Published : 22 Mar 2026, 03:59 PM
মেটাভার্স পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে মেটা। তাদের ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেটে আর ব্যবহার করা যাবে না হরাইজন ওয়ার্ল্ডস, যা মেটার দীর্ঘদিনের মেটাভার্স কৌশলে এক নতুন মোড়।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মেটাভার্সে এ বছরের ১৫ জুনের পর থেকে আর ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না হরাইজন ওয়ার্ল্ডস।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে ‘হরাইজন ওয়ার্ল্ডস’কে নিজেদের ‘কোয়েস্ট ভিআর’ প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা করার ও একচেটিয়াভাবে অ্যাপটির স্মার্টফোন সংস্করণের ওপর নজর দেওয়ার পরিকল্পনা শেয়ার করেছিল মেটা।
এখন কোম্পানিটির কমিউনিটি ফোরামের এক নতুন পোস্টে মেটা জানাল, ঠিক কবে থেকে হরাইজন ওয়ার্ল্ডস-এর ভিআর সংস্করণটি আর পাওয়া যাবে না।
কোম্পানিটি বলেছে, ৩১ মার্চের মধ্যে কোয়েস্ট স্টোর থেকে হরাইজন ওয়ার্ল্ডস এবং এর বিভিন্ন ইভেন্ট সরিয়ে নেওয়া হবে। ফলে হেডসেট ব্যবহারকারীরা ‘হরাইজন সেন্ট্রাল, ইভেন্টস অ্যারিনা, কাইজু এবং ববার বে’র মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আর ভ্রমণ করতে পারবেন না।
এরপর, ১৫ জুনের পর কোয়েস্ট হেডসেট থেকে অ্যাপটি পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে এবং ভিআরের মাধ্যমে এসব দুনিয়াতে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেই সময় থেকে হরাইজন ওয়ার্ল্ডস ব্যবহারের একমাত্র সহজ মাধ্যম হবে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য থাকা ‘মেটা হরাইজন’ অ্যাপটি।
পাশাপাশি, ‘হাইপারস্কেপ ক্যাপচার’-এর মতো নতুন বিটা ফিচারটিও হরাইজন ওয়ার্ল্ডস থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ফিচারের মাধ্যমে কোয়েস্ট হেডসেট ব্যবহারকারীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন স্থানের থ্রিডি স্ক্যান তৈরি, শেয়ার ও একে অপরের স্ক্যান করা জায়গায় ভ্রমণ করতে পারতেন।
মেটা বলেছে, ব্যবহারকারীরা আগের মতোই হাইপারস্কেপ তৈরি ও দেখতে পারবেন। তবে অন্য কারো সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করা, কাউকে আমন্ত্রণ জানানো বা একসঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না।
২০২৬ সালের ভিআর কৌশল নিয়ে মেটার মূল ব্লগে এমন এক সম্ভাবনা রাখা হয়েছিল, যেখানে একনিষ্ঠ কোয়েস্ট ব্যবহারকারীরা হয়ত মেটার আদি ভিআর মেটাভার্সের কিছু অংশ ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে বাস্তবে কোম্পানির পরিকল্পনা মোটেও তেমন ছিল না। ২০২৫ সালে হরাইজন ওয়ার্ল্ডসের মোবাইল সংস্করণের প্রতি ব্যবহারকারীদের আগ্রহ দেখে মেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৬ সালে ভিআর সংস্করণটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াটাই যৌক্তিক হবে।
মেটার ‘মেটাভার্স কোম্পানি’ হিসেবে পরিচিতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তটি কিছুটা সাংঘর্ষিক হলেও পদক্ষেপটি আসলে মেটার অগ্রাধিকারকেই তুলে ধরছে, আর তা হচ্ছে, যেখানে কোম্পানিটি তুলনামূলকভাবে বেশি সাফল্য পাচ্ছে। আর তা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও স্মার্ট গ্লাস।