Published : 26 Nov 2025, 03:38 PM
এক্স প্ল্যাটফর্মে এমন অনেক জনপ্রিয় বা বেশি ফলোয়ার সংখ্যার অ্যাকাউন্ট আছে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে রয়েছে, এসব অ্যাকাউন্ট বৈধ নয়। নতুন এক ফিচারের কারণে এ অভিযোগ নতুন করে আবার সামনে এসেছে। কারণ, ওই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান প্রকাশ করে দেয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা লক্ষ্য করেছেন, আমেরিকার রাজনীতি সম্পর্কে পোস্ট করা কিছু ট্রাম্প-পন্থী অ্যাকাউন্ট আসলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের কিছু অ্যাকাউন্টের অবস্থানও বিভ্রান্তিকর বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এ ধরনের কিছু অ্যাকাউন্টের পোস্টে লাখ লাখ ভিউ, লাইক, রিপোস্ট এবং রিপ্লাইও রয়েছে। ফলে এক্স থেকে এসব অ্যাকাউন্টের অর্থ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে এক্স-এর সরবরাহ করা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
এক্স বলছে তাদের তথ্য ‘৯৯ শতাংশ সঠিক’
নতুন ফিচারের আওতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে অ্যাকাউন্টের অবস্থানের তথ্যে ‘অ্যাবাউট দিজ অ্যাকাউন্ট’ নামে নতুন এক ট্যাব দেখাচ্ছে, যা প্রতিটি প্রোফাইলের জন্যই প্রযোজ্য।
এ ফিচারে সতর্কতা হিসেবে লেখা রয়েছে, অবস্থানের তথ্যে সাম্প্রতিক ভ্রমণ ও ‘ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক’ বা ভিপিএন ব্যবহারের কারণে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এক্স-এর পণ্য প্রধান নিকিতা বিয়ার বলেছেন, প্লাটফর্মটির এসব তথ্য ৯৯ শতাংশ সঠিক।
শনিবার এক্স অ্যাকাউন্ট ‘ট্রাম্প আর্মি’ থেকে নেওয়া একটি স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওই পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের এমন এক রায় রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের এল সালভাদোরে পাঠানোর অধিকার পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
এরপর অ্যাকাউন্টটি পাঁচ লাখেরও বেশি ফলোয়ার পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন রিপাবলিকান একজন জ্যেষ্ঠ সেনেটরও।
তবে এক্স-এর তথ্য অনুসারে, অ্যাকাউন্টটি ভারতভিত্তিক এবং মার্চ ২০২২ থেকে এর ব্যবহারকারীর নাম চারবার পরিবর্তিত হয়েছে। এখন এ অ্যাকাউন্টের প্রোফাইলে লেখা আছে, তিনি ‘একজন ভারতীয়, যিনি আমেরিকা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মাস্ককে ভালোবাসেন!’
‘ইভাঙ্কানিউজ’ নামের আরেকটি অ্যাকাউন্ট নিজেকে ট্রাম্পের মেয়ের ফ্যান অ্যাকাউন্ট হিসাবে দাবি করেছে, যার ১০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে এবং গত বছর প্রেসিডেন্টকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে পোস্টও করেছে অ্যাকাউন্টটি।
তবে এক্স-এর তথ্য বলছে, অ্যাকাউন্টটি নাইজেরিয়াভিত্তিক এবং ২০১০ সাল থেকে এর ব্যবহারকারীর নাম ১১বার পরিবর্তিত হয়েছে।
অ্যাকাউন্টটির অবস্থান প্রকাশের পর এক পোস্ট তারা বলেছে, “আমাদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করছি তারা সত্যিই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আন্দোলনকে সমর্থন করি।”
বর্তমানে ‘ইভাঙ্কানিউজ’ অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করেছে এক্স। তবে এর কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
কেনিয়ার একজন ‘গর্বিত ডেমোক্র্যাট’
‘বিবিসি ভেরিফাই’ এমন কিছু অ্যাকাউন্টের উদাহরণও পেয়েছে, যেখানে কিছু অ্যাকাউন্ট ট্রাম্প-বিরোধী পোস্ট শেয়ার করলেও এক্স-এর নতুন ফিচার অনুসারে এসব অ্যাকাউন্ট আসলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত।
৫২ হাজার ফলোয়ার রয়েছে এমন এক অ্যাকাউন্ট নিজেকে ‘গর্বিত ডেমোক্র্যাট’ ও ‘পেশাদার মাগা হান্টার’ বলে দাবি করেছে। তবে তার অবস্থান প্রকাশ পাওয়ার পর নিজের প্রোফাইল মুছে দিয়েছেন অ্যাকাউন্টধারী।
স্কটিশ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়েছে
‘ভেরিফাই’ এমন কয়েকটি অ্যাকাউন্টও খুঁজে পেয়েছে, যারা নিজেদের স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা দাবি করে ও পুরোপুরি স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করছে।
তবে এক্স-এর তথ্য অনুসারে, এসব অ্যাকাউন্ট ইরান থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর অনুসারীর সংখ্যা খুবই কম। ভেরিফাই এসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো উত্তর পায়নি।
‘ভান করে অর্থ উপার্জন’
এসব অ্যাকাউন্টের বেশিরভাগেরই ব্লু টিক রয়েছে, অর্থাৎ এক্স-এর প্রিমিয়াম ফিচার সাবস্ক্রাইব করেছে তারা এবং নিজেদের পোস্টের এনগেজমেন্ট রেটের ওপর নির্ভর করে সম্ভাব্যভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারে এসব অ্যাকাউন্ট।
প্লাটফর্মটির ‘মনিটাইজেশন প্রোগ্রাম’-এ অংশগ্রহণের জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয় এক্স ব্যবহারকারীদের, যার মধ্যে রয়েছে পরিচয় যাচাই ও তিন মাসের মধ্যে ৫০ লাখের বেশি ইমপ্রেশন পাওয়া।
‘কর্নেল টেক’-এর অ্যালেক্সিওস ম্যান্টজার্লিস বলেছেন, ব্লু টিকওয়ালা বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
“এসব অ্যাকাউন্টের ব্লু টিক আমাদের একটিই কথা বলে, আর যা আমাদের আগেই জানা, এক্স-এর পে-ফর-প্লে ব্যাজিং কেবল আয় অর্জনের একটি মাধ্যম, কোনো যাচাইকরণ প্রচেষ্টা নয়।”
তবে তিনি বলেছেন, ‘কমিউনিটি নোটস’-এর মতো অন্যান্য ফিচারও ব্যবহারকারীদের ভাইরাল পোস্টে প্রাসঙ্গিক তথ্য যোগের সুযোগ দিয়েছে, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, প্ল্যাটফর্মটি স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
গবেষকেরা বলছেন, কোনো অ্যাকাউন্ট কেন এর অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ নয় তার পেছনে প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
‘ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি’র মিডিয়া ফরেনসিক হাবের ভুল তথ্য বিশেষজ্ঞ ড্যারেন লিনভিল বলেছেন, “কিছু অ্যাকাউন্ট ট্রোল ফার্মের মাধ্যমে চলে, কিছু রাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয় আবার কিছু কেবল আমেরিকান হিসেবে ভান করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে।”
গবেষক ম্যান্টজার্লিসও একমত যে, এক্ষেত্রে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।