Published : 12 Jul 2026, 06:32 PM
নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর উদযাপনের পালা চলছিল হার্ড রক স্টেডিয়ামে। দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছিলেন ইংলিশ ফুটবলাররা। এক পর্যায়ে গ্যালারির সবাই একসঙ্গে শুরু করলেন ‘হেই জুড’ গানটি। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন ফুটবলারদের অনেকেই। যার জন্য এই গান, সেই জুড বেলিংহ্যাম নিজেও ঠোঁট নাড়ালেন। তার চোখেমুখে খেলে গেল গর্ব, তৃপ্তি আর ভালো লাগার আভা।
কিছুক্ষণ আগে শেষ হওয়া ম্যাচে জয়ের রেশ তো তখনও তারতাজা। জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমি-ফাইনালে তোলার নায়ক বেলিংহ্যামই। তবে তার সন্তুষ্টি নিশ্চয়ই শুধু এই ম্যাচের কারণেই নয়। বিশ্বকাপজুড়েই অসাধারণ পারফর্ম করে চলেছেন রেয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ।
মিডফিল্ডার হয়েও ছয় গোল করে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটে লড়াইয়ে আছে। গোল্ডেন বলের বিবেচনায়ও তিনি থাকবেন প্রবলভাবেই। গোল করার পাশাপাশি করাচ্ছেন, গোটা মাঠ দাপটে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আক্রমণে উঠে মহাগুরুত্বপূর্ণ গোল করছেন, রক্ষণে নেমে উপযুক্ত সময়ে ব্লক করে দলকে রক্ষা করছেন।
নিজের মানদণ্ড তো তিনি উচু স্তরে তুলে নিয়েছেন আগেই। সেই মানকেও ছাড়িয়েও তিনি আসলে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন নতুন করে। ইংল্যান্ডের জার্সিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে নিশ্চিতভাবেই ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন এই আসরে।
অথচ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বেলিংহ্যামেকে রাখা উচিত কি না, এই তর্ক চলছিল বিশ্বকাপের আগে একটি সময়। তার ফুটবলীয় সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল, বেলিংহ্যাম দলের ঐক্য নষ্ট করার একটি কারণ এবং দলের প্রয়োজনেই তাকে দেশে রেখে যাওয়া উচিত।
সেই সংশয় আর প্রশ্নগুলিকে তো ফুটবল মাঠেই দুমড়েমুচড়ে দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী তারকা। ওসব আলোচনাই এখন মনে হয় হাস্যকর।
তবে এই ভালোবাসার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছেন না বেলিংহাম। সবকিছুই তিনি বেশ স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
এরকম স্তুতি শুনতে যেমন তিনি অভ্যস্ত, আজকের এই অবস্থানও তার জন্য খুব প্রত্যাশিত। ১৬ বছর বয়সে যখন পেশাদার ফুটবলে তার পথচলার শুরু, তখন থেকেই খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এই ছেলেটি একদিন স্পর্শ করবে আকাশ।

পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখা যেতে পারে তার সেই স্বপ্নময় ভ্রমণ:
অভিষেক থেকেই চমকে দিয়েছিলেন স্কাউটদের
২০১৯ সালের অগাস্টে ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে বেলিংহ্যাম তার নিজ শহরের ক্লাব বার্মিংহাম সিটির হয়ে পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন। ৪৯ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে ক্লাবের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন।
সেই ম্যাচের একটি প্রিমিয়ার লিগ স্কাউটিং রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, এই মিডফিল্ডারের প্রতিভা দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল এবং তার “অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতা, লম্বা পা, সাবলীল দৌড় এবং কর্মতৎপরতার প্রশংসা করা হয়েছিল।
কিন্তু বেলিংহ্যামের টেকনিক্যাল দক্ষতাই স্কাউটদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল - চাপের মুখেও বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এবং দুই লাইনের মাঝে ঢুকে বা উইং প্রতিবেদনে ধরে জায়গা খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিকে ওই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছিল অবিলম্বে বেলিংহ্যামকে চুক্তিবদ্ধ করতে, তাকে লোনে পাঠাতে এবং দেড় বছর পর তাদের সিনিয়র দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
এক বছরের মধ্যেই বেলিংহ্যাম দলবদল করেন। তবে প্রিমিয়ার লিগে নয়, বরং ২ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডের চুক্তিতে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাত্র ৪৪ ম্যাচ খেলা ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারের ২২ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখা হয়।
বার্মিংহাম সিটি ঠিকই চিনতে পেরেছিল রত্ন!
