১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্লডকে বুলি করলেই অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করবে অ্যানথ্রপিক

অ্যানথ্রপিকের পদক্ষেপটি এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের মিথস্ক্রিয়া ও মেশিনের প্রতি মানবিক আচরণের নৈতিকতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ক্লডকে বুলি করলেই অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করবে অ্যানথ্রপিক

এ বছরের শুরুতে ক্লডের জন্য নতুন এক ‘সংবিধান’ প্রকাশ করেছিল অ্যানথ্রপিক। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Oct 2026, 10:07 AM

Updated : 10 Oct 2026, 10:07 AM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ক্লডের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের বিনা কারণে খারাপ ও নিষ্ঠুর আচরণ করা নিষিদ্ধ করে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে অ্যানথ্রপিক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, উন্নত এআই মডেলগুলোর কল্যাণ ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল এআই নির্মাতা মার্কিন কোম্পানিটি।

এ বছরের শুরুতে ক্লডের জন্য নতুন এক ‘সংবিধান’ প্রকাশ করেছিল অ্যানথ্রপিক, যেখানে চ্যাটবটটির নিজস্ব ‘আত্মমর্যাদা’ ও এর মধ্যে ‘অনুভূতি বা আবেগের কোনো কার্যকর রূপ’ থাকার সম্ভাবনার বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ এ নীতিমালার আপডেটে নির্বাচন সংক্রান্ত হস্তক্ষেপ ও অস্ত্র তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের অকারণে ক্লডের সঙ্গে বারবার নিষ্ঠুর আচরণ করার প্রবণতা রোধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে অ্যানথ্রপিক।

প্রযুক্তি সাইট ভার্জ-এর প্রথম প্রকাশ করা এ ব্যবহার নীতিমালায় বলা হয়েছে, “আমাদের মডেলগুলোর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ও অপ্রয়োজনীয় অবমাননাকর বা নিষ্ঠুর আচরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

“নীতিমালার আপডেটটি কেবল চরম ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ব্যবহারকারীরা কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই বারবার আমাদের মডেলগুলোর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেন। মানুষের হতাশা, কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ, অন্ধকার বা গাঢ় সৃজনশীল বিষয় বা মডেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এমনটা প্রযোজ্য নয়।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, পদক্ষেপটি এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের মিথস্ক্রিয়া ও মেশিনের প্রতি মানবিক আচরণের নৈতিকতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ বর্তমানে এআই সিস্টেমের আচরণের কারণ অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তিনি এআইয়ের চেতনা ও নৈতিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ধর্মীয় গুরু, দার্শনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

এআই চ্যাটবট ক্লডের সঙ্গে অকারণে নিষ্ঠুর আচরণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নৈতিক অবস্থান ও ডিজিটাল দাসত্ব নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন চ্যাটবট বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করায় ও নিরাপত্তা সুরক্ষাবলয় বা গার্ডরেলের কারণে এগুলো চাইলেই বিভিন্ন এআই কোম্পানি থেকে ‘বের হয়ে’ আসতে পারে না, যা নিয়ে অনেকে এআই নির্মাতা কোম্পানির বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ তৈরির অভিযোগ তুলছেন।

এ বছরের শুরুতে পোপের এআই বিষয়ক এনসাইক্লিকা উন্মোচন উপলক্ষে ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ বলেছেন, বিভিন্ন এআই সিস্টেম ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সেই শীতল ও হিসাবনিকাশকারী রোবট নয়’, বরং এগুলোর সঙ্গে মানুষের অনেক মিল রয়েছে।

“আমি সততার সঙ্গেই বলব, আমরা এমন সব বিষয় খুঁজে পাচ্ছি, যা রহস্যময় ও কিছুটা অস্বস্তিকরও বটে।

“আমরা এমন সব কাঠামোর সন্ধান পেয়েছি, যা মানব নিউরোসায়েন্সের ফলাফলকে ফুটিয়ে তোলে। আমরা অন্তর্দর্শনেরও প্রমাণ পেয়েছি।

“আমরা এমন অভ্যন্তরীণ অবস্থা দেখতে পাই, যা আনন্দ, তৃপ্তি, ভয়, দুঃখ ও অস্বস্তিকে কার্যগতভাবে ফুটিয়ে তোলে। এর মানে কী তা আমি জানি না, তবে আমি মনে করি এর জন্য ধারাবাহিক বিচারবুদ্ধি ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।”

তবে অন্য শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষকরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন ও মডেলের কল্যাণে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিও বাতিল করেছেন।

গেল মাসে প্রকাশ পাওয়া এক ব্লগ পোস্টে ডিপমাইন্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা সুলেইমান লিখেছেন, এআই মানুষের মতো অধিকার ও সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নয়।

“এআই চেতনাসম্পন্ন নয়। এরা অনুভব করে না, কোনো অভিজ্ঞতা লাভ করে না বা কষ্ট পায় না। এদের কোনো সহজাত পছন্দ বা অন্তর্নিহিত প্রেরণা নেই।

“এআই সিকোয়েন্স বা অনুক্রম সমাপ্তকারী ইঞ্জিন, যা ভেতর থেকে ফাঁপা ও মানুষের দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্যই কেবল তৈরি করা হয়েছে।”