Published : 18 Jun 2026, 08:36 PM
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স শেষ করে সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছেন ১৮৪ জন তরুণ অফিসার, যাদের মধ্যে ১৮ জন নারী।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্ত (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কারও বিতরণ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষ করা ক্যাডেটদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের উপর ন্যস্ত হল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব।”
তিনি সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান।
মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সকল অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান সেনাপ্রধান।
তিন বছর মেয়াদী এই কোর্সে বাংলাদেশের ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী ক্যাডেটের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন অফিসার ক্যাডেট সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তারা দেশে ফিরে নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন।

আইএসপিআর জানায়, ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ পেয়েছেন।
পাশাপাশি এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর।
কুচকাওয়াজের পর প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ নেন। অনুষ্ঠানে আসা অতিথি এবং প্রশিক্ষণ শেষ করা ক্যাডেটদের অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া তাকে অভ্যর্থনা জানান।
সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, সদ্য কমিশন পাওয়া অফিসারদের অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।
সেনাবাহিনী প্রধান পরে বিএমএতে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর উদ্বোধন করেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএতে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটগণের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর পাশাপাশি ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক; বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।