ইংলিশ ফুটবলের সবাই ব্যাপারটি বুঝতে শুরু করেছিল। জার্মানিও খুব দ্রুতই জেনে গেল।
ডর্টমুন্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই বেলিংহ্যাম গোল করেন।
দ্রুতই জাতীয় দলে সুযোগ
সেই সময়ের ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের নজরে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। ডর্টমুন্ডের হয়ে মাত্র ১১ ম্যাচ খেলা কিশোর ফুটবলারকে দ্রুতই জাতীয় দলে নেওয়া হয়।
২০২০ সালের নভেম্বরে রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে শেষ মুহূর্তের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তার অভিষেক হয়।
জার্মান লিগে প্রতিটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে সাউথগেটের দলে নিয়মিত জায়গা পাওয়ার দাবি আরও জোরাল করে তোলেন বেলিংহ্যাম।
বয়সের কারণেই হয়তো, তাকে নিয়ে একটু রয়েসয়ে এগোনোর পথ বেছে নেন সাউথগেট। ২০২১ ইউরোতে স্রেফ তিন ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে নামান কোচ। ওই আসরের ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল ইংল্যান্ড।
পরবর্তীতে অবশ্য বোঝা গেছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেলিংহামের শুরুর দিকের পদক্ষেপগুলো সতর্কতায় পরিচালনা করেছিলেন সাউথগেট।
বেলিংহামের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পেছনে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সাউথগেটের সহকারী স্টিভ হল্যান্ড, বিশেষ করে তার খেলার রক্ষণাত্মক দিকগুলোর ক্ষেত্রে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বেলিংহ্যামকে আর বাইরে রাখতে পারেননি সাউথগেট। ইরানের বিপক্ষে ৬-২ গোলের জয়ে দেশের হয়ে প্রথম গোলের স্বাদ পান তিনি।
ইউরো ২০২৪ যখন চলে আসে, বেলিংহ্যাম তখন ইংল্যান্ড দলের অভিচ্ছেদ্য অংশ।

রেয়াল মাদ্রিদ গ্যালাকটিকোর উত্থান
বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার মধ্যে বাড়তি একটা কিছুও ছিল, যেটা অনেকে নজর কাড়ে ও মতভেদেরও জন্ম দেয়।
২০২৪ ইউরোর যখন এলো, বেলিংহ্যাম ততদিনে রেয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে এক বছর কাটিয়ে দিয়েছেন এবং প্রথম মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্মও করেছেন। লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ক্লাবের হয়ে ১৯টি গোল করেছিলেন।
ইউরোতে তাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ ছিল তুমুল। কিন্তু দলের অন্য ফুটবলারদের টুর্নামেন্টের মিডিয়া সংক্রান্ত দায়িত্ব, বিশেষ করে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের দায়িত্ব পালন করতে হলেও বেলিংহ্যামকে সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ঠিকই নিজের বহু-পর্বের তথ্যচিত্রের শুটিং করছিলেন। এটি অনেকের ভ্রু কুঁচকে দিয়েছিল।
পাশাপাশি এটাও কারও চোখ এড়ায়নি যে, ফাইনালে স্পেনের কাছে ইংল্যান্ডের হারের পর, শেষ বাঁশি বাজামাদ্রই বেলিংহ্যাম দলের বাকিদের থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছিলেন।
তবুও মাঠে তার প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।
শেষ ষোলোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের শেষ মুহূর্তের জয়ে তার ওভারহেড কিকে করা সমতাসূচক গোলটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
