১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই লেখা চিনতে এবার ‘অদৃশ্য জলছাপ’ দিচ্ছে ক্লড

লেখার মূল ভাবনা, মূল পাঠ্য বা উপাত্ত যদি অন্য কোনো মানুষের কাছ থেকেও এসে থাকে তবে ক্লড দিয়ে সম্পাদনা করার পর তাতে এ জলছাপ থেকে যেতে পারে।

এআই লেখা চিনতে এবার ‘অদৃশ্য জলছাপ’ দিচ্ছে ক্লড
এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে ওয়াটারমার্ক দেওয়া এখন বেশ প্রচলিত ও অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 02:19 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি লেখা ও ছবি সহজে শনাক্ত করতে এবার থেকে লেখায় অদৃশ্য মার্কার বা জলছাপ যোগ করতে শুরু করবে জনপ্রিয় চ্যাটবট ক্লড নির্মাতা অ্যানথ্রপিক।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-এর নতুন এআই আইনের অংশ হিসেবে এই আপডেটটি আনার কথা উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে।

ইইউ-এর নতুন নিয়ম অনুসারে, বিভিন্ন এআই সেবাদাতা কোম্পানিকে তাদের প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চেনার উপায় রাখা বাধ্যতামূলক।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটে এআই দিয়ে তৈরি মানহীন তথ্যের বন্যা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া সার্বিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপ নিল অ্যানথ্রপিক।

এআই বিষয়ক বৈশ্বিক নীতিমালা মেনে এই অদৃশ্য জলছাপ লেখা ও ছবি উভয়ক্ষেত্রেই যোগ করবে মার্কিন এআই নির্মাতা কোম্পানিটি। সব গ্রাহকের জন্যই এ নিয়ম কার্যকর হবে। ‘ক্লড কোড’-এর মতো বিশেষ এআই সেবাগুলোতেও এই অদৃশ্য জলছাপ থাকবে।

এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে ওয়াটারমার্ক দেওয়া এখন বেশ প্রচলিত ও অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয়।

এসব ছবিতে এমন কিছু প্রযুক্তিগত সংকেত বা সূত্র রেখে দেওয়া হয়, যা খালি চোখে মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। তবে সফটওয়্যার বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তা সহজে ধরে ফেলতে পারে।

তবে এসব জলছাপের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন, কোনো ব্যবহারকারী যদি ছবির ফরম্যাট পরিবর্তন করেন বা স্ক্রিনশট নেন, তবে অনেক সময় সেই অদৃশ্য ওয়াটারমার্কটি মুছে যেতে পারে।

টেক্সট বা লেখার ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈশিষ্ট্য যোগের কথা বলেছে অ্যানথ্রপিক।

কোম্পানিটির দাবি, এআই দিয়ে লেখা অনুচ্ছেদের ভেতরেও তারা এমন অদৃশ্য সংকেত রেখা রেখে দেবে, যা মানুষ বুঝতে পারবে না। তবে কোনো সিস্টেম দিয়ে পরীক্ষা করলে টেক্সটটি এআইয়ের তৈরি কি না তা ধরা পড়বে।

এদিকে, এরইমধ্যে অ্যানথ্রপিকের ফিচারটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অনেক ব্যবহারকারী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নিজেদের লেখা কোনো লেখা যদি কেবল সম্পাদনা বা পরিমার্জনের জন্যও ক্লড’কে দেওয়া হয় তবে পুরো লেখাটিকেই এআই দিয়ে তৈরি বলে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হতে পারে।

অ্যানথ্রপিক এ সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেছে, লেখার মূল ভাবনা, মূল পাঠ্য বা উপাত্ত যদি অন্য কোনো মানুষের কাছ থেকেও এসে থাকে তবে ক্লড দিয়ে সম্পাদনা করার পর তাতে এ ‘ক্লড মার্ক’ বা জলছাপ থেকে যেতে পারে।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, “কোনো লেখায় এই মার্কার শনাক্ত হওয়ার মানে লেখাটি প্রসেসিংয়ে ক্লড ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এমনটা শতভাগ নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নয়।”

কোম্পানিটির দাবি, এই মার্কার থাকা মানেই লেখাটির সম্পূর্ণ উৎস কেবল এআই তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

একইভাবে, লেখায় অদৃশ্য জলছাপ না থাকার অর্থ এই নয় যে তা তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার হয়নি। ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তি যোগ হওয়ার আগের কোনো মডেলে লেখাটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বা সম্পাদনা করা হতে পারে। লেখাটি যদি খুব ছোট হয় তবে সেখানে নির্ভরযোগ্য কোনো ওয়াটারমার্ক বসানো সম্ভব নাও হতে পারে।

টেক্সট বা লেখার ভেতর ঠিক কীভাবে এই জলছাপ বসানো হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি অ্যানথ্রপিক। কৌশলটি যেন কেউ সহজে বাইপাস বা মুছে ফেলতে না পারে সে কারণেই বিষয়টি গোপনে রাখা হয়েছে।

এ ধরনের প্রযুক্তি সাধারণত দুটি উপায়ে কাজ করে। যেমন, অদৃশ্য কোনো ক্যারেক্টার বা কোড ব্যবহার করে বা লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শব্দের সাধারণ ব্যবহারের হার বাড়িয়ে বা কমিয়ে।

অ্যানথ্রপিক দ্বিতীয় পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারে, যেখানে কোনো লেখায় নির্দিষ্ট কিছু শব্দের ব্যবহার গাণিতিক বা পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধরে ফেলা সম্ভব হবে।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এই গাণিতিক পরিবর্তন মানুষের নজর কেড়ে নেবে না এবং ‘ক্লডের উত্তর বা লেখার মূল অর্থ, মান বা স্পষ্টতার কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না’।

অতীতে এআই দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্ত করার অন্যান্য প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল।

চ্যাটবট দিয়ে তৈরি সব ধরনের বার্তা একটি ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে সন্দেহভাজন লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব। তবে প্রতিটি কথোপকথন এভাবে জমা রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা ও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রাইভেসি লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে।

অন্যদিকে, লেখার ধরন, নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যের গঠন বিশ্লেষণ করে এআই টেক্সট চেনার যেসব পদ্ধতি বর্তমানে চালু আছে, সেগুলোতে অনেক কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজন এবং তা সবসময় সঠিকভাবে কাজও করে না।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ বছরের ২ অগাস্টের পর যেসব মডেল বাজারে এসেছে বা আপডেট করা হয়েছে, সেগুলোতে প্রাথমিকভাবে এই জলছাপ যোগ হচ্ছে। তবে শিগগিরই তাদের পুরানো মডেলগুলোতেও এ ফিচার যোগের পরিকল্পনা রয়েছে।