Published : 30 Dec 2025, 10:45 AM
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় সেখানে কর্মরত বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির ইসরায়েলি কর্মীদের মধ্যে বিদেশ চলে যাওয়ার আবেদন গত এক বছরে অনেক বেড়েছে বলে উঠে এসেছে দেশটির প্রযুক্তি শিল্প সংগঠনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
‘ইসরায়েল অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন’ বা আইএটিআই-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরায়েলি কর্মীদের কাছ থেকে বিদেশে বদলি হওয়ার আবেদনের হার বাড়ার কথা জানিয়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ কোম্পানি।
সংগঠনটি বলেছে, কর্মীদের ‘এই প্রবণতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের স্থানীয় উদ্ভাবন শক্তি ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে’।
রয়টার্স লিখেছে, ইসরায়েলের জিডিপি’র প্রায় ২০ শতাংশ, মোট কর্মসংস্থানের ১৫ শতাংশ ও রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি আসে তাদের প্রযুক্তি খাত থেকে।
সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট, চিপ নির্মাতা ইনটেল, এনভিডিয়া, ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা ও আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের মতো শত শত বহুজাতিক কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে ইসরায়েলে।
সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন
বার্ষিক প্রতিবেদনে আইএটিআই বলেছে, কিছু বহুজাতিক কোম্পানি বর্তমানে তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
আইএটিআই-এর সিইও ও প্রেসিডেন্ট কারিন মেয়ার রুবিনস্টাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় পেশ করা এই প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, “কিছু ক্ষেত্রে যেসব কোম্পানি যুদ্ধের সময় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার মুখে পড়েছিলেন তারা ইসরায়েলের বাইরে বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। সেইসব বিকল্প কার্যকর হওয়ায় এখন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যে, তাদের কার্যক্রম হয়ত ইসরায়েলে আর পুরোপুরি ফিরবে না।”
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, এসব কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে বিদেশ চলে যাওয়ার চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি কর্মী ইসরায়েলের বাইরের দেশগুলোতে চাকরির পদের জন্য আবেদন করছেন।
এরপরও কিছু বহুজাতিক কোম্পানি ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতকে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে এবং অনেক কোম্পানি যুদ্ধের মধ্যেও নিজেদের ব্যবসার উন্নতি করতে পেরেছে।
‘ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা প্রমাণ করেছে’ প্রযুক্তি খাত
আইএটিআই বলেছে, যুদ্ধের মধ্যেও নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থিতিশীল বা স্বাভাবিক রাখতে পেরেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ কোম্পানি এবং ২১ শতাংশ কোম্পানি ইসরায়েলে নিজেদের কার্যক্রম আরও বাড়িয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, “এই পরিসংখ্যান থেকে ইঙ্গিত মেলে, চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্থানীয় কার্যক্রম ও ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর বিভিন্ন কোম্পানির আস্থা বজায় রয়েছে।”
এদিকে, যুদ্ধের সময় নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতির মুখে পড়ার কথা জানিয়েছে আরও ২২ শতাংশ কোম্পানি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ পর্বটি দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এক অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে থেমেছে।
রুবিনস্টাইন বলেছেন, “ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেও ইসরায়েলি হাই-টেক শিল্প ও এখানে কর্মরত সুপরিচিত বিভিন্ন কোম্পানি আবারও নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা এবং উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
“ইসরায়েল যেন বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির কার্যক্রমের জন্য আকর্ষণীয় এক কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকে তা নিশ্চিতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।”
আইএটিআই বলেছে, “রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে স্থানীয় প্রযুক্তি খাতের এই স্থায়িত্ব ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়ার উদ্বেগ রয়েছে।”