Published : 15 Apr 2026, 01:07 PM
ভুলে যাওয়ার চিরন্তন সমস্যা থেকে এবার মুক্তি পেতে পারে মানুষ।
হার্ভার্ডের একজন অধ্যাপকের দাবি, তার তৈরি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে এই প্রথম মানুষের তিন লাখ বছরের ইতিহাসে সব স্মৃতি ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে ও প্রয়োজনমতো তা মানুষকে মনে করিয়ে দেবে।
‘হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল’-এর নিউরোসায়েন্স ও এআই বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল ক্রাইম্যান দাবি করেছেন, তৈরি এ এআই অ্যালগরিদম মানুষকে ‘নিখুঁত ও অসীম স্মৃতিশক্তি’ দেবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, গেল মাসে তিনি একটি স্টার্টআপ চালু করেছেন। তার আশা, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের চিন্তার সক্ষমতা বা জ্ঞানীয় দক্ষতায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
নিজের এ কাজকে ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অধ্যাপক ক্রাইম্যান, যার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন স্মৃতিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে।
‘লার্জ মেমোরি মডেল’ বা এলএমএম নামের এক ধারণা ব্যবহার করে এমনটি করা হচ্ছে। বিষয়টি অনেকটা চ্যাটজিপিটি’র মতো ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ বা এলএলএম-এর আদলে তৈরি, যা একজন ব্যক্তির ডিজিটাল জীবনের সব ধরনের তথ্য খুঁজে বের করতে বা মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
স্টার্টআপটির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক ঘোষণাপত্রে প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেছেন, এ প্রযুক্তি চিকিৎসা ও আইন থেকে শুরু করে শিল্পকলা ও প্রকৌশল প্রতিটি পেশার ধরন বদলে দেবে।
অধ্যাপক ক্রাইম্যান তার লিংকডইন পোস্টে লিখেছেন, “সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ ভুলে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে আসছে।
“আমার সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্পান্দান মাদান এবং আমি মানুষকে নিখুঁত ও অসীম স্মৃতিশক্তি দেওয়ার জন্য নতুন এক অ্যালগরিদম তৈরি করেছি... এমন এক ভবিষ্যতে আপনাকে স্বাগতম, যেখানে আপনি সবকিছু মনে রাখতে পারবেন।
“বিষয়টি ‘মেমোরি সিঙ্গুলারিটি’ বা স্মৃতির চূড়ান্ত পর্যায়। দীর্ঘ তিন লাখ বছর পর এই প্রথম মানুষ ভুলে যাওয়াকে বিদায় জানাতে চলেছে।”
তবে এই স্মৃতি ঠিক কীভাবে মানুষের মনে ফিরিয়ে আনা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আগের বিভিন্ন গবেষণায় ‘ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেইস’ বা মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অধ্যাপক ক্রাইম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাড়া পায়নি ইন্ডিপেনডেন্ট।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, ক্রাইম্যানের স্টার্টআপ ‘এনগ্রাম’ বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং এর বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
তবে ডিজিটাল জীবন থেকে তথ্য নিয়ে মানুষের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এটাই প্রথম নয়।
‘স্টোরি-ফাইল’-এর মতো বেশ কিছু কোম্পানি বর্তমানে এআই ব্যবহার করে মানুষের ভিডিও ও অডিওর মাধ্যমে ভার্চুয়াল অবতার বা প্রতিচ্ছবি তৈরি করছে, যাতে মানুষকে ডিজিটালভাবে অমর করে রাখা যায়।
বিশ্বের বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিও এ ধারণা নিয়ে কাজ করছে। গেল বছরের ডিসেম্বরে মেটা একটি পেটেন্ট পেয়েছে যার মাধ্যমে ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ বা এলএলএম ব্যবহার করে কোনো ব্যবহারকারীর কর্মকাণ্ডের অনুকরণ করা যাবে।
এ এআই মডেলটিকে ওই ব্যক্তির আগের বিভিন্ন পোস্ট বা অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেবে মেটা।
ওই পেটেন্টে উল্লেখ রয়েছে, “কোনো ব্যবহারকারী যখন সামাজিক মাধ্যমে অনুপস্থিত থাকবেন তখন তাকে অনুকরণের জন্য এ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলটির ব্যবহার হতে পারে। যেমন, কোনো ব্যক্তি যদি সামাজিক মাধ্যম থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন বা তার মৃত্যু হয়।”