Published : 27 Jan 2026, 07:12 PM
ফোনে আড়ি পাতার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শোনার অভিযোগে করা এক মামলা নিষ্পত্তিতে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে থাকা ‘গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টটি ভুলবশত চালু হয়ে যাওয়ার পর তাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা রেকর্ড হয়েছে।
তাদের দাবি, ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখাতে এসব অডিও রেকর্ড পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে পাঠিয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি গুগল।
মামলা নিষ্পত্তির জন্য জমা দেওয়া এক নথিতে নিজেদের কোনো ধরনের ভুলের কথা স্বীকার করেনি কোম্পানিটি। গুগল বলেছে, কেবল আইনি লড়াই এড়ানোর জন্য এই সমঝোতা করছে তারা।
‘গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ এমনভাবে তৈরি, যেখানে ‘স্ট্যান্ডবাই’ মোডে অপেক্ষা করে যতক্ষণ না কোনো নির্দিষ্ট শব্দ, বিশেষ করে ‘হেই গুগল’ শুনতে পায়, যার মাধ্যমে ‘গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ সক্রিয় হয়। এরপর ফোনটি যা শোনে তা রেকর্ড করে গুগলের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। ওই সার্ভারে সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোম্পানিটি।
মানুষ আবহাওয়ার খবর জানা থেকে শুরু করে স্মার্ট লাইট বা টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করে ‘গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট’।
গুগল বলেছে, স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকা অবস্থায় কোনো অডিও কোথাও পাঠায় না তারা।
তবে মামলায় অভিযোগ ছিল, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাঝেমধ্যে ‘ভুল করে’ চালু হয়েছে। ওই সময় ফোনটি ধরে নিয়েছে, কেউ এটিকে সক্রিয় করার শব্দ বলেছে। তবে আসলে কেউ এমনটি বলেনি।
ফলে ব্যক্তিগত রাখার উদ্দেশ্যে বলা বিভিন্ন কথা রেকর্ড হয়েছে। নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন তৈরির উদ্দেশ্যে এসব রেকর্ড পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে পাঠিয়েছে গুগল।
ক্লাস অ্যাকশন মামলা
শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত এ সমঝোতার আবেদনটি এবং তা কার্যকর হতে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ বেথ ল্যাবসন ফ্রিম্যানের অনুমোদনের প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত কোনো মামলার পরিবর্তে ‘ক্লাস অ্যাকশন’ হিসেবে আনা হয়েছে এ মামলা। এর মানে, সমঝোতার আবেদন অনুমোদিত হলে ক্ষতিপূরণের অর্থ অনেক অভিযোগকারীর মধ্যে ভাগ হবে।
২০১৬ সালের মে মাস থেকে যারা গুগলের ডিভাইস ব্যবহার করছেন এ অর্থ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন তারা।
তবে বাদিপক্ষের আইনজীবীরা এ সমঝোতার অর্থের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দাবি করতে পারেন, যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এর আগে, জানুয়ারিতে একই ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছিল অ্যাপল’ও।
ওই মামলাতেও অভিযোগ ছিল, অ্যাপলের কিছু ডিভাইস তাদের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’র মাধ্যমে অনুমতি ছাড়াই মানুষের কথা শুনেছে।
তবে ওই সময় কোনো ধরনের ভুলের কথা স্বীকার করেনি আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া সিরি’র মাধ্যমে রেকর্ড করা কথা সংগ্রহ করেছে, থার্ড পার্টিকে জানিয়েছে বা মুছে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা– এমন দাবিও বাতিল করেছিল কোম্পানিটি।