Published : 31 Dec 2025, 10:45 AM
স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সকে বিশেষ লাইসেন্স দিয়েছে মার্কিন সরকার। এর আওতায় ২০২৬ সালে চীনে নিজেদের বিভিন্ন কারখানায় কম্পিউটার চিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিতে পারবে কোম্পানি দুটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ থাকলেও এ দুটি কোম্পানির জন্য নিয়মটি এক বছরের জন্য শিথিল করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এ অনুমোদন দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি দুটির জন্য সাময়িকভাবে স্বস্তির বিষয়। এর আগে, এ বছরের শুরুতে কিছু প্রযুক্তি কোম্পানিকে দেওয়া লাইসেন্স সুবিধা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল সেই লাইসেন্সই ফিরে পেল এ কোম্পানি দুটি।
একটি সূত্র বলেছে, চীনে চিপ তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘বার্ষিক অনুমোদন ব্যবস্থা’ বা প্রতি বছর অনুমতি দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে ওয়াশিংটন।
স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও তাইওয়ান ‘সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’ বা টিএসএমসি এসব কোম্পানি চীনে চিপ রপ্তানির ওপর ওয়াশিংটনের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ ছাড় পেয়ে আসছিল।
তবে ‘ভ্যালিডেটেড এন্ড ইউজার’ হিসেবে পরিচিত এ বিশেষ সুবিধাটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে ওই তারিখের পর চীনে নিজেদের কারখানাতে মার্কিন চিপ তৈরির টুল পাঠাতে হলে নতুন করে মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্সের প্রয়োজন হত এসব কোম্পানির। সেই লাইসেন্সই পেল কোম্পানি দুটি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স। টিএসএমসি’র কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে তারাও সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে, অফিস সময়ের বাইরে হওয়ায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও এ বিষয়ে যোগাযোগ করে সাড়া পায়নি রয়টার্স।
উন্নত আমেরিকান প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেসব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনরায় খতিয়ে দেখছে যেগুলোকে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে ‘অত্যন্ত শিথিল’ বলে মনে করেছিল তারা।
বিশ্বের শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এসকে হাইনিক্স উভয় কোম্পানিরই অন্যতম প্রধান উৎপাদন ঘাঁটি চীন।
প্রচলিত মেমোরি চিপের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল এসব কোম্পানি, বর্তমানে যেগুলোর দাম এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদা ও সরবরাহের স্বল্পতার কারণে দ্রুত বাড়ছে।