Published : 01 Aug 2025, 03:47 PM
হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে ব্লুটুথচালিত একটি অ্যাপ অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে এনেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি।
‘বিটচ্যাট’ নামের এ অ্যাপটি ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ব্যবহারকারীদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে। তবে অ্যাপটির পরিসর সীমিত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
ব্লুটুথ সিগন্যাল সাধারণত প্রায় একশ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই সীমা আরও বাড়ানো সম্ভব। এ প্রযুক্তিতে আশপাশের অন্য ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে বার্তা এক জন থেকে আরেক জনের কাছে রিলে হিসেবে পাঠানো হয়। ফলে অনেক দূরে থাকা মানুষদের সঙ্গেও এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে যোগাযোগ করা যায়।
ডরসি বলেছেন, অ্যাপটি কেবল সপ্তাহের এক ছুটির দিনে তৈরি করা হয়েছে। তিনি এমন এক মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, নিরাপদ ও বিকেন্দ্রীকৃত, অর্থাৎ কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলবে।
অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অন্য কাউকে বার্তা পাঠানোর জন্য ইমেইল ঠিকানা বা ফোন নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইন্ডিপেনডেন্ট।
অ্যাপটির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, “বিটচ্যাট তৈরি হয়েছে এমন এক দৃঢ় ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন মেটাতে, যা কোনো কেন্দ্রীভূত অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করবে না।”
“ব্লুটুথ লো এনার্জি মেশ নেটওয়ার্কিং ব্যবহার করে তৈরি বিটচ্যাট, যা শারীরিকভাবে কাছাকাছি থাকা ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরাসরি পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজ পাঠাতে পারে। এ ছাড়া, বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে রিলে হয়ে পৌঁছে যায়। ফলে সরাসরি ব্লুটুথ সংযোগ ছাড়াও অনেক বেশি দূরত্ব পর্যন্ত যোগাযোগ সম্ভব।”
এ নতুন প্রযুক্তির কারণে প্রচলিত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক যখন অতিরিক্ত লোড হয়ে ধীর বা বন্ধ হয়ে যায় তখন বিটচ্যাট কাজে আসতে পারে, বিশেষ করে উৎসব, খেলাধুলার ম্যাচ বা অন্যান্য জমে ওঠা অনুষ্ঠানের বেলায়।
কিছু ব্যবহারকারী এমন জায়গায় এই অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যেখানে কোনো ফোনের সিগন্যাল পাওয়া যায় না।
উদ্যোক্তা দিমিত্রিওস পাওলো বলেছেন, তিনি প্লেনের দুই প্রান্তে বসে তার ভাইয়ের সঙ্গে বিটচ্যাট ব্যবহার করে চ্যাটিং করেছেন।
ডরসি বলেছেন, অ্যাপটির ডিজাইনের কারণে এটি কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে মুক্ত। বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের সময় সেন্সরশিপ-বিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে এই অ্যাপ।
বিকেন্দ্রীভূত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ‘লোগোস নেটওয়ার্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যারাড হোপ বলেছেন, “বিভিন্ন বিকেন্দ্রীকৃত নেটওয়ার্ক এমন এক ভবিষ্যৎ দিয়েছে, যেখানে গোপনীয়তা নিজে থেকেই নিশ্চিত এক অংশ হয়ে উঠবে।
“মানবাধিকার যদি ডিজিটাল দুনিয়ার মধ্যে যথাযথভাবে প্রয়োগ না হয় ও ইন্টারনেট অবকাঠামো সরকার বা বড় কোম্পানির নজরদারির হাতিয়ার হয়ে ওঠে তবে বিটচ্যাট-এর মতো ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্ক হবে এমন এক প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যা মানুষের প্রাইভেসি নিশ্চিত করবে। কারণ এ অ্যাপটি কোনও কোম্পানির প্রতিশ্রুতি বা নিয়ন্ত্রকদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।”