Published : 20 Aug 2025, 05:01 PM
অ্যাপল ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ্টেড ক্লাউড পরিষেবায় প্রবেশের জন্য কোম্পানিটির কাছে একটি ব্যাকডোর তৈরির দাবি জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ওই দাবি থেকে এখন পিছু হটল দেশটি।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, যুক্তরাজ্য তাদের বিতর্কিত দাবি ফিরিয়ে নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে গোটা বিশ্বের অ্যাপল ব্যবহারকারীদের ডেটা হাতে পেতে চাচ্ছিল তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গ্যাবার্ড বলেছেন, অ্যাপলের কাছে এমন এক ‘ব্যাক ডোর’ তৈরির দাবি করেছিল যুক্তরাজ্য, যাতে করে গোপনে ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ্ট করা তথ্য দেখতে পারত দেশটি। এমনটি হলে তা ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রাইভেসি ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হত’। তবে সেই নির্দেশনা এখন বাতিল করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাজ্য।
তবে অ্যাপল এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা চিঠি পায়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা এ ধরনের গোপনীয় বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করি না, এমনকি এ নিয়ে এমন কোনো নোটিশ আছে কি না তা নিশ্চিত বা অস্বীকারও করি না আমরা।
“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের যৌথ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা চুক্তি রয়েছে, যাতে সন্ত্রাসবাদ ও শিশু নিপীড়নের মতো গুরুতর বিভিন্ন হুমকি ঠেকানো যায়। এসব হুমকিতে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির ভূমিকাও রয়েছে এবং সেটিও এই চুক্তির আওতায় আসে।”
ডিসেম্বরে অ্যাপলকে আনুষ্ঠানিক এক নোটিশ পাঠায় যুক্তরাজ্য, যেখানে বিশ্বের যে কোনও স্থানের অ্যাপল ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ্ট করা ডেটায় প্রবেশের অধিকার দাবি করেছিল তারা।
তবে, যারা অ্যাপলের সবচেয়ে শক্তিশালী সিকিউরিটি টুল ‘অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন’ বা এডিপি চালু ব্যবহার করেন তাদের ডেটা অ্যাপল নিজেও দেখতে পারে না। কারণ এ ফিচারটি এমনভাবে তৈরি, যাতে ব্যবহারকারী ছাড়া আর কেউ, এমনকি অ্যাপলেরও সেই তথ্যে প্রবেশাধিকার নেই।
ব্যবহারকারীদের ডেটায় প্রবেশাধিকার পেতে হলে অ্যাপলকে নিজেই তাদের তৈরি করা এনক্রিপশন পদ্ধতি ভাঙতে হত, যা অ্যাপল আগে কখনোই করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।
“আমরা কখনোই আমাদের কোনো পণ্য বা পরিষেবায় কোনো ব্যাকডোর তৈরি করিনি এবং ভবিষ্যতেও কখনো করব না।”
এর বদলে, যুক্তরাজ্যের বাজার থেকে ‘অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন’ বা এডিপি টুলটি সরিয়ে নেয় অ্যাপল এবং সরকারের ওই দাবির বিরুদ্ধে দেশটির ‘ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ারস ট্রাইব্যুনাল’-এ মামলা করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটি। মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের শুরুতে।
এখনও মামলার শুনানি বা বিচার প্রক্রিয়া চলবে কি না তা স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
‘খুবই ভালো খবর!’
‘ব্যাকডোর’ তৈরির নোটিশ সম্পর্কে অ্যাপল বা যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কখনোই নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। তবে এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে প্রাইভেসি সমর্থক বিভিন্ন সংগঠন। এখন যুক্তরাজ্যের সেই দাবি প্রত্যাহার করা তাদের জন্য ভালো খবর হতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
নাগরিক অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন ‘লিবার্টি’র পক্ষ থেকে স্যাম গ্রান্ট বলেছেন, “যুক্তরাজ্য যদি সত্যিই সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিয়ে থাকে তবে তা খুবই ভালো খবর।”
এর আগে, যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল ‘লিবার্টি’ ও ‘প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল’।
গ্রান্ট বলেছেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত ডেটায় প্রবেশের জন্য কোনো ব্যাক ডোর তৈরি করা সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্ভাব্য বেআইনি পদক্ষেপ’ হত।
“এতে আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করত, বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, এর মাধ্যমে রাজনীতিবিদ, অধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর নজরদারি বা টার্গেট করা আরও সহজ হয়ে যেত।
“যতদিন পর্যন্ত এই ক্ষমতা ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ার্স ট্রাইব্যুনালের হাতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত ভবিষ্যতে কোনো সরকার চাইলে আবারও এমন গোপন বা ব্যাকডোর পদ্ধতিতে আমাদের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড থাকা ব্যক্তিগত, নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে এমন ঝুঁকি থেকেই যায়।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘ওপেন রাইটস গ্রুপ’-এর নির্বাহী পরিচালক জিম কিলকও।
“যুক্তরাজ্যের এনক্রিপশন ভাঙার ক্ষমতা এখনো আইনের হাতে রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
এরইমধ্যে ‘ডেটা অ্যাক্সেস এগ্রিমেন্ট’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে এক আইনি চুক্তি রয়েছে। এ চুক্তি অনুসারে, উভয় দেশ আইন প্রয়োগের কাজে সহায়তার জন্য একে অপরের সঙ্গে ডেটা ভাগ করে নিতে পারে।