১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিএসইতে লেনদেন ছাড়াল ১১০০ কোটি টাকা

ডিএসইতে বস্ত্রখাতের লেনদেন সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু রোববার তা দেড়শ কোটিতে গিয়ে ঠেকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2025, 06:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

দেশের বড় পুঁজিবাজার— ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাস দুয়েক আগে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রয়েছে। 

রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রায় ১০ মাস পর সূচক ছাড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্ট। লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩৭ কোটি টাকায়।

এদিন সকাল থেকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকায় লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যেই সূচক সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে। আগের দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৪৪৩ পয়েন্ট।

শেষ বেলা পর্যন্ত কেনার প্রবণতা বেশি থাকায় দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৩৬ পয়েন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ৯২ পয়েন্ট বেশি।

এর আগে সবশেষ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি সূচক ছিল গত বছরের ১ অক্টোবর। সেদিন সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৮৬ পয়েন্টে। পরের দিনই অবশ্য তা সাড়ে ৫ হাজারের নিচে নেমে যায়।

টানা তিন মাস দর কষাকষি ও ‍তৃতীয় দফার বৈঠকের পর গত শুক্রবার বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এতদিন তা ১৫ শতাংশ ছিল। নতুন হারে বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে গড়ে ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। 

গত শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলোয় শেয়ার হাতবদল বেড়েছে। ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বাড়ে ৫৪ শতাংশের।

ডিএসইতে বস্ত্রখাতের লেনদেন সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু রোববার তা দেড়শ কোটিতে গিয়ে ঠেকে। 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর গত বছরের ১১ অগাস্ট সূচক ৬ হাজার ১৫ পয়েন্টে ওঠে। গত বছরের ১ অক্টোবর পর্যন্ত তা সাড়ে ৫ হাজারের ঘরেই থাকে। কিন্তু এরপর তা আর সাড়ে পাঁচ হাজারে ওঠেনি। 

রোববার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয় ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার। 

এদিন লেনদেনে আসা ৩৯৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার দর বাড়ে ২১৮টির; কমে ১২২টির; আর অপরিবর্তিত থাকে ৫৮টি কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনে প্রথম অবস্থানে উঠে আসা ব্যাংক খাতে হাতবদল হয় ২৮৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার।

এক সপ্তাহ ধরে ব্যাংক খাত ২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করছে, এটি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। সাধারণত ব্যাংক খাতের শেয়ার হাতবদল হয় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকায়।

বস্ত্রখাতে শেয়ার হাতবদল হয় ১৪৯ কোটি ৪১ লাখ টাকার; আর ওষুধ খাতে হয় ১২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার। 

দিন শেষে সবচেয়ে বেশি দর বাড়ে স্টান্ডার্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস ও মালেক স্পিনিংয়ের।

সবচেয়ে বেশি দড় হারায় এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, হামি (সাবেক ইমাম বাটন) ইন্ডাস্ট্রিজ ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স।