Published : 07 Apr 2026, 10:46 AM
স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও জনসম্মুখে এর প্রাইভেসি রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অপরিচিতদের ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য দেখেন বলে উঠে এসেছে স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট স্যামমোবাইল প্রতিবেদনে লিখেছে, সাধারণত বিভিন্ন ফোন দূর থেকে বা রিমোটলি হ্যাক করা বেশ কঠিন।
তবে জনসমাগমস্থলে অন্যের কৌতূহলী নজর থেকে বাঁচার উপায় কী?
বিশেষ করে, ব্যবহারকারী যখন ট্রেনে বা বাসে চলেন তখন পাশের সিটে বসে থাকা ব্যক্তিটি যদি তার ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দিলে কোনো অ্যান্টিফিশিং সফটওয়্যারই তা ঠেকাতে পারবে না।
এ সমস্যা সমাধানে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা স্মার্টফোনে কোম্পানিটি নিয়ে এসেছে বিশেষ এক ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ ফিচার, যা ফোনের ভেতরের কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি নয়, বরং বাইরের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে। কারিগরি দিক থেকে এ ফিচারটি বেশ কার্যকর।
তবে মানুষ কি আসলেই অন্যের ফোনে উঁকি দেয় কি না এমন প্রশ্নে স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, উত্তরটি আমাদের ভাবনার চেয়েও ভয়ংকর। ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্বীকার করেছেন, তারা জনসম্মুখে অপরিচিত মানুষের ফোনের তথ্যের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
৫৬ শতাংশ ইউরোপীয় বলেছেন, জনসম্মুখে অপরিচিত মানুষের ফোনের স্ক্রিনে তাদের নজর পড়ে যায়, তবে তা নিচ্ছাকৃতভাবে নয়।
২৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা স্রেফ কৌতূহল থেকে জেনেশুনে বা ইচ্ছা করেই অন্যের ফোনে উঁকি দেন।
৫৭ শতাংশ মানুষের মতে, গণপরিবহন বিশেষ করে বাস বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে।
৩৩ শতাংশ বলছেন, তারা অপরিচিত মানুষের ফোনের খুব সংবেদনশীল তথ্য দেখে ফেলেছেন।
২৮ শতাংশ মানুষ অন্যের ফোনে ব্যক্তিগত কিছু দেখলে তা উপেক্ষা করেন এবং ২৭ শতাংশ বলছেন, এমন কিছু চোখে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নেন।
সাত শতাংশ মানুষ বলছেন, তারা সুযোগ বুঝে বেশ কৌশলে অন্যের ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা চালিয়ে যান।
অন্যের ফোনে সাধারণত যা যা দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে ৩৮ শতাংশ ব্যক্তিগত ছবি, ৩২ শতাংশ ভিডিও কল, ২৯ শতাংশ মেসেজ, ২৭ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, ১৭ শতাংশ অনলাইন কেনাকাটা, ১২ শতাংশ ডেটিং অ্যাপের নোটিফিকেশন এবং ১১ শতাংশ ব্যাংকিং তথ্য।
স্যামসাং বলছে, অধিকাংশ মানুষই মেনে নিয়েছেন, জনসম্মুখে আসলে কোনো প্রাইভেসি নেই। কেবল ২১ শতাংশ মানুষ মনে করেন জনসম্মুখে ফোনের ব্যবহার ব্যক্তিগত বিষয়।
এদিকে, যখন কেউ বুঝতে পারেন যে অন্য কেউ তার ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন তখন ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ফোনটির ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কেবল ১০ শতাংশ মানুষ ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ করেন।
এ সমস্যার সমাধানে স্যামসাংয়ের লক্ষ্য প্রচলিত ‘প্রাইভেসি স্ক্রিন’-এর মতো কাজ করা, যা স্ক্রিনকে অন্ধকার করে দেয়, ফলে নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে স্ক্রিনটি আর পড়া সম্ভব হয় না।
তবে পার্থক্য হচ্ছে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রার এ ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ ফিচারটি নিজের প্রয়োজনমতো সেট ও যেকোনো সময় চালু বা বন্ধ করা যায়, যা বর্তমান সময়ের এ সমস্যার সমাধানে আধুনিক ও বুদ্ধিদীপ্ত উপায়।
তবে এ ফিচারটি বর্তমানে কেবল নতুন ‘আল্ট্রা’ মডেলেই পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়ত স্যামসাংয়ের আরও গ্যালাক্সি ফোনে আসতে পারে।