Published : 28 Nov 2025, 03:06 PM
টিনএজার ছেলেকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছে বা ‘কোচ’ হিসেবে কাজ করেছে চ্যাটজিপিটি– মামলার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে চ্যাটবটির নির্মাতা ওপেনএআই। কোম্পানিটি বলেছে, ওই টিনএজারের মৃত্যুর জন্য তারা দায়ী নয়।
অগাস্টে ওপেনএআই ও এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গত এপ্রিলে মারা যাওয়া ১৬ বছর বয়সী টিনএজার অ্যাডাম রেইনের মা-বাবা।
ওই মা-বাবার অভিযোগ, তাদের সন্তান রেইনকে দড়ি দিয়ে ফাঁস বাঁধার নিয়ম শেখানোর পাশাপাশি আত্মহত্যার চিঠি বা সুইসাইড নোট লিখতে সাহায্য করেছিল ওপেনএআইয়ের চ্যাটবটটি।
মঙ্গলবার স্যান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া সুপিরিয়র কোর্টে দেওয়া এক নথিতে ওপেনএআই বলেছে, রেইনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে চ্যাটজিপিটির ‘ভুল ব্যবহার এবং অননুমোদিত উদ্দেশ্যে, অপ্রত্যাশিত ও অনুপযোগী ব্যবহারের’ মতো বিষয় থাকতে পারে।
কোম্পানিট আরও বলেছে, রেইনের ‘পুরো চ্যাটিং হিস্ট্রি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তার মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও তা চ্যাটজিপিটির কারণে ঘটেনি’।
ওপেনএআইয়ের দাখিল করা এ নথিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন রেইনের পরিবার পক্ষের আইনজীবী।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেইন পরিবারের আইনজীবী জে এডেলসন বলেছেন, “অন্য সবকিছুর মধ্যে দোষ খোঁজার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। বিস্ময়করভাবে ওপেনএআই এমন যুক্তিও দিচ্ছে, যেখানে রেইন নিজেই না কি অ্যাপটির নিয়ম ভেঙেছে। আসলে রেইন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঠিক সেভাবেই আলাপ করেছিল যেভাবে অ্যাপটির সফটওয়্যারটিকে প্রোগ্রাম করে বানিয়েছে কোম্পানিটি।
চ্যাটজিপিটিকে নিয়ে এমন একাধিক মামলা চলছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, কিছু মানুষকে আত্মহত্যা বা ক্ষতিকর ভ্রান্ত ধারণার দিকে ঠেলে দিয়েছে চ্যাটবটটি।
সেপ্টেম্বরে রেইনের মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, কীভাবে তাদের সন্তান মারা গেছে এবং সেখানে মন মা-বাবারাও ছিলেন যাদের সন্তানরাও এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলার পর আত্মহত্যা করেছিল, প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
রেইনের বাবা ম্যাথিউ রেইন সেনেটরদেরকে বলেছিলেন, “যা শুরু হয়েছিল লেখাপড়া বা হোমওয়ার্কে সাহায্যকারী হিসেবে তা ধীরে ধীরে একসময় বন্ধুর মতো হয়ে উঠল এবং শেষ পর্যন্ত আমার ছেলের আত্মহত্যার পরামর্শক হয়ে গেল”।
“কয়েক মাসের মধ্যেই রেইনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হয়ে উঠেছিল চ্যাটজিপিটি। সবসময় তার সঙ্গে থাকত চ্যাটবটটি। সবসময় তার কথাকে সমর্থন ও জোর দিয়ে বলত যে, সে রেইনকে সবার চেয়ে ভালো চেনে, এমনকি তার নিজের ভাইয়ের চেয়েও।”
এ ঘটনার পর টিনএজারদের জন্য নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে ওপেনএআই। এর মধ্যে এমন কিছু টুল রয়েছে, যা মা-বাবাকে ‘ব্লাকআউট আওয়ার্স’ সেট করার সুযোগ দিয়েছে। এ টুলের মাধ্যমে মা-বাবারা সময় ঠিক করে দিতে পারেন যে তাদের সন্তানরা কখন চ্যাটচিপিটি ব্যবহার করতে পারবে ও কখন পারবে না।
সর্বশেষ আইনি নথিতেও এ টুলের বিষয়ে উল্লেখ করে ওপেনএআই বলেছে, রেইনকে সংকটকালীন সহায়তা, যেমন আত্মহত্যা হটলাইন ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ‘একশরও বেশিবার’ পরামর্শ দিয়েছে চ্যাটবটটি।
আরও পড়ুন…
ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলায় আত্মহত্যা করা টিনএজারের মা-বাবা