Published : 10 Feb 2026, 04:54 PM
ভোটের আগ মুহূর্তে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৮২ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে।
আগের দিন এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৩১২ পয়েন্ট। সেদিন সূচক বেড়েছিল ৮৩ পয়েন্ট।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৪৯০০ থেকে ৫২৫০ পয়েন্টের আশাপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল। মাঝে গেল ১৫ জানুয়ারি একদিনে ৭৬ পয়েন্ট বেড়েছিল।
আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তার আগের দিনকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় মঙ্গলবারই ছিল ভোটের আগে শেষ কর্মদিবস।
ভোটের পর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পুঁজিবাজারসহ ব্যাংক, বিমা ও সরকারি দপ্তর খুলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তার আগের দিন ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্ট। সেই হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সূচক এগোল ১৭০ পয়েন্ট।
এসময়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৩ হাজার ৫৩২ পয়েন্ট। দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।
আগের দিনের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ঢাকার পুঁজবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। দিনভর টানা চেষ্টায় সূচক মাঝখানে থেমেছিল দুবার।
বেলা ১১টায় সূচক ওঠে ৫ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে। এরপর বিক্রির চাপে কিছুটা দম নিয়ে ফের সূচক বাড়ে বেলা ১টায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকায়নি প্রধান সূচক।
কেনার চাপে লেনদেন শেষ করায় বাজারে অংশ নেওয়া ৩৯২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার দর বাড়ে ২৮৮টির, কমে যায় ৬৭টির ও আগের দরে হাতবদল হয় ৩৭টির।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৭৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকার। আগের দিন লেনদেন হয় ৬৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার।
এর আগে কাছাকাছি সময়ে সবশেষ গত ৭ অক্টোবর ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৭৮৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মোট লেনদেনে ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ১৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবদান রাখে ব্যাংক খাত।
এর পরের অবস্থান বস্ত্রখাতের, লেনদেন হয় ১১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার এবং ১১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার লেনদেন করে তৃতীয় অবস্থান হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতের।
দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় ডিএসইতে শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে আসে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।
সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ স্থান ছুয়ে অর্থাৎ শেয়ার দর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সবশেষ লেনদেন করে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায়। আগের দিন শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৬ টাকা।
এর পরের অবস্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর বাড়ে সাড়ে ৯ শতাংশের উপরে।
অন্যদিকে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় শেয়ার দর হারানোর শীর্ষে চলে আসে কেয়া কসমেটিকস, ন্যাশনাল ফিড মিল ও আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড।