Published : 15 Nov 2024, 11:42 AM
একটা হুইলচেয়ারের কথা ভাবুন, যেখানে এমন চাকা থাকবে যা সহজে অতিক্রম করবে রাস্তার কঠিন সব বাধা। এমনকি সিঁড়ি বেয়েও উঠতে পারবে। অথবা, মানুষ ছাড়াই একটি ডেলিভারি গাড়ির কথা ভাবুন যা সিঁড়ি বেয়ে উঠে যে কোনো জিনিস পৌঁছে দেবে দোরগোড়ায়।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেশিনারি অ্যান্ড মেটেরিয়ালস (কেআইএমএম) এর গবেষকরা তৈরি করেছেন কল্পনার মতোই এমন এক চাকা যার নাম 'মর্ফিং হুইল’। চাকাটি এর আকারের দুই তৃতিয়াংশ পর্যন্ত বাধা অতিক্রম করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পানির ফোঁটার ‘সার্ফেস টেনশন’ বা পৃষ্ঠ টান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে এ চাকার নকশা, যখন চাকাটি বাধার মুখোমুখি হয় তখন এটি কঠিন থেকে অনেকটা ‘তরলের মত’ হয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর ওপর নজর রাখতে পারে এমন রোবটের ক্ষেত্রেও কাজে আসতে পারে এ চাকা।

কেআইএমএম টিম আরও আশা প্রকাশ করেছে, মর্ফিং চাকাগুলো দুই ও চার পায়ের রোবটের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে এসব রোবটের চলাচলের বেলায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং ভাইব্রেশন বা কম্পনের বেলায়ও এদের চলতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন কারখানার রোবটের জন্য এ প্রযুক্তি কাজে লাগবে, যেখানে চলাচলে স্থিতিশীলতা দরকার হয়।
“আমাদের লক্ষ্য হল, ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গড় গতির জন্য স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত করা।” – বলেছেন কেআইএমএম-এর প্রধান গবেষণ সং সুং-হিউক।
সং আরও বলেন, নন-নিউমেটিক বা বায়ুবিহীন টায়ারের মতো একই উদ্দেশ্যে তৈরি চাকার নমনীয়তা থাকলেও এসব বাধা অতিক্রম করার ক্ষমতা কম।
মর্ফিং হুইলে চেইনের বাইরের হুপ গোল অংশ রয়েছে, এবং এর সঙ্গে চাকার মাঝখানে হাবের মধ্য দিয়ে স্পোক যুক্ত হয়েছে। স্পোকের দৃঢ়তা ও চাকা, ভূখণ্ড বা পৃষ্ঠের সংস্পর্ষে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়৷
রয়টার্সকে মর্ফিং হুইলসহ একটি প্রটোটাইপ হুইলচেয়ার দেখিয়েছে সংয়ের গবেষণা দল। হুইলচেয়ারে একটি মানব আকৃতির ডামি বসানো অবস্থায় সেটি ১৮ সেন্টিমিটার উঁচু ধাপের সিঁড়ি বেয়ে উঠেছে। এ ছাড়া, চাকার সঙ্গে একটি ডিভাইস জুড়ে দিয়ে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে পরীক্ষা চালিয়েছে দলটি।