Published : 05 Apr 2026, 05:46 PM
নিম্নমুখী প্রবণতায় সপ্তাহের প্রথম দিনের লেনদেন শেষ করলো দেশের বড় পুঁজিবাজার— ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
রোববার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১২। আগের কর্মদিবসে (বৃহস্পতিবার) সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্ট।
এর আগে গত ২৪ মার্চ রোজার ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচক কমে ৬৮ পয়েন্ট।
ঈদের পর সবচেয়ে বেশি সূচক বেড়েছিল ১ এপ্রিল। সেদিন ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৭২।
রোববার সকালে লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল বেশি। ফলে প্রথম ঘণ্টায় সূচক কমে যায় ৬২ পয়েন্ট। এরপর কেনার চাপ কিছুটা বাড়লে যোগ হয় ১৬ পয়েন্ট।
কিন্তু আধা ঘণ্টা পর থেকে ফের শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার চাপ বাড়লে সূচক আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে লেনদেন শেষ হয় ১০৭ পয়েন্ট হারিয়ে।
সকাল ১০ টাকা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন চললেও জ্বালানী সাশ্রয়ী নীতির কারণে রোববার লেনদেন শেষ হয় আধা ঘণ্টা আগেই।
এদিন সূচকের পাশপাশি লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। আগের দিন শেয়ার হাতবদল হয় ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বোচ্চ ২৩১ পয়েন্ট সূচক পড়ে গত ৮ মার্চ।
এদিন ডিএসইতে ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। এর মধ্যে দাম বাড়ে ২৫টির, কমে ৩৫৪টির এবং আগের দরে লেনদেন করে ১১টি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও। জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে কোম্পানি নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবে না, এমন শঙ্কায় বাজারে সূচক কমছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের উপর যুদ্ধের প্রভাব পড়া শুরু করেছে। জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
“শেয়ার বিক্রি করা শুরু করেছেন কেউ কেউ। এতে বিক্রির চাপ বেড়ে গিয়ে সূচকের পতন ঘটছে।”
রোববার সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এর পরেই ছিল প্রকৌশল ও বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলো।
দিন শেষে সবচেয়ে বেশি দর বাড়ে রংপুর ফাউন্ডেরি, ড্যাফোডিল কম্পিউটার ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির। আর সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে নিউ লাইন ক্লোথিংস, ফ্যামিলি টেক্স ও জিএসপি ফাইন্যান্স।