Published : 09 Jan 2026, 10:37 AM
ল্যাপটপ নির্মাতাদের জন্য নতুন বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা সিইএস। এবারের মেলায় নতুন ফ্ল্যাগশিপ ল্যাপটপ, গেইমারদের কথা মাথায় রেখে নতুনভাবে তৈরি গেইমিং নোটবুক ও ল্যাপটপের জনপ্রিয় বিভিন্ন সিরিজের উন্নত সংস্করণ দেখিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি।
অনেক পণ্যের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসছে এবং সরাসরি সেগুলো পরখ করেও দেখছেন দর্শনার্থীরা। এ মেলার এরপরও বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের নতুন পণ্যের তথ্য প্রকাশ করবে। ফলে, এই তালিকায় আরও ল্যাপটপ যুক্ত হতে পারে।
এখন পর্যন্ত উন্মোচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নজরকাড়া ল্যাপটপগুলোয় একবার নজর বুলানো যাক–
লেনোভো লিজিয়ন প্রো রোলএবল
২০২৬ সালের সিইএস মেলায় অনেক ল্যাপটপ নিয়ে হাজির হয়েছে লেনোভো। যার মধ্যে রয়েছে একদম নতুন কনসেপ্ট থেকে শুরু করে বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত সব ধরনের ডিজাইন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ কনসেপ্ট ছিল ‘লিজিয়ন প্রো রোলএবল’ নামের ল্যাপটপটি, যা মূলত একটি গেইমিং ল্যাপটপ।
এতে ফ্লেক্সিবল ওএলইডি প্যানেল ব্যবহৃত হয়েছে। এর স্ক্রিনটি সাধারণ ১৬ ইঞ্চি আকার থেকে পাশের দিকে প্রসারিত হয়ে ২১ দশমিক ৫ ইঞ্চি বা ২৩ দশমিক ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় হতে পারে। ফলে স্ক্রিনের অনুপাত বা রেশিও ১৬:১০ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ২১:৯, এমনকি ২৪:৯ পর্যন্ত হয়ে যায়।
ফ্লাইট সিমুলেটর, রেসিং গেইম বা ওপেন-ওয়ার্ল্ড গেইমের জন্য এ ‘আল্ট্রাওয়াইড ভিউ’ বা প্রশস্ত পর্দা দারুণ কার্যকর। তবে খুব কাছ থেকে দেখলে এর কারিগরি বিভিন্ন কলকব্জা এখনও প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
এ মেলায় ‘এক্সডি রোলএবল’ নামের কনসেপ্ট ল্যাপটপও দেখিয়েছে লেনোভো। আগেরটির তুলনায় কিছুটা পরিচিত ধাঁচের এ ল্যাপটপে একটি বাটন চাপলেই ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চির ওএলইডি স্ক্রিনটি প্রসারিত হয়ে ১৬ ইঞ্চিতে পরিণত হয়।
তবে এর বিশেষত্ব হচ্ছে, ডিসপ্লে বা স্ক্রিনের বাড়তি অংশ ল্যাপটপের ঢাকনার পেছনের দিকে মোড়ানো থাকে। ফলে ল্যাপটপের উল্টো পাশে এটি এক সেকেন্ডারি স্ক্রিন হিসেবে কাজ করে, যেখানে সামনের স্ক্রিনের কনটেন্ট অন্যদের দেখানো যায় বা আলাদা তথ্য থাকে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি বুক৬ সিরিজ
২০২৬ সালের সিইএস মেলায় ‘গ্যালাক্সি বুক৬’ সিরিজের ঘোষণা দিয়েছে স্যামসাং। ইনটেলের ‘প্যান্থার লেক’ চিপ দিয়ে তৈরি এ সিরিজের তিনটি নতুন ল্যাপটপ হচ্ছে ‘গ্যালাক্সি বুক৬’, ‘বুক৬ প্রো’ ও ‘বুক৬ আল্ট্রা’।