বেলিংহ্যামের এখনকার আইকনিক ‘হু এলস’ উদযাপপে ফুটে উঠছিল তার উপচে পড়া আত্মবিশ্বাস। পাশাপাশি দলের ‘প্রধান চরিত্র হওয়ার প্রবণতার’ আরেকটি উদাহরণও তৈরি করেছিল, যা সাউথগেট এবং দলের কিছু ফুটবলার লক্ষ্য করতে শুরু করেছিলেন।
টুর্নামেন্টের আগের দল নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্ন
২০২৩ সালের পর থেকে রেয়াল মাদ্রিদ লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি। ক্লাবে মাঠের বাইরের অস্থিরতার মধ্যে বেলিংহ্যামও সেই গৌরবময় প্রথম মৌসুমের ফর্ম বা প্রচুর গোল করার ধারা বজায় রাখতে পারেননি।
বেশ কয়েক দফায় চোটের শিকারও হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঝিল, কাঁধের অস্ত্রোপচারের কারণে মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারেননি।
এবং তার ইংল্যান্ড ক্যারিয়ার ঘিরেও কালো মেঘ দেখা দেয়।
ইংল্যান্ডের নতুন প্রধান কোচ টমাস টুখেল, সম্ভবত ইংরেজি তার দ্বিতীয় ভাষা হওয়ার কারণে, গত গ্রীষ্মে গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেন, যখন তিনি বলেন যে, তার মা বেলিংহ্যামের মাঠের কিছু আচরণকে “একটু বিরক্তিকর” বলে মনে করতেন।
কোচের এই মন্তব্যে তুমুল আলোড়ন পড়ে যায় এং বেলিংহ্যামের কাছের মানুষেরা এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
টুখেল পরে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, তিনি “অনিচ্ছাকৃতভাবে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।”
এরপর অক্টোবরে, ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পরেও, বেলিংহ্যামকে টুখেলের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
সেপ্টেম্বরে চোট থেকে সেরে ওঠার সময় ইংল্যান্ড তাকে ছাড়াই ভালো খেলেছিল, এবং মাঠে ফেরার পর তিনি রেয়ালের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন।
টুখেলের মন্তব্যেও তখন ছিল অন্যরকম ইঙ্গিত।
“সে একজন স্পেশাল ফুটবলার এবং বিশেষ ফুটবলারদের জন্য সবসময় বিশেষ নিয়ম থাকতে পারে। কিন্তু আমরা একই দলকে আমন্ত্রণ জানানোর সহজ সিদ্ধান্তটিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জুড সবসময়ই এখানে থাকার যোগ্য। সে দলে ডাক পেতে চেয়েছিল। আমাদের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল।"
স্পেনের প্রতিবেদনগুলোতে একটি বিকল্প চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল যে, বেলিংহ্যাম নিজেই তার ফিটনেসের উপর মনোযোগ দেওয়ার জন্য দল থেকে বাইরে থাকছেন।
শেষ পর্যন্ত, মনে হচ্ছিল বেলিংহ্যাম আর কোচের প্রথম পছন্দের তালিকায় ছিলেন না।
এমনকি জুনে টুখেল বলেছিলেন যে, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম একাদশে জায়গা পেতে এই মিডফিল্ডারকে কঠিন লড়াই করতে হবে, কারণ তার দলে “১৪ বা ১৫ জন সম্ভাব্য প্রথম একাদশের ফুটবলার” আছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই জার্মান কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই সময়টা পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ১৪টি ম্যাচের মধ্যে বেলিংহ্যাম মাত্র অর্ধেক ম্যাচে খেলেছিলেন- চারটি ম্যাচে প্রথম একাদশে এবং তিনটিতে বদলি হিসেবে।
এমনও আলোচনা ছিল, ১০ নম্বর পজিশনে রজার্স নাকি বেলিংহ্যামকে প্রথম একাদশে রাখা উচিত?
