Published : 17 Dec 2025, 07:57 PM
ভোক্তাদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগে পাঁচটি টেলিভিশন কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য।
জাপানি বহুজাতিক কোম্পানি সনি, দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাং, এলজি, হাইসেন্স ও টি সি এল নামের দুই চীনা টেলিভিশন উৎপাদক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন।
এসব কোম্পানি বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য টিভির মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
অভিযোগ অনুসারে, ভোক্তাদের অনুমতি ছাড়া তাদের দেখা প্রোগ্রাম রেকর্ড করছিল এসব কোম্পানি। এজন্য ‘অটোমেটেডে কনটেন্ট রিকগনিশন’ বা এসিআর নামের স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এসব কোম্পানি।
এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকরা টিভিতে কী দেখছেন তা ‘চিহ্নিত করা’ যায় এবং তা ডেটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে রেকর্ডও করা সম্ভব। সহজভাবে বললে, গ্রহকের টিভি দেখার তথ্য চুপিসারে তাদের হাতে যাচ্ছে এবং তারা জানে গ্রাহক কোন প্রোগ্রাম দেখছেন এবং সেই তথ্য সংগ্রহ করছে তারা।
এসিআর প্রযুক্তি হচ্ছে ভিডিওর জন্য এক ধরনের ‘শাজাম’। তবে সাধারণ শাজামের মতো গান চেনার জন্য নয়, বরং ব্যবহারকারীরর দেখার অভ্যাস টার্গেট করে বিজ্ঞাপনদাতাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এই প্রযুক্তি।
টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বলেছেস, “এ সফটওয়্যারটি প্রতি ৫০০ মিলিসেকেন্ডে টিভির স্ক্রিনের স্ক্রিনশট নিতে, রিয়েল-টাইমে আপনার দেখার কার্যক্রম মনিটর করতে এবং আপনার অনুমতি বা জ্ঞানের বাইরে সেইসব তথ্য কোম্পানির কাছে পাঠাতে পারে।”
এলজি বলেছে, “এসিআর প্রযুক্তি বিজ্ঞাপনদাতাদের কেবল সাহায্য করে তারা কী দেখছেন তার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেখাতে, যেমন কোন অনুষ্ঠান, চ্যানেল, অ্যাপ বা অন্যান্য পরিষেবার বেলায়। কারো ডিভাইসে যা কিছু চলছে তা সবকিছু ট্র্যাক করতে পারার কারণে দেশ, শহর বা জিপ কোড অনুসারে ভোক্তার কেনাকাটা বা সাবস্ক্রিপশন শনাক্ত, গেইমারদের খেলার অভ্যাসের ওপর নজর রাখা ও ব্যবহারকারীর অবস্থান চিহ্নিত করতে পারে এই প্রযুক্তি।”
টিভিতে এই এসিআর প্রযুক্তি বন্ধের জন্য সেটিং থাকা উচিত। তবে এলজি’র বিরুদ্ধে মামলায় টেক্সাস বলেছে, টিভি সফটওয়্যার সাধারণত ‘চতুর উপায়ে ব্যবহারকারীদের এসিআর চালু করতে উস্কে দিয়েছে এবং এজন্য কোম্পানিটি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা আইনগত ভাষায় খুব জটিল। ফলে মানুষজন তা পড়তে বা বুঝতেও পারেন না’।
হাইসেন্স ও টি সি এল– এ দুই কোম্পানির মূল দেশ চীন তা বিশেষভাবে উল্লেখ করে প্যাক্সটন বলেছেন, “এসব চীনা কোম্পানি ভোক্তাদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কারণে এ ঝুঁকি আরও তীব্র হয়েছে। কারণ চীনা নিরাপত্তা আইনে এসব কোম্পানি মাধ্যমে মার্কিন ভোক্তাদের তথ্য পেতে পারে দেশটির সরকার।”