এ বছরের বিভিন্ন ল্যাপটপে আরও পাতলা ডিজাইন, উন্নত কুলিং সিস্টেম ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির ওপর জোর দিয়েছে কোম্পানিটি। স্যামসাংয়ের দাবি, তাদের বুক৬ আল্ট্রা ও প্রো মডেলে একটানা ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও দেখা সম্ভব।

এ সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যাপটপ ১৬ ইঞ্চির গ্যালাক্সি বুক৬ আল্ট্রা। এতে ইনটেল কোর আল্ট্রা এক্স৯ প্রসেসর, ইনটেল আর্ক গ্রাফিক্স ও এনভিডিয়া আরটিএক্স ৫০-সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
স্যামসাংয়ের দাবি, আগের প্রজন্মের গ্যালাক্সি বুকের তুলনায় এই আল্ট্রা মডেলটি ১ দশমিক ৬ গুণ শক্তিশালী প্রসেসর পারফরম্যান্স এবং ১ দশমিক ৭ গুণ উন্নত গ্রাফিক্স সুবিধা দেবে।
ল্যাপটপটিকে ঠান্ডা রাখার জন্য এতে বড় আকারের ‘ভেপার চেম্বার’ ও গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য নতুন ‘ডুয়াল-পাথ’ ফ্যান সিস্টেম ব্যবহার করেছে স্যামসাং। তবে এগুলোর দাম ও বাজারে আসার তারিখ এখনও বলেনি কোম্পানিটি।
আসুস আরওজি জেফায়রাস ডুয়ো
২০২৬ সালের সিইএস মেলায় নিজেদের ‘আরওজি জেফায়রাস ডুয়ো’ নামের ল্যাপটপের মাধ্যমে গেইমিংয়ের দুনিয়ায় ডুয়াল-স্ক্রিন বা দ্বৈত পর্দার ডিজাইন নিয়ে এসেছে আসুস।
এ ল্যাপটপটিতে উচ্চমানের গেইমিং হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি দুটি পূর্ণ আকারের ১৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয়েছে। সাধারণ কাজের জন্য তৈরি ডুয়াল স্ক্রিন সিস্টেমের মতো না হয়ে ‘জেফায়রাস ডুয়ো’কে হাইব্রিড মেশিন হিসেবে তৈরি করেছে কোম্পানিটি, যা একইসঙ্গে গেইমিং, কনটেন্ট তৈরি ও একাধারে অনেক কাজের সুবিধা দেবে।

ল্যাপটপের দুটি ১৬ ইঞ্চি ‘নেবুলা ওএলইডি’ প্যানেলই এইচডিআর সমর্থন করবে এবং এগুলোর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১১০০ নিটস পর্যন্ত। এ ছাড়া এতে ‘এনভিডিয়া জি-সিংক’, স্টাইলাস পেন ব্যবহারের সুবিধা এবং নিখুঁত রং দেখার নিশ্চয়তাও রয়েছে।
ল্যাপটপটির কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে এতে ইনটেলের সর্বশেষ কোর আল্ট্রা প্রসেসর ও এনভিডিয়া আরটিএক্স ৫০-সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহৃত হয়েছে। ১৩৫ ওয়াটের পাওয়ার লিমিট হওয়ার কারণে একক পর্দার শক্তিশালী গেইমিং ল্যাপটপের মতো গতি দিতে পারবে না এই ল্যাপটপ।
তবে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতির চেয়ে বহুমুখী ব্যবহারের সুবিধাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে আসুস। ল্যাপটপটির দাম ও বাজারে আসার তারিখ এখনও ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি।
এইচপি ওমনিবুক আল্ট্রা ১৪
২০২৬ সালের সিইএস মেলায় নতুন ফ্ল্যাগশিপ কনজিউমার ল্যাপটপ ‘ওমনিবুক আল্ট্রা ১৪’ দেখিয়েছে এইচপি। এই প্রিমিয়াম ল্যাপটপটি অনেক পাতলা হওয়ার পরও বেশ মজবুতভাবে তৈরি। ল্যাপটপটি কেবল ১০ দশমিক ৭ মিলিমিটার পুরু ও এর ওজন ১২৭০ গ্রাম।
