Published : 28 Aug 2025, 06:06 PM
মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্টের অফিসে জোরপূর্বক ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনায় দুই কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্টটি।
বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফট বলেছে, এ সপ্তাহের শুরুতে কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের অফিসে জোর করে ঢুকে ভাঙচুরের অভিযোগে কোম্পানির দুইজন কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে তারা।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত মাইক্রোসফটের রেডমন্ড অফিসে সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করার পর এ খবর সামনে এল। কোম্পানিটির এসব কর্মী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা অভিযানে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগে এই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
‘নো অ্যাজিওর ফর অ্যাপারথাইড’ নামের এক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বিক্ষোভকারীরা ব্র্যাড স্মিথের অফিসে প্রবেশ করেন এবং তারা মাইক্রোসফটের ইসরায়েলকে দেওয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন বন্ধের দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ‘নো অ্যাজিওর ফর অ্যাপারথাইড’ বলেছে, রিকি ফামেলি ও আনা হ্যাটল নামে তাদের দুই সমর্থককে মাইক্রোসফট চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।
এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আজ দুইজন কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা কোম্পানির নীতিমালা ও আচরণবিধি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছেন।”
তিনি আরও বলেছেন, ওইসব কর্মী নির্বাহী অফিসে বেআইনি অনুপ্রবেশ করেছিলেন।
“এ ধরনের ঘটনা আমাদের কর্মীদের প্রতি যে মানদণ্ড ও প্রত্যাশা রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলেছে এবং কোম্পানি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে।”
বিক্ষোভের পর স্মিথ দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা অফিসে ঢোকার পথ আটকে রেখেছিলেন, ফোনের মাধ্যমে লিসনিং ডিভাইস বসিয়েছিলেন এবং পুলিশ এসে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে যেতে রাজি হননি।
‘নো অ্যাজিওর ফর অ্যাপারথাইড’ সংগঠনটি নিজেদেরকে পরিচয় দেয় “মাইক্রোসফট কর্মীদের এমন এক আন্দোলন হিসেবে, যারা কোম্পানিটিকে ইসরায়েলের বর্ণবাদ ও গণহত্যায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অবসান ঘটাবে।”
এ মাসের শুরুতে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছিল, ফিলিস্তিনিদের ফোন কল সংরক্ষণের জন্য মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ কারণে থার্ড পার্টির তদন্তের বিষয়টি অনুমোদন করেছে মাইক্রোসফট, যাতে যাচাই করা যায় তাদের প্রযুক্তি নজরদারিতে ব্যবহৃত হয়েছে কি না।
স্মিথ মঙ্গলবার বলেছেন, কোম্পানি ‘তদন্ত করবে ও স্পষ্ট করবে’ যে তাদের বিভিন্ন পরিষেরা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্মিথের মতে, গত সপ্তাহে কোম্পানির ক্যাম্পাসের আশপাশে প্রতিবাদ করেছে ‘নো অ্যাজিওর ফর অ্যাপারথাইড’, যার কারণে একদিনে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে, তাদের মধ্যে ১৬ জন কখনোই মাইক্রোসফটে কাজ করেননি।
এ বছর একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘নো অ্যাজিওর ফর অ্যাপারথাইড’, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফটের ‘বিল্ড ডেভেলপার কনফারেন্স’ এবং কোম্পানির ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন।
মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, মাইক্রোসফটের একজন পরিচালক এসব প্রতিবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ বা এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
গত বছর শ্রম শর্তাবলী, ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবার জন্য ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোম্পানির চুক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভের পর ২৮ জন কর্মীকে বরখাস্ত করেছিল মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল। এবার মাইক্রোসফটের এমন পদক্ষেপের খবর এল।
সেই ঘটনায় কিছু কর্মী গুগলের ক্লাউড ইউনিটের সিইও টমাস কুরিয়ানের অফিসে অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন।