Published : 16 Feb 2026, 04:10 PM
হাজার হাজার ফুট ওপর দিয়ে প্লেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় সিটে বসে একটু আরামের পথ খোঁজেন যাত্রীরা। একটু বিশ্রামের জন্য যাত্রীরা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন, ঘাড়ের ইউ শেইপ ট্রাভেল পিলো বা আলো ঠেকাতে আই মাস্ক থেকে শুরু করে কম্বল বা আরামদায়ক সোয়েটার যা যা দরকার তার সবই সঙ্গে নেন।
কিন্তু পাইলটদের উপায় কী? তারাও তো মানুষ। যাত্রীদের মতো তারাও ক্লান্ত হন।
টানা ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা প্লেন চালানো পাইলট বা ক্রু সদস্যরা কি বিশ্রামের সুযোগ পান? যদি পানও তবে তারা কোথায় বিশ্রাম নেন? তাদের বিশ্রামের জায়গা কী আরামদায়ক?
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, সংক্ষেপে উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ। বড় সব এয়ারলাইনের পাইলটদের জন্য কঠোর নিয়মই রয়েছে যে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টানা কাজ করার পর তাদের বাধ্যতামূলক বিরতি নিতেই হবে। এসব নিয়ম এমনি এমনি আসেনি, অনেক তেতো অভিজ্ঞতার পর তৈরি হয়েছে।
অতীতের অনেক প্লেন দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটদের ক্লান্তি বা অবসাদকে দায়ী করা হয়েছে। যেমন ১৯৯৯ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে ১১ জন যাত্রী নিহত হন।
বর্তমানের নিয়ম অনুসারে, একজন পাইলট টানা কত ঘণ্টা বা কত দিন কাজ করতে পারবেন, তার নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্লেনে থাকা সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আর এ কারণেই, দীর্ঘ দূরত্বের বা লং-হল ফ্লাইটগুলোতে সবসময় অন্তত দুইজন এবং অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি পাইলট থাকেন।
যাত্রীরা যখন একটুখানি ঘুমের আশায় তাদের সিট কেবল কয়েক ইঞ্চি পেছনের দিকে হেলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তখন দীর্ঘ যাত্রার বড় বড় প্লেনে পাইলটদের বাধ্যতামূলক ঘুমের জন্য সাধারণত এক গোপন ও আরামদায়ক জায়গা থাকে।
প্লেনের মডেল অনুসোরে এই ‘ক্রু রেস্ট কম্পার্টমেন্ট’ বা বিশ্রামের জায়গাগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। আধুনিক বা নতুন প্লেনে এগুলো সাধারণত মূল কেবিনের বা যাত্রীদের মাথার ওপরের অংশে থাকে।
অন্যদিকে, পুরনো আমলের বিভিন্ন প্লেনে এগুলো কার্গো হোল্ডে বা মালামাল রাখার জায়গায় বা মূল কেবিনের কেবল ক্রুদের জন্য সংরক্ষিত কোনো অংশে হয়। তবে এ জায়গাটি প্লেনের যেখানেই হোক না কেন তা সাধারণ এয়ারলাইন সিটের চেয়ে অনেক আরামদায়ক।

আরামকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া
মাইলের পর মাইল শত শত যাত্রীকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব যেহেতু পাইলটদের ওপর ফলে ঘুমের সময় তারা প্লেনের সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গাটি পাবেন, সেটিই স্বাভাবিক। বাণিজ্যিক প্লেনের বিভিন্ন ক্রু কেবিন মূলত এ আরামের কথা মাথায় রেখেই তৈরি।
এয়ারলাইনভেদে ক্রু কম্পার্টমেন্ট বা বিশ্রামের জায়গার গঠন ভিন্ন হতে পারে। তবে ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ-এর নিয়ম অনুসারে, এসব জায়গা অবশ্যই শব্দরোধী বা প্লেনের এমন অংশে থাকতে হবে যেখানে অতিরিক্ত শব্দ পাইলটদের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটায়।
পাইলটদের আরাম নিশ্চিত করতে কম্পন বা ভাইব্রেশনের মাত্রার ওপরও কড়া নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া, ওইসব জায়গার আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও ক্রুদের হাতেই থাকে। প্রতিটি বিছানা অন্তত ৭৮ ইঞ্চি লম্বা ও ৩০ ইঞ্চি চওড়া। এসব কেবিনে ক্রুদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা জায়গাও থাকা বাধ্যতামূলক।
পাইলটদের এসব ছোট বিশ্রামের জায়গাতে কোনো জানালা থাকে না। তবে এখানে অক্সিজেন মাস্ক ও সিটবেল্ট লাইটের মতো সব ধরনের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে। বিশ্রামে থাকা পাইলটদের ককপিট বা অন্য ক্রু সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ইন্টারকম বা ফোনের ব্যবস্থা থাকে। কিছু কিছু এয়ারলাইন বিশ্রামের জায়গায় যাত্রীদের মতো বিনোদনের সুবিধাও দেয়।
তবে প্লেনের ভেতর এসব ছোট কেবিনই একমাত্র জায়গা নয়, কিছু বড় প্লেনে ক্রুদের জন্য আরও বড় জায়গা থাকে। যেমন, ‘এয়ারবাস এ৩৮’ প্লেনে মূল কেবিনের নিচে ক্রুদের জন্য ১২টি বাংঙ্ক বেড বা বিছানার জায়গা রয়েছে।
প্রাইভেসির জন্য প্রতিটি বিছানায় পর্দা থাকে, যাতে দীর্ঘ ফ্লাইটের সময় ক্রুরা সেখানে বিরতি নিতে পারেন।
তবে, এসব জায়গা অধিকাংশ মানুষের চোখের আড়ালেই থাকে। কারণ, সেখানে যাত্রীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।