Published : 20 Sep 2025, 05:57 PM
এমন এক সময়ে আমরা বসবাস করছি, যেখানে চার্জারওয়ালা ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বিশেষ করে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট ওয়াচ, হেডফোন, ই-বাইক এবং আরও অনেক কিছু আমাদের আশপাশে ঘিরে রেখেছে।
হতে পারে কারো বিছানার পাশেই ফোনের চার্জার সব সময় প্লাগ ইন করা থাকে। তারা হয়ত কখনই দেয়ালের সুইচ খেয়াল করে বন্ধ করেন না বা ব্যবহার না করলে তা খুলেও ফেলেন না। একই বিষয় কারো ডেস্কের পাশে থাকা ল্যাপটপ চার্জারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
কিন্তু সব সময় চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখা কী ঝুঁকিপূর্ণ? বা এর সঙ্গে বিদ্যুতের খরচও কোনো সম্পর্ক রয়েছে? এমন সব প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক ‘ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্ন’-এর পাওয়ার ইলেকট্রনিক্সের বিভাগের শিক্ষক গ্লেন ফারিভারের কাছ থেকে।
চার্জারের ভেতরে কী থাকে?
স্বাভাবিকভাবেই সব চার্জার একরকম নয়। ব্যবহারের ধরন ও বিদ্যুতের চাহিদার ওপর নির্ভর করে এগুলোর অভ্যন্তরীণ গঠন অনেক সহজ থেকে জটিল হতে পারে।
তবে সাধারণ চার্জার প্লাগ থেকে আসা ‘অল্টারনেটিং কারেন্ট’ বা এসিকে গ্রহণ করে সেটিকে ডিভাইসের ব্যাটারির জন্য উপযোগী কম ভোল্টেজের ‘ডাইরেক্ট কারেন্ট’ বা ডিসিতে রূপান্তর করে।
ডিসি ও এসি-এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে একটি তারের মধ্যে ইলেকট্রনের প্রবাহ চিন্তা করতে হবে, যেখানে ডিসি সার্কিটে ইলেকট্রন একদিকেই চলে ও সার্কিটে ঘুরতে থাকে। আর এসি সার্কিটে ইলেকট্রন সার্কিটে একই দিকে ক্রমাগত ঘোরে না, বরং অতি দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে থাকে।
কেন এ দুই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় তার ইতিহাস অনেক পুরনো। কারণ ওই সময় কোন ধরনের বিদ্যুৎকে ‘ডিফল্ট স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে ধরা হবে তা নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন বিদ্যুৎ আবিষ্কারক থমাস এডিসন ও নিকোলা টেসলা।
আজও দুই ধরনের বিদ্যুতের মধ্যেই আটকে আছি আমরা। প্রচলিতভাবে বিদ্যুৎ এসি আকারে উৎপাদিত হলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ব্যাটারিতে ডিসি আকারে বিদ্যুৎ প্রয়োজন। ফলে প্রায় প্রতিটি বিদ্যুচ্চালিত যন্ত্রের সঙ্গে একটি এসি-থেকে-ডিসি ট্রান্সফর্মার যুক্ত থাকে।
এসি থেকে ডিসি রূপান্তর করতে একটি সাধারণ চার্জারে কয়েকটি বৈদ্যুতিক উপাদান থাকে। যেমন– ট্রান্সফর্মার, সার্কিট, ডিসি ভোল্টেজের মান উন্নত করার জন্য ফিল্টারিং উপাদান, নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রণ সার্কিট।
ডিভাইস চার্জ না করলেও বিদ্যুৎ খরচ করে চার্জার
চার্জার ব্যবহার না করলেও অর্থাৎ প্লাগড ইন থাকা অবস্থায় এটি সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করে। এ বিদ্যুতের কিছু ব্যবহার হয় চার্জারের ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সার্কিট চালানোর জন্য। আর বাকিটা তাপ হিসেবে চলে যায়, যাকে বলে ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বা বর্জিত বিদ্যুৎ খরচ। সামান্য হলেও বিষয়টি আসলে বিদ্যুতের অপচয়।
ছোট আকারের চার্জারের ক্ষেত্রে ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ারের’ বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও বাড়ির বিভিন্ন ডিভাইসের সব চার্জারকে মিলিয়ে দেখলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অপচয়কৃত বিদ্যুতের পরিমাণ যথেষ্ট বড় হতে পারে।
‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ কেবল চার্জারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসও সামান্য ব্যবহার করে। বাড়িতে যতগুলো ডিভাইস প্লাগড ইন রেখে যান মানুষেরা তার ওপর নির্ভর করে বছরের ব্যবধানে এটি কয়েক কিলোওয়াট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যয় করতে পারে।
তবে আধুনিক বিভিন্ন চার্জারের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা কম।
অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে
বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন চার্জার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরানো হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন বিদ্যুৎ গ্রিডের ভোল্টেজ স্বাভাবিক মানের ওপরে সাময়িকভাবে বেড়ে যায় তার বেলায়।
বিদ্যুৎ গ্রিড বিশৃঙ্খল এক পরিবেশ, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে বিভিন্ন চার্জার এ ধরনের ভোল্টেজ পরিবর্তনের মুখে পড়লে এদের আয়ু কমে যেতে পারে।
আধুনিক বিভিন্ন ডিভাইসে উন্নত ডিজাইন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকার কারণে এগুলো ততটা উদ্বেগজনক নয়। তবে কম দামি ও অননুমোদিত বিভিন্ন চার্জারের বেলায় চিন্তার বিষয় রয়েই যায়। এগুলোতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থাকে না, ফলে আগুন লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চার্জার কীভাবে ব্যবহার করা উচিত?
আধুনিক চার্জারগুলো সাধারণত নিরাপদ ও কম বিদ্যুৎ খরচ করে। তবে সুযোগ থাকলে বিভিন্ন চার্জার প্লাগ থেকে খুলে রাখাই ভালো।
কোনো চার্জার স্বাভাবিকের থেকে বেশি গরম হয়, শব্দ করে বা যে কোনো রকমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তা বদলে ফেলার সময় এসেছে। এসব চার্জারকে অবশ্যই প্লাগে লাগিয়ে রাখা উচিত নয়।