Published : 14 May 2026, 11:32 AM
বর্তমানে নতুন আপলোড করা পডকাস্টের এক-তৃতীয়াংশই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে– এমনই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে।
এ শিল্পের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা এআই দিয়ে তৈরি এসব পডকাস্টের ক্রমাগতবর্ধমান প্রবণতাটি ‘পডসলপ’ নামে পরিচিত, যেখানে মানুষের বদলে কৃত্রিম কণ্ঠস্বরই এখন আধিপত্য বিস্তার করছে।
‘পডকাস্ট ইনডেক্স’-এর তথ্যে উঠে এসেছে, সম্প্রতি আপলোড করা পডকাস্টগুলোর প্রায় ৩৯ শতাংশই সম্ভবত এআই ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, অসংখ্য ফ্রি অনলাইন টুল ব্যবহার করে এখন কেবল কয়েক মিনিটের মধ্যে এআই-জেনারেটেড পডকাস্ট তৈরি করা সম্ভব।
এসব পডকাস্টে মানুষের কণ্ঠের বদলে কৃত্রিম কণ্ঠস্বর ব্যবহৃত হয়, যেখানে এআই হোস্টরা নির্মাতার দেওয়া নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
বর্তমানে কেবল এআই পডকাস্ট তৈরির জন্যই ডেডিকেটেড কোম্পানি গড়ে উঠেছে। যেমন, ‘ইনসেপশন পয়েন্ট এআই’ নামের এক কোম্পানি প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার পডকাস্ট তৈরি করছে।
এ কোম্পানির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ‘এআই ব্যক্তিত্ব’ বা ভার্চুয়াল হোস্টের প্রোফাইল রয়েছে। যাদের মধ্যে নাইজেল থিসলডাউন নামে একজন ব্রিটিশ মালি, পেনি পাওয়ার নামে একজন আর্থ উপদেষ্টা ও ভিভি স্টিল নামে একজন সেলিব্রিটি গসিপ প্রচারকারী চরিত্র রয়েছে।
তাদের ওয়েবসাইট অনুসারে, “আমরা এআই প্রতিভাদের বড় এক তালিকা পরিচালনা করি, যাদের প্রত্যেককে দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। দর্শকদের ভালো লাগা বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করেই এসব এআই চরিত্র তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।”
‘ইনসেপশন পয়েন্ট এআই’ নিজেদের এসব কনটেন্টকে ‘গল্প বলার নতুন অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এরইমধ্যে তারা এক কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে।
পডকাস্টের পাশাপাশি সংগীত, চলচ্চিত্র ও সাহিত্যের মতো অন্যান্য সৃজনশীল খাতও এখন এআই-জেনারেটেড কনটেন্টে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।
‘জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআইয়ের উন্নতির ফলে মানুষের তৈরি কাজ ও এআইয়ের কাজের মধ্যে পার্থক্য করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বছর আটটি দেশের ৯ হাজার মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীই আসল সংগীতশিল্পীদের গানের সঙ্গে এআইয়ের তৈরি গানের পার্থক্য বুঝতে পারেননি।
ইপসস ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজার’-এর পক্ষ থেকে চালানো এ জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, এই পার্থক্য করতে না পারাটা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।
ডিজার-এর তথ্য অনুসারে, প্রতিদিন তাদের প্ল্যাটফর্মে ৫০ হাজারেরও বেশি এআই-জেনারেটেড গান বা ট্র্যাক যুক্ত হচ্ছে, যা তাদের সব ধরনের নতুন যোগ হওয়া সংগীতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
পডকাস্ট বা সংগীতের মতো এআইয়ের তৈরি কনটেন্টগুলোকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর এখন জোরালো দাবি উঠছে।
এ কারণে স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে কিছু কোম্পানি বর্তমানে সার্টিফিকেট বা স্বীকৃতি দেওয়ার সেবাও চালু করেছে।
আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন সংগঠন ‘প্রাউডলি হিউম্যান’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ট্রেভর উডস বলেছেন, “এমন যুগে যেখানে, এআই ক্রমাগত মানুষের রূপ ধারণের চেষ্টা করছে, সেখানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মানুষের তৈরি কনটেন্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকাটা সবার মৌলিক অধিকার।
“একাধিক শিল্প খাতে মানুষের তৈরি কাজ যাচাইয়ের একমাত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্রাউডলি হিউম্যান’ দর্শকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ও প্রকৃত নির্মাতাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারে।”