শর্ত না মানায় কোম্পানিটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল সংস্থাটি।
রয়টার্স লিখেছে, এআইয়ের সামরিক ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধের জেরে তৈরি হওয়া এ আইনি লড়াইয়ে আদালতের এই অবস্থানকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসি’র এক ফেডারেল আপিল আদালত অ্যানথ্রপিক’কে পেন্টাগনের ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য এক আদালত অ্যানথ্রপিকের করা চ্যালেঞ্জে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিলেও এবার পেন্টাগনের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল ইউএস কোর্ট অফ আপিলস।
জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘ক্লড’ নির্মাতা কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের অভিযোগ, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাদের তৈরি এআই পণ্যে কিছু বিশেষ নিরাপত্তা বিধি সরাতে রাজি না হওয়ায় কোম্পানিটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ লেবেলের কারণে পেন্টাগনের কোনো কাজ বা চুক্তি পাবে না অ্যানথ্রপিক, যা ভবিষ্যতে পুরো সরকারি পর্যায়ে তাদের নিষিদ্ধ করার পথ তৈরি করতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের কর্মীরা বলছেন, এ কালো তালিকাভুক্তির ফলে কোম্পানিটি কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা হারাতে ও তাদের সুনামেরও ক্ষতি হতে পারে।
ইউএস কোর্ট অফ আপিলস-এর বিচারকদের একটি প্যানেল মামলাটি চলাকালীন এ নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তবে এটিই আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়।
বুধবারের এ আদেশের পর এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত আদালত পেন্টাগনের এ পদক্ষেপকে বেআইনি হিসেবেই বিবেচিত করবে।
অন্যদিকে, বুধবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এ রায়কে সামরিক প্রস্তুতির জন্য বড় এক জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, “সামরিক কর্তৃত্ব ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ কেবল সেনাপ্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) ও যুদ্ধ বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) হাতে থাকে, কোনো প্রযুক্তি কোম্পানির হাতে নয়।”
তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরের জন্য ট্রাম্পের দেওয়া নতুন নাম যুদ্ধ বিভাগ ব্যবহার করেছেন।
প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অ্যানথ্রপিক যে দুটি মামলা করেছে এ মামলাটি তার একটি।
নিরাপত্তা ও নৈতিক উদ্বেগের কারণে অ্যানথ্রপিক তাদের এআই চ্যাটবট ক্লড’কে মার্কিন নজরদারি বা অটোনমাস মরণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি। এরপরই হেগসেথ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হেগসেথ দুটি ভিন্ন আইনের অধীনে অ্যানথ্রপিককে কালো তালিকাভুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন ও তার প্রতিটি নির্দেশকেই আলাদাভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে কোম্পানিটি।
২৬ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ফেডারেল বিচারক হেগসেথের একটি নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ওই বিচারক বলেছেন, এআই নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করায় পেন্টাগন সম্ভবত অবৈধভাবে অ্যানথ্রপিকের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে।
অ্যানথ্রপিক’কে কালো তালিকাভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল বিরল এক ঘটনা। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মার্কিন কোম্পানিকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত এমন এক অস্পষ্ট আইনের অধীনে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা সাধারণত শত্রুদেশের নাশকতা বা অনুপ্রবেশ থেকে সামরিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
মামলায় অ্যানথ্রপিক বলেছে, এআই নিরাপত্তা নিয়ে কোম্পানিটির নিজস্ব অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়ে সরকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে তাদের বাক-স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
কোম্পানিটি দাবি, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করেছে।
এ পদক্ষেপটি বেআইনি ও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়নি। এর আগে সামরিক বাহিনী নিজেরাই যেখানে ক্লডের প্রশংসা করেছিল তাদেরই এমন সিদ্ধান্ত সংস্থাটির সেই আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ করেছে অ্যানথ্রপিক।
আদালতের নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, অ্যানথ্রপিক তাদের সিস্টেমের ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরাতে অস্বীকৃতি জানানোয় পেন্টাগনের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হত, যা সামরিক অভিযান চলাকালীন সিস্টেম অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকার দাবি করেছে, তাদের এ সিদ্ধান্ত অ্যানথ্রপিকের এআই নিরাপত্তা বিষয়ক মতামতের জন্য নয়, বরং কোম্পানিটি চুক্তির বিভিন্ন শর্ত মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় নিয়েছে তারা।
ওয়াশিংটন ডিসি’র এ মামলাটি এমন এক আইন নিয়ে, যার মাধ্যমে আন্তঃসংস্থা পর্যালোচনা শেষে এ কালো তালিকা বা ব্ল্যাকলিস্ট আরও বড় হয়ে পুরো বেসামরিক সরকারের ওপরও কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার মামলাটি নির্দিষ্ট এক আইনি ধারার ওপর ভিত্তি করে করা, যা অ্যানথ্রপিককে সামরিক তথ্য ব্যবস্থা সংক্রান্ত পেন্টাগনের সব ধরনের চুক্তি থেকে বাদ দেয়।