Published : 05 Jun 2026, 05:02 PM
সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে আঞ্চলিক শব্দে কটূক্তি করার পর এখন অনুতপ্ত সিলেটের জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান।
শুক্রবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমার শুভাকাঙ্ক্ষীসহ অনেকেই এতে কষ্ট পেয়েছেন। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।"
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে সিলেট মহানগর জামায়াত। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
হাবিবুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, “যার জন্মের ঠিক থাকে না তারে আমরা কী বলি? বলেন কী বলি? যার জন্মের ঠিক থাকে না তাকে আমরা বলি ফুঙ্গা। কথাটা সঠিক কি-না?
“এই সরকারের জন্মের ঠিক নাই। এই সরকার জনগণের ভোটে পাস করে নাই, এই সরকার পাস করেছে ইঞ্জিনিয়ারিং ভোটে। বলেন কথাটা ঠিক কি-না?”
এ সময় পাশে থাকা নেতাকর্মীরাও ‘ঠিক ঠিক’ বলে হাবিবুরের ব্ক্তব্যে সমর্থন দেন।
তার ওই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। পরে শুক্রবার ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন জেলা জামায়াতের আমির।
তিনি সেখানে বলেন, “জ্বালানি তেল-গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আমার বক্তব্যে সিলেটি ভাষায় একটি শব্দ চয়ন মোটেই ঠিক হয়নি।”

তবে তার ওই দুঃখ প্রকাশে সন্তষ্ট নন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
শুক্রবার এক ফেইসবুক পোস্টে বলেন, “হাবিবুর রহমান সাহেব যে ভাষায় সরকারকে আক্রমণ করেছেন, এটা শুধু ন্যক্কারজনকই নয় তাদের দলের নেতাদের পুরনো মুখোশ খুলে দিয়েছে।”
তার ভাষ্য, “যদিও তিনি এখন দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এই বক্তব্য থেকে তাদের ভিতরে কী পরিমাণ হিংসা এবং প্রতিহিংসা কাজ করছে তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। ভাবতে অবাক লাগে, একটি দলের জেলা আমির এই ধরনের বক্তব্য কীভাবে দিতে পারে?”
জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, “এদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের দ্বিধা দ্বন্দ্বের দুর্বলতা খুঁজে সেখান থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টায় তারা লিপ্ত। প্রয়োজনে এদেরকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বয়কট করুন।'”