Published : 17 Jul 2026, 04:06 PM
অ্যাপলের সাবেক ডিজাইনারের স্টার্টআপকে সাড়ে ৬০০ কোটি ডলারে কিনে নিয়ে নিজেদের প্রথম রিচার্জএবল এআই স্পিকার বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি ওপেনএআই।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রযুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এবার সেই বহুল প্রতীক্ষিত ডিভাইসটি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ।
এ পোর্টেবল স্পিকারটি হবে রিচার্জএবল, যা সহজেই এক ঘর থেকে অন্য ঘরে বহন করা যাবে। রান্নাঘরে রান্নার রেসিপি বা নির্দেশনার জন্য সাহায্য নেওয়া থেকে শুরু করে শোবার বা বসার ঘরে চটজলদি আড্ডায় মেতে ওঠার মতো সব সুবিধাই মিলবে এই ছোট্ট ডিভাইসে।
ব্লুমবার্গ লিখেছে, ডিভাইসটিকে ‘মানুষের মতো এআই সঙ্গী’ বা ‘হিউম্যানলাইক এআই কম্প্যানিয়ন’ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে, যা চ্যাটজিপিটির মতোই স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে, বাড়ির বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করবে ও গান বা অডিও শোনাবে।
এ স্পিকারে কোনো ডিসপ্লে বা স্ক্রিন থাকবে না। ব্লুমবার্গের দাবি, ডিভাইসটিতে এমন কিছু বিশেষ যান্ত্রিক অংশ বা মেকানিক্যাল এলিমেন্ট থাকবে, যা নিজে নিজেই নড়াচড়া করতে পারবে। ফলে ব্যবহারকারীর মনে হবে ডিভাইসটি কেবল নির্দেশ পালনকারী কোনো জড় বস্তু নয়, বরং এর মধ্যে ‘প্রাণ’ রয়েছে। ওপেনএআই এটিকে চ্যাটজিপিটির একটি বাস্তব রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা কেবল আরেকটি সাধারণ স্মার্ট স্পিকার না হয়ে মানুষের সত্যিকারের সঙ্গী হয়ে উঠবে।
এ উদ্দেশ্য সফল করতে এতে থাকবে ওপেনএআইয়ের সম্প্রতি উন্মোচন চ্যাটজিপিটি ভয়েস মোডের চেয়েও আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘জিপিটি-লাইভ’ মডেল। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীর কথা শুনতে ও প্রত্যুত্তরও দিতে পারবে স্পিকারটি।
মাঝপথে কথা থামিয়ে নতুন কোনো তথ্য দিলে তা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্লেষণ করে আলোচনার মোড় স্বাভাবিকভাবে ঘুরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকবে এই স্পিকারের।
পাশাপাশি, ডিভাইসটিতে ক্যামেরা ও অন্যান্য সেন্সর যোগ করছে ওপেনএআই। যার মাধ্যমে স্পিকারটি ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে আরও নিখুঁত ও পোর্সোনালাইজড উত্তর দেবে।
এআইওয়ালা স্পিকারের নকশা তৈরিতে বড় ধরনের চমক দিয়েছিল ওপেনএআই। অ্যাপলের সাবেক ডিজাইনার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপ ‘আইও’কে ২০২৫ সালে ৬৫০ কোটি ডলারে কিনে নেয় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানিটিটি।
২০২৭ সালের মধ্যেই এ বহুলাকাঙ্ক্ষিত স্পিকারটি বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার অভিযাত্রার পথ আটকে দিতে এরইমধ্যে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল।
ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি। ফলে স্পিকারটি বাজারে আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দেরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই ওপেনএআই ও এর দুই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক প্রাইভেসি চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে অ্যাপল। এ চুরির প্রক্রিয়ায় জনি আইভের স্টার্টআপ ‘আইও’কেও অ্যাপল সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
অ্যাপলের অভিযোগ, তাদের দুই সাবেক কর্মী চ্যাং লিউ ও ট্যাং ইউ ট্যান চাকরি ছাড়ার আগে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত ডজন খানেক গোপন নথি ডাউনলোড করেছিলেন। এসব নথির মধ্যে অ্যাপলের বাজারে না আসা বা অপ্রকাশিত বিভিন্ন পণ্যের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও অ্যাপলের নিজস্ব ডেটা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মামলায় অ্যাপল আরও দাবি করেছে, ওপেনএআই তাদের কর্মী নিয়োগের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া বা ইন্টারভিউ সিস্টেমকে এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে করে ‘অ্যাপলের অতিরিক্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায়’।
অ্যাপলের তথ্য অনুসারে, ওপেনএআই এ পর্যন্ত তাদের ৪০০ জনেরও বেশি সাবেক কর্মীকে চাকরি দিয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন পল মিডের মতো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও। অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেট তৈরির মূল দায়িত্বে ছিলেন পল মিড এবং বর্তমানে ওপেনএআইয়ের নতুন হার্ডওয়্যার বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
শীর্ষ কর্মকর্তা ও গোপন নথি ফাঁসের এ দ্বন্দ্বে ওয়ানএআই ও অ্যাপলের মধ্যকার আইনি লড়াই এখন সিলিকন ভ্যালির অন্যতম উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।