বিশ্বের সামনেই পরিণত হয়েছেন বেলিংহ্যাম
বেলিংহ্যামের সেই অনিশ্চয়তার আঁধার কেটে যেতে শুরু করে নিউ জিল্যান্ড এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো থেকেই। মুগ্ধতা ছড়াতে থাকেন তিনি, পরিস্থিতি ভিন্ন হতে শুরু করে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত একক গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে এগিয়ে দেন তিনি।
পানামার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে, যখন ইংল্যান্ড গোলের জন্য লড়াই করছিল, তখন বেলিংহ্যাম অচলাবস্থা ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন।
গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই তাকে বদলি করা হলেও তার ফর্ম ছিল দুর্দান্ত।
নকআউটের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে তিনি ম্যাচজুড়েই প্রবলপ্রভাব রাখেন। পরের ম্যাচে উপহার দেন সম্ভবত তার ইংল্যান্ড ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স। মেক্সিকোতে অসাধারণ এক ম্যাচে স্মরণীয় জয়ে দুটি গোল করেন তিনি। প্রত্যাবর্তন পর্ব পোক্ত হয় আরও। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের এই দুই গোল।
১৯৮৬ আসরে দিয়োগো মারাদোনার পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নক আউটে দুই ম্যাচে জোড়া গোল করতে পারলেন কেউ।
এখনও পর্যন্ত ছয় ম্যাচে তিনি চারবার ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।
এই পুরস্কারগুলোর কারণে তাকে গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকার দিতে হচ্ছে, যেখানে তার পরিপক্কতা ও বিনয় ফুটে উঠথে। তিনি নিজের ভূমিকাকে ছোট করে দেখিয়েছেন এবং দলের কর্মনিষ্ঠা ও একতার পক্ষে কথা বলেছেন, পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রশংসাও করেছেন - এমনকি তার এক পুরস্কার প্রতিপক্ষ দলকে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তার এই সুরের পরিবর্তন মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে মিলে যায়। প্রতিভার পাশাপাশি পরিশ্রমও তার একটি চালিকাশক্তি - মেক্সিকোর বিপক্ষে তার গোল বাঁচানো অসাধারণ চ্যালেঞ্জটির কথা যেমন বলা যায় এখানে।
দলের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে সময়ে সময়ে ১০ এবং ৮ নম্বর পজিশনের মধ্যে স্থান পরিবর্তন করার জন্য তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার জন্য এবং তিনি কেইন ও অন্যদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের ‘লিডারশিপ গ্রুপের’ গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
টুখেল এবং বেলিংহামের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, জানা যায়নি।
পুরো বিষয়টি অতিরঞ্জিত ছিল, নাকি জার্মান কোচ পুরো দলের ওপর তার কর্তৃত্ব জাহির করছিলেন - সম্ভবত সেই ‘প্রধান চরিত্র’ সিনড্রোমটি শনাক্ত করে, তা সামাল দিচ্ছিলেন?
সত্য যাই হোক না কেন, বেলিংহ্যামকে খুশি মনে হচ্ছে, তিনি ভালো খেলছেন এবং এমন একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন, যেটিতে সত্যিই একতাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।
এতকিছু অর্জনের মাঝে এটা ভুলে যাওয়া সহজ যে, বেলিংহ্যামের বয়স মাত্র ২৩। পাদপ্রদীপের চোখধাঁধানো আলোতেই তাকে পরিপক্ক হতে হয়েছে।
তার এই বদলে যাওয়া ধরন, মহাতারকা হয়ে ওঠা, তার শ্রেষ্ঠত্বকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করা, সবকিছু আরও উজ্জ্বল ও পোক্ত হতে পারে সেমি-ফাইনালে, যদি তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠায়।