১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মাটিতে মিশে যাবে চকলেটের তৈরি এই নতুন সার্কিট বোর্ড

বোর্ডটি তৈরিতে কাগজ ও চকলেট পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ব্যবহারের পর সাধারণ মাটির কম্পোস্ট বা সারের গর্তেই তা নিরাপদে নষ্ট বা মিশিয়ে ফেলা সম্ভব।

মাটিতে মিশে যাবে চকলেটের তৈরি এই নতুন সার্কিট বোর্ড
নতুন এ সার্কিট বোর্ড প্রচলিত বোর্ডের মতোই সমান সক্ষমতায় কাজ করে। ছবি: ইউনিভার্সিটি অফ গ্লাসগো

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jan 2026, 05:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:46 PM

প্রকৌশলীরা নতুন ধরনের বায়োডিগ্রেডএবল বা পচনশীল সার্কিট বোর্ড উদ্ভাবন করেছেন, যা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে পারে বলে দাবি তাদের।

পরিবেশবান্ধব সার্কিট বোর্ডটি তৈরি করেছে ‘ইউনিভার্সিটি অফ গ্লাসগো’-এর একদল গবেষক। বোর্ডটি তৈরিতে কাগজ, বায়োপ্লাস্টিক ও চকলেট পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবহারের পর সাধারণ মাটির কম্পোস্ট বা সারের গর্তেই তা নিরাপদে নষ্ট বা মিশিয়ে ফেলা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।

গবেষকরা বলছেন, এ অভাবনীয় সাফল্যের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রচলিত সার্কিট বোর্ডে ব্যবহৃত তামার পরিবর্তে দস্তা ব্যবহার করে পচনশীল পৃষ্ঠতলের ওপর ইলেকট্রনিক সার্কিট প্রিন্ট করার নতুন এক পদ্ধতি।

নতুন এসব সার্কিট বোর্ড প্রচলিত বোর্ডের মতোই সমান সক্ষমতায় কাজ করে এবং এরইমধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে এর সফল পরীক্ষা হয়েছে, যার মধ্যে এলইডি কাউন্টার ও তাপমাত্রা পরিমাপের সেন্সর অন্যতম।

‘ইউনিভার্সিটি অফ গ্লাসগো’র ‘জেমস ওয়াট স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অধ্যাপক জেফ কেটল বলেছেন, “আমাদের কাজের মূল দিক হচ্ছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রায় যে কোনো বেইস উপাদান ব্যবহার করা সম্ভব। যার মধ্যে কাগজ ও বায়োপ্লাস্টিক থেকে শুরু করে ‘খেতে খুব একটা মজা নয়’ এমন চকলেটও রয়েছে।

“আমরা এখন এ কৌশলটিকে মোল্ডেবল বা ছাঁচে ঢালাইযোগ্য ইলেকট্রনিক্স বা বায়োসেন্সিং-এর মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগানোর উপায় খুঁজছি। খুব সাশ্রয়ী ও বহুমুখী উপায়ে উচ্চমানের সার্কিট তৈরির এ পদ্ধতি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলেই দারুণ সুবিধা দিতে পারে।”

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য ফেলা হয়েছে। এসব ই-বর্জ্য সমস্যার নতুন ও কার্যকর সমাধান দিচ্ছে এ প্রযুক্তি।

গবেষণাটির নেতৃত্বে আছেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ গ্লাসগো’র ‘জেমস ওয়াট স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ড. জোনাথন হারওয়েল। তিনি বলেছেন, “সার্কুলার ইলেকট্রনিক্স বা চক্রাকার ইলেকট্রনিক্সের দিকে বড় পদক্ষেপ আমাদের এ গবেষণা, যেখানে যন্ত্র তৈরির শুরুতেই এমনভাবে নকশা করা হয় যেন তা পুনরায় ব্যবহার, রিসাইকেল বা প্রকৃতিতে নিরাপদে মিশে যেতে পারে।

“পরিত্যক্ত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে এরইমধ্যে প্রতি বছর কোটি কোটি টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। ফলে আমাদের এ গবেষণাটি ভবিষ্যতে সাধারণ ইলেকট্রনিক পণ্য, ইন্টারনেট-অফ-থিংস ডিভাইস ও পচনশীল সেন্সর তৈরির ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।”

‘অ্যাডিটিভলি ম্যানুফ্যাকচারিং প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডস উইথ লো ওয়েস্ট ফুটপ্রিন্ট বাই ট্রান্সফারিং ইলেকট্রোপ্লেটেড জিংক ট্র্যাকস’ শিরোনামে গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কমিউনিকেশনস ম্যাটিরিয়ালস’-এ।