এইচপি’র দাবি, ২০টি ভিন্ন ভিন্ন ‘মিলিটারি-গ্রেড’ স্থায়িত্ব পরীক্ষায় পাস করেছে এই ল্যাপটপ, যার মধ্যে ধাক্কা সামলানো, উপর থেকে পড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
সাধারণ কাঠামোর বদলে এইচপি এতে বিশেষভাবে তৈরি ‘ফোরজ-স্ট্যাম্পড’ অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করেছে, যা ল্যাপটপটিকে আরও শক্তিশালী ও সহজে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।
ল্যাপটপটিতে রয়েছে একটি থ্রি-কে ওএলইডি ডিসপ্লে। এতে রয়েছে সর্বোচ্চ ৬৪ জিবি র্যাম ও ২ টেরাবাইট স্টোরেজ ব্যবহারের সুবিধা। ক্রেতারা পছন্দমতো ইনটেল কোর আল্ট্রা প্রসেসর বা কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন এক্স২ এলিট-এর মধ্যে যে কোনোটি বেছে নিতে পারবেন।

স্ন্যাপড্রাগন সংস্করণে শক্তিশালী এনপিইউ দিয়েছে কোম্পানিটি, যা এআই সংক্রান্ত কাজের জন্য ৮৫ টপস পর্যন্ত সক্ষমতা দেবে। এত পাতলা কাঠামো হওয়ার পরও একটানা ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে এই প্রথম ওমনিবুক সিরিজে ‘ভেপার চেম্বার’ কুলিং সিস্টেম যোগ করেছে এইচপি।
ওমনিবুক আল্ট্রা ১৪ এ মাসের শেষের দিকে বাজারে আসবে, যার শুরুর দাম হবে ১ হাজার ৫৫০ ডলার থেকে।
এইচপি ওমেন ম্যাক্স ১৬
২০২৬ সালের সিইএস মেলায় গেইমিং ল্যাপটপ সিরিজেও পরিবর্তন এনেছে এইচপি, যেখানে ‘ওমেন ম্যাক্স ১৬’ উন্মোচন করেছে তারা। একে নিজেদের এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ১৬-ইঞ্চির গেইমিং ল্যাপটপ হিসেবেও বর্ণনা করছে কোম্পানিটি।
ল্যাপটপটিতে ইনটেল কোর আল্ট্রা ২০০এইচএক্স প্রসেসর ও এনভিডিয়া আরটিএক্স ৫০-সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার হয়েছে। এইচপি’র মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতেই ল্যাপটপের এসব কনফিগারেশন তৈরি করেছে এইচপি।
দীর্ঘক্ষণ গেইম খেলার ধকল সামলানোর জন্য তৈরি ওমেন ম্যাক্স ১৬-এ রয়েছে উন্নত কুলিং ব্যবস্থা ও উচ্চ রিফ্রেশ-রেট সম্পন্ন ডিসপ্লে, যা মূলত পেশাদার গেইমারদের কথা মাথায় রেখে বানিয়েছে কোম্পানিটি।
এ ল্যাপটপটিকে নিজেদের ওমেন সিরিজের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে এইচপি। সাধারণ গেইমারদের জন্য আনা ওমেন ১৫ ও ওমেন ১৬-এর উন্নত বিভিন্ন সংস্করণের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও দামী হবে।
ওমেন ম্যাক্স ১৬-এর দাম ও কবে নাগাদ বাজারে পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি কোম্পানিটি। এ বছরের শেষদিকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারে এইচপি।
এসার সুইফট ১৬ এআই
২০২৬ সালের সিইএস মেলায় ফ্ল্যাগশিপ ‘সুইফট’ সিরিজে নতুন ‘সুইফট ১৬ এআই’ যোগ করেছে এসার। বড় পর্দার এ ল্যাপটপটি মূলত উন্নত ইনপুট প্রযুক্তি ও ডিসপ্লের মানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করেছে কোম্পানিটি।
