Published : 26 Jan 2026, 06:25 PM
পোল্যান্ডের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গত ডিসেম্বরে চালানো ভয়াবহ সাইবার হামলার পেছনে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার হ্যাকিং ইউনিট জড়িত বলে দাবি করেছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা।
শুক্রবার স্লোভাকিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ইসেট’-এর গবেষকরা বলেছেন, পোল্যান্ডের জ্বালানি অবকাঠামো অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিসেম্বরে যে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছিল তার পেছনে সম্ভবত রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কুখ্যাত হ্যাকিং ইউনিট ‘স্যান্ডওয়ার্ম’ জড়িত। অতীতেও এ হ্যাকিং দলটির বিভিন্ন বিধ্বংসী সাইবার হামলা চালানোর রেকর্ড রয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, এ হামলায় ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর বিভিন্ন সফটওয়্যার বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, এ সাইবার হামলার ধরন ও ব্যবহৃত কোডের সঙ্গে দলটির আগের বিধ্বংসী হামলাগুলোর মিল রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, এ হামলার পেছনে ‘স্যান্ডওয়ার্ম’ হ্যাকিং দলটিই জড়িত।
এদিকে, এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস।
গবেষকরা বলছেন, ‘ডাইনোওয়াইপার’ নামের ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল হ্যাকাররা, যা কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ধ্বংস ও সিস্টেমকে অকেজো করতে পারত।
তবে গবেষকরা বলেছেন, “আমাদের জানামতে এ সাইবার হামলার ফলে পোল্যান্ডে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেনি।”
গবেষকদের এমন বক্তব্য পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্কের ১৫ জানুয়ারির দাবির সঙ্গে মিলে যায়, সেখানে তিনি বলেছিলেন, এ হামলা সফলভাবে রুখে দিয়েছে পোল্যান্ড সরকার।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী মিলোস মোটিকা ১৩ জানুয়ারি সাংবাদিকদের বলেছেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে তা ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর করা সবচেয়ে বড় আক্রমণ।
মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকারের মতে, ‘স্যান্ডওয়ার্ম’ হ্যাকার দলটি রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের একটি অংশ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেশ কিছু আলোচিত ও বিধ্বংসী সাইবার হামলার সঙ্গে এই দলটির নাম জড়িয়ে আছে।
ইসেট-এর গবেষকরা বলেছেন, ইউক্রেইনের পাওয়ার গ্রিডে প্রথম ঐতিহাসিক সাইবার হামলার ঠিক ১০ বছর পূর্তিতে ডিসেম্বরে পোল্যান্ডে এ নতুন হামলাটি চালানো হল।
ইউক্রেইনের ওই হামলাটিই ছিল ‘ইতিহাসের প্রথম এমন সাইবার আক্রমণ, যার ফলে কোনো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল বা ব্ল্যাকআউট হয়ে গিয়েছিল’।