Published : 12 Aug 2026, 05:54 PM
চাঁদ যখন সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। এবারের গ্রহণ উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের কিছু এলাকায় এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে।
বাংলাদেশে অবশ্য এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ নেই। গ্রহণটি পৃথিবীর যে অংশের ওপর দিয়ে যাবে, বাংলাদেশ সেই দৃশ্যমান অঞ্চলের মধ্যে পড়ছে না। ফলে দেশের আকাশে সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য অপেক্ষা করলেও তা দেখা যাবে না।
এ নিয়ে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রহণ পৃথিবীর ওপর দিয়ে ভিন্ন সময়ে অতিক্রম করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সময়ের পার্থক্যও এতে ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে গ্রহণটি নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গ্রহণ দেখার বিশেষ চশমা বিক্রি হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। অনেকে আবার গ্রহণ দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো স্থান খুঁজছেন।
তবে সূর্যগ্রহণ দেখার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। সাধারণ রোদচশমা পরেও সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ নয়।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, “গ্রহণের সময় সূর্য স্বাভাবিকের চেয়ে ম্লান দেখায়। এতে সরাসরি তাকানো সহজ মনে হয়, আর সমস্যাটাও ঠিক সেখানেই।”
সংস্থাটি আরও বলেছে, “কম উজ্জ্বলতার মধ্যেও সূর্যের আলো রেটিনায় পৌঁছে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
“এই ক্ষতি কোনো ব্যথা ছাড়াই হতে পারে। ফলে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনি বুঝতেও নাও পারেন যে চোখের ক্ষতি হচ্ছে।”
১৯৯৯ সালের সূর্যগ্রহণের পর রয়্যাল কলেজ অফ অপথ্যালমোলজিস্টস দর্শকদের মধ্যে দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যার প্রায় ৭০টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ এক মিনিটেরও কম সময় সূর্যের দিকে তাকিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার মতে, সাধারণ রোদচশমা যতই গাঢ় হোক, সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য তা যথেষ্ট সুরক্ষা দেয় না।
তবে বাংলাদেশ থেকে এবারের গ্রহণ সরাসরি দেখা যাবে না। তাই দেশের দর্শকদের জন্য সূর্যের দিকে তাকিয়ে এটি দেখার চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই।