Published : 10 Oct 2025, 11:15 AM
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক চুক্তিতে সই করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স।
এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বা ডজ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশটির সরকার সংক্রান্ত কাজ প্রকাশ্যে করা থেকে বেশ কিছুটা দূরেই থেকেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও মাস্ক।
এরপরও মাস্কের অন্যান্য বড় ক্ষেত্রের কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও মহাকাশ ভ্রমণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করে চলেছে তার বিভিন্ন কোম্পানি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজের চুক্তি পেয়েছে স্পেসএক্স।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম হিল-এর প্রতিবেদনে অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স ঘোষণা করেছে, নতুন স্পেসফ্লাইট মিশনের জন্য স্পেসএক্স ও ‘ইউনাইটেড লঞ্চ অ্যালায়েন্স’ বা ইউএলএ-এর সঙ্গে একাধিক চুক্তি করেছে তারা। যার মধ্যে স্পেসএক্স সাতটি পরিকল্পিত মিশনের মধ্যে পাঁচটির কাজ পেয়েছে। এই চুক্তির মোট মূল্য ৭১.৪ কোটি ডলার।
এসব চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্পেস লঞ্চ’ বা এনএসএসএল প্রোগ্রামের অংশ, যা দেশটির সামরিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোর জন্য কাজ করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
এসব মিশনের উৎক্ষেপণ ২০২৭ অর্থবছর থেকে শুরু হতে পারে। তবে এর নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণ সময়সূচি এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব মিশন শেষ হবে ২০৩২ সালের মধ্যে।
পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তিতে ‘ইউএসএসএফ-২০৬/ডব্লিউজিএস-১২’, ইউএসএসএফ-১৫৫’, ‘এনআরওএল-৮৬’, ইউএসএসএফ-১৪৯’ ও ‘ইউএসএসএফ-৬৩’ মিশনের দায়িত্ব পেয়েছে স্পেসএক্স। এসব মিশনের বেশিরভাগ মহাকাশযানের বিষয়টি গোপন রেখেছে তারা।
তবে ‘ব্রেকিং ডিফেন্স’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ‘ইউএসএসএফ-২০৬’ মিশনে নতুন এনক্রিপ্টেড সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট থাকতে পারে।
গত এক বছরে আমেরিকার রাজনীতিতে বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন মাস্ক। এরপরও স্পেস ফোর্সের অন্যতম নিয়মিত সহযোগী কোম্পানি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে স্পেসএক্স। এর বড় কারণ, কোম্পানির পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন ৯ ও হেভি বুস্টার রকেট। এসব রকেট ব্যবহার করে কম খরচে উৎক্ষেপণ সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের একমাত্র বড় সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ‘ব্লু অরিজিন’। তবে কোম্পানিটির নতুন রকেট নিউ গ্লেন এখনও ‘ন্যাশরাল সিকিউরিটি স্পেস লঞ্চ’ থেকে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন পায়নি। ফলে কোম্পানিটি নতুন কোনো চুক্তির জন্য এখনও যোগ্য নয়।