ল্যাপটপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ‘হ্যাপটিক টাচপ্যাড’, যা এসারের দাবি অনুসারে বিশ্বে বৃহত্তম। এ টাচপ্যাডটি ‘এমপিপি ২.৫’ স্টাইলাস পেন সমর্থন করে এবং সৃজনশীল ও দাপ্তরিক কাজ নিখুঁতভাবে করার সুবিধা দেবে।
ল্যাপটপটিতে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির একটি থ্রি-কে ওএলইডি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে। এতে এইচডিআর সাপোর্ট, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও নিখুঁত রঙের জন্য একশ শতাংশ ‘ডিসিআই-পি৩’ কালার কভারেজ দিয়েছে এসার।
পারফরম্যান্সের জন্য এতে সর্বোচ্চ ইনটেল কোর আল্ট্রা এক্স৯ প্রসেসর ও ইনটেল আর্ক গ্রাফিক্স ব্যবহার করা যাবে। এতে আরও রয়েছে ৩২ জিবি পর্যন্ত র্যাম ও ২ টেরাবাইট স্টোরেজ সুবিধা। বড় ডিসপ্লের পরও ল্যাপটপটি কেবল ১৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার পুরু ও এর ওজন প্রায় ১৫৫০ গ্রাম।
তবে এর দাম ও কবে থেকে ল্যাপটপটি বাজারে পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে এখনও কিছু বলেনি এসার।
ডেল এক্সপিএস ১৩, এক্সপিএস ১৪ ও এক্সপিএস ১৬
গত বছর নিজেদের জনপ্রিয় ‘এক্সপিএস’ ব্র্যান্ড বন্ধ করে দিয়েছিল ডেল। তবে এ বছর নিজেদের ভুল স্বীকার করে আবারও তা ফিরিয়ে এনেছে কোম্পানিটি।
পণ্য কেনাবেচাকে সহজ করার বদলে আগের ওই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি সাধারণ ক্রেতা ও প্রযুক্তি সাংবাদিকদের বেশ বিভ্রান্ত করেছিল। কারণ সবার কাছেই ‘এক্সপিএস’ সিরিজটি ছিল উন্নতমানের এক অনন্য নাম।
এখন আবারও নিজেদের পুরানো সেই সুনামে ফিরে যাচ্ছে এবং নতুন করে সাজানো একগুচ্ছ এক্সপিএস ল্যাপটপ নিয়ে আসছে ডেল। যার মধ্যে রয়েছে নতুন ‘ডেল এক্সপিএস ১৩’, ‘এক্সপিএস ১৪’ ও ‘এক্সপিএস ১৬’।
তবে প্রতিটি মডেলের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি এগুলো কবে বাজারে আসবে সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি ডেল।
এলিয়েনওয়্যার ‘১৬এক্স অরোরা’ ও ‘১৬ এরিয়া-৫১’
নতুন ল্যাপটপের ঝলক দেখানোর পাশাপাশি নিজেদের বর্তমান বেশ কিছু ল্যাপটপের আপডেট ঘোষণা করেছে এলিয়েনওয়্যার। ‘১৬এক্স অরোরা’ ও ‘১৬ এরিয়া-৫১’ নামের ল্যাপটপে এখন নতুন অ্যান্টি-গ্লেয়ার ওএলইডি প্যানেল ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি।
এসব ল্যাপটপে সর্বোচ্চ ৬২০ নিটস এইচডিআর উজ্জ্বলতা ও কেবল দশমিক ২ মিলিসেকেন্ড রেসপন্স টাইম পাওয়া যাবে। এ ছাড়া এতে ব্যবহৃত হয়েছে ইনটেল কোর আল্ট্রা ২০০এইচএক্স প্রসেসর।
একই প্রসেসর দিয়ে ‘১৮ এরিয়া-৫১’ মডেলটিকেও নতুনভাবে সাজিয়েছে এলিয়েনওয়্যার। কোম্পানিটি বলেছে, আপডেট করা এসব ল্যাপটপ ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই বাজারে আসবে। তবে এগুলোর দাম এখনও ঘোষণা করেনি তারা।