Published : 12 Nov 2022, 03:30 PM
প্ল্যাটফর্মে ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্টের চাপে সম্প্রতি চালু করা ‘ব্লু’ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা ‘আপাতত স্থগিত’ রেখেছে টুইটার।
প্রিমিয়াম শ্রেণির ‘টুইটার ব্লু’ সেবাটি যে কেউই নিতে পারেন মাসিক আট ডলারের বিনিময়ে। এর আগে জনপ্রিয় তারকা ও সংবাদমাধ্যম বা সংবাদকর্মীর মতো বিভিন্ন সুপরিচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ‘প্রকৃত’ অ্যাকাউন্ট শনাক্তে এটি ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্কাই নিউজের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে ঢেলে সাজানো মডেলের কারণে প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট ‘মাথা চাড়া’ দিয়েছে। এমনকি স্বয়ং যিশুর একটি ‘প্যারোডি’ অ্যাকাউন্টও ভেরিফিকেশন পেয়েছে এতে।
নিজের ‘পরিচয়’ গোপন রাখতে চাওয়া ওই অ্যাকাউন্টের মালিক এটি চালু করেছেন ২০০৬ সালে, প্রায় ১৪ বছর আগে।
“যদিও এটি আমার কাছে দীর্ঘদিন ধরে আছে, তবে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি যে এটি আদৌ কোনোদিন ভেরিফায়েড হবে।” -- সংবাদ সাইট বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন তিনি।
“আমি এর আগেও ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদন করেছি। আর, তা সঙ্গে সঙ্গে খারিজ হয়েছে।”
“তবে, ইলন মাস্ক যখন ভেরিফিকেশন নীতিমালা বদলে টুইটার ব্লু গ্রাহক সেবায় ভেরিফায়েড টিক চিহ্ন কেনার সুবিধা আনলেন, তখন আমি বুঝলাম– যাক, শেষ পর্যন্ত আমার সময় এসেছে।”
Truth be told https://t.co/xSkQRFRP6o
— Jesus Christ (@jesus) November 11, 2022
“এবার আর এক মুহূর্ত দেরি হয়নি। আমি টুইটার ব্লু গ্রাহক সেবা কিনেছি। আর ‘অ্যাপল পে’-তে অর্থ পরিশোধ করে ফের টুইটারে প্রবেশ করে দেখি, অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড হয়ে গিয়েছে।”
আরেক ভুয়া অ্যাকাউন্টের দাবি ছিল– বিনামূল্যেই মিলছে ইনসুলিন। এর ফলে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় মার্কিন ফার্মাসিউটিকাল জায়ান্ট ‘এলি লিলি অ্যান্ড কো’।
অক্টোবরে টুইটারের মালিকানা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই নিজের দুই কোম্পানি টেসলা ও স্পেসএক্স-এর নকল ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট দেখতে হয়েছে ইলন মাস্ককে।
এমনকি মাস্কের নিজের নামেও এখন দুটি ‘ভেরিফায়েড’ অ্যাকাউন্ট। এর একটি চলছে ‘@JoshMalina’ নামে এক হ্যান্ডলের অধীনে।
“শুভ রাত্রী, টুইটার পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এখন।” - টুইট হয়েছে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে।
Good night. Twitter cleanse starts now.
— Elon Musk (@JoshMalina) November 9, 2022
অর্ধেক কর্মী ছাটাইয়ের ফলে টুইটার দেউলিয়া হতে পারে, মাস্কের এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই স্থগিতাদেশ এলো।
তার নতুন নিয়মের কারণে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে বাধ্য হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেতা স্টিফেন ফ্রাইসহ বেশ কিছু শীর্ষ ব্যবহারকারী। এ ছাড়া, প্ল্যাটফর্মটি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন বিজ্ঞাপনদাতারাও।
“অনেক বেশি ভুয়া ‘ব্লু’ চেকমার্ক হয়ে গিয়েছে। ফলে, এটি সরানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।” --বৃহস্পতিবার পোস্ট করেন মাস্ক।
শুক্রবার তিনি অবশ্য দাবি করেন, সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এখন ‘সর্বকালের সেরা’ অবস্থানে আছে টুইটার। পাশাপাশি, এর ব্যবহার বাড়তে থাকার বিষয়টিও যোগ করেন তিনি।
“একটি বিষয় নিশ্চিত: এটি বিরক্তিকর নয়!”
বর্তমানে টুইটারে দুই ধরনের ‘ব্লু চেক’ আছে - তবে এগুলো হুবহু একইরকম দেখতে।
এর একটি হলো, মাস্ক টুইটারের মালিকানা পাওয়ার আগে ভেরিফায়েড হওয়া অ্যাকাউন্ট, যেখানে লেখা: “এই অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড, কারণ এটি সরকারী, সংবাদ, বিনোদন বা অন্য কোনো বিশেষ বিভাগের মধ্যে পড়ে।”
আরেকটি হলো, ব্লু গ্রাহক সেবার জন্য নিশ্চিত করা অ্যাকাউন্ট।
প্ল্যাটফর্মের কয়েকটি পরিচিত অ্যাকাউন্টে ‘অফিসিয়াল’ লেবেল যোগ করার বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
মাস্ক ও টুইটারের নিজস্ব অ্যাকাউন্টসহ অ্যামাজন, নাইকি ও কোকা-কোলার মতো বেশ কিছু বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে ‘অফিসিয়াল’ লেবেল নেই।