১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

উৎক্ষেপণের ৫ দিন পরও মহাসাগরে ভাসছে স্পেসএক্সের স্টারশিপ

এ দশকের শেষদিকে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর জন্য নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচিতে অন্যতম প্রধান সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করবে স্টারশিপ।

উৎক্ষেপণের ৫ দিন পরও মহাসাগরে ভাসছে স্পেসএক্সের স্টারশিপ
১২৪ মিটার উঁচু এ রকেটের ক্ষেত্রে এটাই ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে সফল পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। ছবি: স্পেসএক্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 12:44 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

মঙ্গলে গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে সর্বশেষ পরীক্ষামূলক ফ্লাইট সম্পন্ন করে ভারত মহাসাগরে অবতরণের পর টানা পাঁচ দিন ধরে ভাসছে স্পেসএক্সের মেগা রকেট স্টারশিপ।

শুক্রবারে দক্ষিণ টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্টারবেইস উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ রকেট। মঙ্গলে মানুষের বসতি স্থাপনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এটাই ছিল রকেটির ত্রয়োদশ পরীক্ষা।

উৎক্ষেপণের পরপরই প্রথম ধাপের বুস্টার অংশটি মেক্সিকো উপসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধাপের মূল স্টারশিপ রকেটটি ১৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

১২৪ মিটার উঁচু এ রকেটের ক্ষেত্রে এটাই ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে সফল পরীক্ষামূলক ফ্লাইট।

স্পেসএক্সের পরিকল্পনা অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপনের কাজ সহজ করতে মূল ভূমিকা রাখবে এই রকেট। এ দশকের শেষদিকে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর জন্য নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচিতে অন্যতম প্রধান সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করবে স্টারশিপ।

সর্বশেষ এ পরীক্ষাটিকে স্টারশিপের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রকেটটি বিস্ফোরিত না হয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসায় এর পুনরায় ব্যবহারযোগ্যতার প্রমাণ আরও জোরদার হল।

বিবৃতিতে স্পেসএক্স বলেছে, ভারত মহাসাগরে দ্বিতীয় ধাপের অক্ষত অবতরণটি ছিল তাদের ইতিহাসে স্টারশিপের ‘সবচেয়ে সুনিয়ন্ত্রিত ও সহজ স্প্ল্যাশডাউন’।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের কাছে মহাসাগরে ভাসমান স্টারশিপের একটি ভিডিও নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।

তিনি লিখেছেন, স্টারশিপ এখন পরীক্ষার পরবর্তী ধাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

“মহাকাশযানটির অবতরণ এতটাই সুনির্দিষ্ট ছিল যে, লঞ্চ টাওয়ারের মেকানিক্যাল বাহু দিয়েই তা ধরে ফেলা সম্ভব হত। আমাদের মিশন ডেটা পর্যালোচনায় বড় কোনো সমস্যা ধরা না পড়লে, পরবর্তী ফ্লাইটেই স্পেসএক্স টাওয়ারের মাধ্যমে সরাসরি ল্যান্ডিংয়ের সময় মহাকাশযানটিকে ধরার চেষ্টা করবে।”

স্টারশিপের এ পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে কেবল অবতরণই নয়, স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের ২০টি ‘স্টারলিংক সংস্করণ ৩’ স্যাটেলাইটও কক্ষপথে সফলভাবে বসানো হয়েছে, যা থেকে প্রমাণ মেলে, কোম্পানিটি তাদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণে সক্ষম।

পরবর্তী স্টারশিপ টেস্টের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনও ঘোষণা করেনি স্পেসএক্স। তবে ২০২৭ সালের মধ্যে নাসার ‘আর্টেমিস থ্রি’ মিশনের আগেই রকেটটিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে চায় তারা।

এ মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে মহাকাশে কক্ষপথে থাকা অবস্থায় অন্য স্টারশিপ রকেটের সঙ্গে সংযোগ করা।

পরবর্তী ‘আর্টেমিস ফোর’ মিশন সফল হলে নভোচারীদের চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে নামিয়ে আনতে ব্লু অরিজিনের ‘ব্লু মুন’ বা স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ এইচএলএস’ ব্যবহৃত হবে।

কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে এ মিশনের সম্ভাব্য তারিখ ২০২৮ সালের শুরুর দিকে নির্ধারণ করেছে নাসা।