Published : 19 Aug 2025, 06:36 PM
অস্ট্রেলিয়ার দুই টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতাবিমুখ চুক্তির জন্য মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলকে তিন কোটি ৬০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এ জরিমানা দিতে রাজি হয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তা অধিকার সংস্থা বলেছে, দেশটির সবচেয়ে বড় দুই টেলিকম কোম্পানিকে অর্থ দিয়েছিল গুগল, যাতে ওইসব কোম্পানি তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আগে থেকেই কেবল গুগলের সার্চ অ্যাপ ইনস্টল করে রাখে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য ছিল না, যা বাজার প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এজন্য গুগলকে জরিমানা করেছে তারা।
এ জরিমানার ঘটনা গুগলের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় চলমান সমস্যার আরেকটি অংশ। গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট সম্প্রতি দেশটিতে বেশ কিছু আইনী জটিলতায় পড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
গত সপ্তাহেই গুগল ও অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ‘ফোর্টনাইট’ গেইম নির্মাতা কোম্পানি ‘এপিক গেইমস’। তাদের অভিযোগ, গুগল ও অ্যাপল ইচ্ছে করে অন্যান্য অ্যাপ স্টোর ব্যবহারে বাধা দিচ্ছে, যেন কেবল তাদের অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা হয়। এ মামলায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘এপিক গেইমস’-এর পক্ষেই রায় দিয়েছে আদালত।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেখানে গুগলের ইউটিউবকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটির সরকার।
শুরুতে ইউটিউবকে এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং ইউটিউবও নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসে।
অস্ট্রেলিয়ান দুই মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে গুগলের প্রতিযোগিতা বিরোধী চুক্তি নিয়ে সোমবার দেশটির ‘কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন’ বা এসিসিসি বলেছে, ‘টেলস্ট্রা’ ও ‘অপটাস’-এর সঙ্গে এমন এক চুক্তি ছিল, যেখানে এ দুই কোম্পানিকে সার্চ থেকে পাওয়া বিজ্ঞাপনের আয়ের একটা অংশ দিত গুগল। যারা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল সার্চ ব্যবহার করে সার্চ করতেন তাদের কাছ থেকে এ আয় আসত। এ চুক্তি চলেছিল ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে ২০২১ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত।
এসিসিসি আরও বলেছে, গুগল স্বীকার করেছে এ চুক্তি অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের জন্য বড় ক্ষতি করেছে, কারণ এতে বাজার প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গুগল আরও বলেছে, এখন থেকে এ ধরনের আর কোনও চুক্তি তারা করবে না এবং এ জরিমানা দিতেও রাজি হয়েছে মার্কিন কোম্পানিটি।
এসিসিসি’র প্রধান জিনা-ক্যাস গটলিব বলেছেন, “আজকের এ ফলাফল অর্থাৎ জরিমানা ও গুগলের স্বীকারোক্তির বিষয়টি ভবিষ্যতে লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীকে আরও বেশি সার্চ ইঞ্জিন থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীদের সামনে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগও তৈরি করবে।”
গুগল ও এসিসিসি একসঙ্গে মিলে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল কোর্টে প্রস্তাব দিয়েছে, মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি এ জরিমানা দেবে।
এসিসিসি আরও বলেছে, আদালত এখন সিদ্ধান্ত নেবে এই জরিমানা যথাযথ কি না। তবে গুগল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কারণে মামলাটি অনেক বড় বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পেল।
গুগলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এসিসিসি’র উদ্বেগের নানা বিষয় সমাধান করতে পেরে আনন্দিত তারা। এসব উদ্বেগের মধ্যে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যা ‘কিছুদিন ধরেই নিজেদের বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোতে আর রাখছে না’ কোম্পানিটি।
মুখপাত্র আরও বলেছেন, “অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস নির্মাতাদের জন্য ব্রাউজার ও বিভিন্ন সার্চ অ্যাপ আগে থেকে ইনস্টলের ব্যাপারে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা। একইসঙ্গে এমন ফিচার ও সুযোগও রাখবো, যা তাদের নতুন কিছু তৈরিতে অ্যাপলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে ও খরচ কম রাখতে সাহায্য করবে।”
এর আগে, এক বিবৃতিতে টেলস্ট্রার একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ বিষয়ে এসিসিসি’র সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছে টেলস্ট্রা ও সিঙ্গাপুর টেলিকমের মালিকানাধীন ‘অপটাস’। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, গুগলের সার্চ অ্যাপ আগে থেকেই ফোনে ইনস্টল করা নিয়ে গুগলের সঙ্গে চুক্তি ২০২৪ সাল থেকে আর করবে না তারা।