Published : 14 Nov 2025, 03:33 PM
বিশ্বের শত কোটি ব্যবহারকারীকে ভিপিএন-এর হুমকি সম্পর্কে জরুরিভাবে সতর্ক করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি ও তাদের অর্থ চুরি করতে আসল অ্যাপের মতো দেখায় এমন ভুয়া ‘ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক’ বা ভিপিএন অ্যাপ ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা।
বিশ্বের প্রায় ৩৯০ কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী এই ঝুঁকিতে আছেন। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা না বুঝে এমন কিছু ভুয়া অ্যাপ ইনস্টল করে ফেলছেন, যেগুলো আসলে ক্ষতিকর। প্রতারকরা ভুয়া ও ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
ভুয়া এক নিরাপত্তা কোম্পানির পরিচয়ে অ্যাপ স্টোরে ভিপিএন অ্যাপ প্রকাশ করেছিল এমনই এক অপরাধচক্র। আসলে এসব অ্যাপের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছিল ও অনলাইন প্রতারণা চালাচ্ছিল তারা।
গুগলের ‘ট্রাস্ট অ্যান্ড সেইফটি’ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরি রিচার্ডসন বলেছেন, “এসব সাইবার অপরাধীরা সাধারণত পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য ভিপিএন ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশ ধারণ করে। প্রতারণার ফাঁদ পেতে সামাজিক কৌশলও ব্যবহার করে তারা, যেমন– যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখানো বা বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন ঘটনাকে কাজে লাগানো। এর মাধ্যমে তারা সেইসব অসচেতন ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে যারা নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।
“এসব অ্যাপ একবার ইনস্টল হয়ে গেলে ডিভাইসে তথ্য চুরির প্রোগ্রাম, দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ট্রোজান ও ব্যাংকিং ট্রোজানের মতো ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় হ্যাকাররা, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং ইতিহাস, ব্যক্তিগত বার্তা, আর্থিক লগইন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মতো সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে যায়।”
রিচার্ডসন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন কেবল অফিশিয়াল উৎস থেকেই ভিপিএন অ্যাপ ডাউনলোড করেন এবং গুগল প্লে স্টোরে যেসব অ্যাপের পাশে ভিপিএন ব্যাজ আছে সেগুলো চেক করে তারপরই ব্যবহার করেন।
“ব্যবহারকারীদের উচিত অ্যাপের চাওয়া বিভিন্ন অনুমতি ভালোভাবে খেয়াল করে দেখা। যেমন, ভিপিএন ব্যবহারের জন্য আপনার কনটাক্ট বা ব্যক্তিগত মেসেজে প্রবেশ করার দরকার পড়ে না। ডিভাইসে ব্রাউজারের ডাউনলোড সতর্কবার্তা সব সময় মনোযোগ দিয়ে দেখুন এবং আপনার অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার চালু রাখুন।”
এর আগে, নভেম্বরে এক সতর্কবার্তায় আরও পাঁচ ধরনের অনলাইন প্রতারণার প্রবণতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন গুগলের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে অনলাইন চাকরির প্রতারণা, নেতিবাচক রিভিউয়ের ভয় দেখিয়ে অর্থ চাওয়া, এআই পণ্যের ভুয়া অ্যাপ তৈরি, জালিয়াতি পুনরুদ্ধার প্রতারণা, ও ব্ল্যাক ফ্রাইডে ও সাইবার মানডে-এর মতো বড় বড় উৎসব বা শপিং ইভেন্ট গ্রাহকদের ঠকাতে মৌসুমী প্রচারণা।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে গুগল বলেছে, ২৮ নভেম্বরের ব্ল্যাক ফ্রাইডের আগে অত্যন্ত কম দামের ‘বিস্ময়কর ভালো’ অফারের ফাঁদে না পড়তে।
গুগল বলেছে, ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে হবে এমন টেক্সট বা ইমেল নিয়ে, যা ডেলিভারি কোম্পানির পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে দেখায় এবং সঙ্গে সঙ্গে কোনো পদক্ষেপ নিতে বা ফি দিতে চাপ দেয়।