Published : 30 Nov 2025, 04:14 PM
রাশিয়াতে হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি।
রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রসকমনাডজর’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সেখানকার আইন মেনে না চললে হোয়াটসঅ্যাপকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে তারা।
এর আগে অগাস্টে কিছু হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম কল সীমিত করেছিল রাশিয়া। ওই সময় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল, প্রতারণা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে অস্বীকার করছে মেটা’সহ বিদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।
শুক্রবার আবারও অভিযোগ করে রসকমনাডজর বলেছে, হোয়াটসঅ্যাপ রাশিয়ার সেইসব নিয়ম ও শর্ত পূরণ করছে না, যেগুলো অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স প্রতিবেদনে লিখেছে, “মেসেজিং পরিষেবা অ্যাপটি যদি রাশিয়ার আইন মেনে না চলে তবে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেব আমরা।”
এদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ অভিযোগ করে বলেছে, লাখ লাখ রাশিয়ানকে নিরাপদভাবে যোগাযোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে মস্কো।
হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ম্যাক্স’ নামের রাষ্ট্র সমর্থিত অ্যাপ চালুর চেষ্টা করছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
সমালোচকেরা বলেছেন, ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি চালাতে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া। তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
গত কয়েক মাস ধরে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে রাশিয়া।
মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে রাশিয়ার অনেক অঞ্চলে যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেইনের ড্রোন আক্রমণ থামানোর উদ্দেশ্যে করেছে দেশটি।
তবে এর প্রভাব অনেক বড়, বিশেষ সাধারণ মানুষ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না, এটিএম কাজ করছে না এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে রক্তের শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন না।
ইন্টারনেট ও মোবাইল শাটডাউন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ‘না সভিয়াজি’র তথ্য অনুসারে, নভেম্বরে গড়ে রাশিয়ার ৫৭টি অঞ্চলে প্রতিদিনই মোবাইল সংযোগে ব্যাঘাতের খবর মিলেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এসব পদক্ষেপ ‘একেবারে ন্যায্য ও প্রয়োজনীয়’।
ওয়াশিংটনের ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার’-এর বিশ্লেষক কাতেরিনা স্টেপানেঙ্কো বলেছেন, এসব পদক্ষেপ ইউক্রেইনের ড্রোন হামলার তীব্রতা কমাতে কার্যকর হয়নি। কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ‘রাশিয়ার বিভিন্ন তেল পরিশোধনাগারে আমরা ড্রোন হামলা দেখেছি’।