Published : 08 Nov 2025, 03:48 PM
এ বছরের জানুয়ারিতে সিলিকন ভ্যালিতে ঝড় তুলেছিল চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অ্যাপ ডিপসিক। রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপল চার্টে সবচেয়ে বেশি বার ডাউনলোড হওয়া ফ্রি অ্যাপ হিসেবে শীর্ষেও উঠেছিল অ্যাপটি। কিন্তু এতদিন আড়ালেই ছিলেন ডিপসিকের পেছনে কাজ করা গবেষকরা।
রয়টার্স লিখেছে, প্রায় এক বছর পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে হাজির হয়েছেন ডিপসিকের জ্যেষ্ঠ গবেষক চেন দেলি এবং এআইয়ের প্রভাব নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
চীনা সরকারের আয়োজিত এক ইন্টারনেট সম্মেলনে অংশ নিয়ে ডিপসিকের দেলি বলেছেন, ভবিষ্যতে মানবজাতির ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আশাবাদী নন তিনি, বরং এর প্রভাব নেতিবাচকও হতে পারে বলেই তার ধারণা।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের উঝেন শহরে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স’-এ ‘ইউনিট্রি’ ও ‘ব্রেইনকো’সহ আরও পাঁচটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হন দেলি। এ ছয়টি কোম্পানি একসঙ্গে চীনে এআইয়ের ‘ছয় ছোট ড্রাগন” নামে পরিচিত।
বিশ্বজুড়ে ডিপসিক নিজেদের সাফল্য ও ওপেন-সোর্স নীতির মাধ্যমে এআইয়ের উন্নয়ন কতটা বাড়াতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে দেলি বলেছেন, স্বল্পমেয়াদে মানুষের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে এআই। কারণ, এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এআই এতটাই সক্ষম হয়ে উঠবে যে এটি মানুষের অনেক কাজ দখলে নেবে। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন এআই কোম্পানিরও এসব ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
“আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মানুষের করা প্রায় সব ধরনের কাজই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এআই। ওই সময় সমাজকে বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। সেই সময় ‘রক্ষকের ভূমিকা’ পালন করতে হবে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকেই।
“আমি প্রযুক্তি নিয়ে অনেক আশাবাদী। তবে সমাজের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে নেতিবাচকভাবে দেখছি।”
জানুয়ারিতে কম খরচের এআই মডেল প্রকাশ করে ডিপসিক, যা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিভিন্ন এআই মডেলকেও পেছনে ফেলেছিল। সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে শিরোনামে আসে ডিপসিকের নাম।
তবে এরপর তাদের প্রতিনিধিরা কেবল একবারই প্রকাশ্যে হাজির হয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক টেলিভিশন সম্প্রচারে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লিয়াং ওয়েনফেং।
ডিপসিকের সাফল্য নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি ওয়েনফেং বা কোম্পানির কেউই, এমনকি এ বছরের অনুষ্ঠিত চীনের বড় বড় প্রযুক্তি সম্মেলনেও অংশ নেননি তারা।
কোম্পানিটির বিস্ময়কর উত্থানের পর থেকে ডিপসিককে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে চীনা সরকার।
দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ায় এখন চীনের প্রযুক্তিগত শক্তির এক প্রতীকী প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ডিপসিক।
আরও পড়ুন:
প্রযুক্তিখাতের শেয়ারে ধস নামাচ্ছে, কী এই ডিপসিক
বাজারে ঝড় তোলা ডিপসিক শেষ পর্যন্ত কী করল?