মাস্কের সঙ্গে গভীর জোটের ইঙ্গিত দেয় ট্রাম্পের উপস্থিতি। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়ে উপকার পেতে পারেন এ বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা।
Published : 20 Nov 2024, 05:35 PM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ষষ্ঠবারের মত স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণ করেছে স্পেসএক্স।
রকেটটির মহাকাশে ওড়ার ক্ষমতা বাড়ানোর পর মঙ্গলবার এ উৎক্ষেপণ করা হলেও রকেটের বুস্টারটি সঠিকভাবে মাটিতে ল্যান্ড করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্টারশিপ অন্তত চারশো ফুট লম্বা রকেট সিস্টেম, যা নভোচারীদের চাঁদে অবতরণ করতে ও মঙ্গল অবধি পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নকশা করা। এটি মঙ্গলবার টেক্সাসের বোকা চিকা সমুদ্র সৈকতে স্পেসএক্স এর রকেট উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় উৎক্ষেপণ করা হয়।
রকেটের ২৩৩ ফুট দীর্ঘ প্রথম পর্যায়ের বুস্টারকে ‘সুপার হেভি’ বলা হয়। স্টারশিপ অন্তত ৬২ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা অবস্থায়, উৎক্ষেপণের দ্বিতীয় পর্যায়ে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে রকেটকে মহাকাশে পাঠায়।
রকেটটি যে টাওয়ার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়, বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ‘সুপার হেভি’র সেখানেই একটি ‘যান্ত্রিক হাত’-এর মধ্যে ফিরে আসার কথা ছিল। তবে, অপ্রত্যাশিতভাবে মাটিতে ফিরে না এসে বুস্টারটি মেসিকো উপসাগরে গিয়ে পড়ে। শেষ মূহূর্তে পানির মধ্যে পড়ার বিষয়টিই ভুল অবতরনের ইঙ্গিত করছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
স্পেস ব্লগার ‘এভরিডে অ্যাস্ট্রোনট’-এর করা স্পেসএসক্সের বাইরের একটি লাইভ স্ট্রিমে দেখা গেছে সুপার হেভি বুস্টারটি উপসাগরীয় দিগন্তে একটি বিশাল আগুনের কুণ্ডলীর মতো বিস্ফোরিত হচ্ছে।
স্টারশিপ অক্টোবরে প্রথমবারের মতো অভিনব এই ‘ক্যাচ-ল্যান্ডিং’ পদ্ধতি দেখিছে, এর পুনঃব্যবহারযোগ্য নকশা নজর কেড়েছিল সে সময়।
১৪ অক্টোবরে স্টারশিপের ওই পরীক্ষার পর, ট্রাম্প কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন। বুস্টারের ক্যাচ-ল্যান্ডিং কৌশলের কথা উল্লেখ করে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন আজকে জিনিসটা কীভাবে নামল?”
মিশনের বাকি অংশ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
মহাকাশে এক ঘণ্টা পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে দিনের বেলাতেই ভারত মহাসাগরে অবতরণ করে স্টারশিপ। এটি প্রথমবারের মতো মহাকাশে গিয়ে অনবোর্ড ইঞ্জিনের একটি পুনরায় চালু করতে পেরেছিল। এটি স্পেসএক্সের অনেক দিনের চেষ্টার অংশ, যা আগের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিল।
মঙ্গলবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের জন্য চারটি মূল উদ্দেশ্য তালিকাভুক্ত করেছিলেন মাস্ক। ফ্লাইটের সময় স্টারশিপের স্পেস টেইলর্ড ইঞ্জিন পুনরায় চালু করা, দিনের বেলা আরও দৃশ্যমানভাবে সমুদ্র অবতরণ করা এবং পুনরায় প্রবেশের সময় স্টারশিপকে আরও বেশি উত্তাপের মধ্য দিয়ে আনা এবং বুস্টারের দ্রুত অবতরণ করানো।
এদিকে, মাস্কের সঙ্গে গভীর জোটের ইঙ্গিত দেয় ট্রাম্পের উপস্থিতি। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়ে উপকার পেতে পারেন এ বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা। স্পেসএক্স ও টেসলার সিইও নিজের কোম্পানির জন্য সাহায্য ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রভাব বিস্তার করবেন বলে ধারণা প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।